

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা ভূমি অফিসে বহিরাগত ভাড়াটে লোক দিয়ে দাপ্তরিক কাজ করানো এবং সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে এক সাংবাদিককে অনৈতিকভাবে অর্থ সাধার অভিযোগও পাওয়া গেছে। সবশেষে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের নির্দেশে অভিযুক্ত এক কর্মকর্তা ও এক কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় ও সেবাগ্রহীতাদের সূত্রে জানা যায়, মোহনপুর ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দাপ্তরিক নথি নাড়াচাড়া ও নামজারির (মিউটেশন) মতো স্পর্শকাতর কাজ করে আসছিল বেশ কিছু ভাড়াটে লোক বা বহিরাগত দালাল। বিনিময়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হাতিয়ে নেওয়া হতো মোট অঙ্কের টাকা।
সম্প্রতি বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তোলপাড় শুরু হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিবেদনটি প্রচার বা প্রকাশ বন্ধ করতে স্থানীয় এক সাংবাদিককে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। তবে সাংবাদিক সেই ঘুষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অনিয়মের চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরেন।
সংবাদ প্রকাশের পর রাজশাহী জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মেলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারি কাজে বহিরাগতদের যুক্ত করা এবং ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বরখাস্তকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে চূড়ান্ত বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :