অপরাহ্ণ ১০:৩৬
শুক্রবার
৪ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙন: সরজমিনে ইউএনও ইসরাত জাহান ও ব্যারিস্টার মিলন


sohel প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ন /
​গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙন: সরজমিনে ইউএনও ইসরাত জাহান ও ব্যারিস্টার মিলন

রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করে নদীভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে এলাকার শত শত একর ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় ভাঙন পরিস্থিতি সরজমিনে পরিদর্শনে যান গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান। পরিদর্শকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইন সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। তাঁরা পৌর এলাকার কুঠিপাড়া, সারাংপুর ও সুলতানগঞ্জসহ ভাঙনকবলিত বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখেন।
​পরিদর্শনকালে ইউএনও ও ব্যারিস্টার মিলন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন। এ সময় ভুক্তভোগীরা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।
​কুঠিপাড়া এলাকার আতংকগ্রস্ত বাসিন্দা আফজাল সরকার নিজের দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে বলেন, “পদ্মা নদী যেভাবে দ্রুত এগোচ্ছে, তাতে আমরা চরম আতঙ্কে আছি। শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে গেলে পরিবার নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব—সেই চিন্তায় ঘুম আসছে না।” তাঁর মতো শত শত পরিবার এখন ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় প্র প্রহর গুনছেন।
​ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, “গোদাগাড়ী পৌর এলাকার এ নদীভাঙন পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
​এ সময় ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলেন, স্থায়ী সমাধান না হলে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা কঠিন। তাই নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরার আশ্বাস দেন তিনি।
​এদিকে স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত পয়েন্টগুলোতে জিও ব্যাগ ফেলা না হলে এবং দ্রুত স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা না গেলে গোদাগাড়ী পৌরসভার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম ও স্থাপনা পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

2

2