অপরাহ্ণ ০৭:৪৩
সোমবার
১ই বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাঁচ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে টিকা দেয়া হবে বিভাগের পাঁচ জেলায় হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু


sohel প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৬, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ন /
পাঁচ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে টিকা দেয়া হবে  বিভাগের পাঁচ জেলায় হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু

আমাদের জন্মভুমি ডেক্স
রাজশাহী বিভাগের পাঁচ জেলায় শিশুদের জন্য তিন সপ্তাহব্যাপী বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তুলনামূলক বেশি সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলা পাঁচটি হলো রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, পাবনা।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, বিশেষ এ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় মোট ৫৬ হাজার ৬০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রথম দিনে ২৭টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। এদিন ৫ হাজার ৬০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, টিকাদানকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে এবং সুশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। অভিভাবকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিশুদের কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। টিকা নিতে মানুষের মধ্যে অনীহা দেখা যায়নি বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম বলেন, ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এ টিকা দেওয়া হবে। প্রথম দিনে গোদাগাড়ী উপজেলায় ৫ হাজার ৬৫০ জন এবং পৌর এলাকায় ৬২৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব শিশু অন্তত ২৮ দিন আগে টিকা নিয়েছে, তাদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আবার টিকা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে জেলায় প্রায় ৪০ হাজার শিশুর মধ্যে এ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
আগামী তিন সপ্তাহ প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হাম প্রতিরোধে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ এ টিকাদান কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এজন্য অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহীর স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাদাত রত্ন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম।

নওগাঁয় জাতীয় হাম-রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকালে জেলার পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। ক্যম্পেইনে ৬ মাস বয়স থেকে ৫৯ মাস বয়সের শিশুদের হাম রুবেলার এক ডোজ টিকা প্রদান করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো: আমিনুল ইসলাম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুনির আলী আকন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামলী বর্মন, পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বক্তব্য রাখেন।
এসময় স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, সম্প্রতি শিশুদের মাঝে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী দেখা দেয়ায় পোরশা উপজেলায় বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। এছাড়া সকল পর্যায়ে সচেতনতা গড়ে তোলা হচ্ছে। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বেশী আক্রান্ত এলাকাগুলোতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া টিকার পাশাপাশি ভিটামিন এ গ্রহনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
পর্যাপ্ত টিকা মজুত আছে বলেও জানান কর্মকর্তাগন। অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন জানান, আক্রান্তের হার বেশি হওয়ায় পোরশা উপজেলাকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ উপজেলার জন্য ১৮ হাজার ভায়েল এসেছে। যা থেকে ১৭ হাজারের বেশি ৫-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে আগামী ঈদুল আযহা পর্যন্ত। জেলায় এ পর্যন্ত ১২৫ জন শিশুর হামের উপসর্গ রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০ জন হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। যাদের বয়স ৫ থেকে ১০ মাস। পরবর্তীতে জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম চলবে বলেও জানান তিনি।
পাবনায় রোগ হাম প্রতিরোধে শুরু হয়েছে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। রোববার সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জান চৌধুরী এ টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জরুরি এ কর্মসূচির আওতায় জেলার সদর, আটঘরিয়া, বেড়া ও ঈশ্বরদী উপজেলার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৬৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ রয়েছে। এ উপজেলার দোগাছি ও হেমায়েতপুর ইউনিয়নে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্য জেলার মধ্যে নাটোর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও ভোলাহাটে টিকা দেয়া হচ্ছে।