[msabcd_bangla_calendar display_view=”modern” format=”time_date_weekday” show_time=”1″ show_suffix=”1″ timezone=”Asia/Dhaka” color_primary=”#0073aa” color_bg=”#f8f9fa” font_size=”16px” border_radius=”10px”]

দিঘলিয়ার গাজিরহাটে অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন


sohel প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৭, ২০২৬, ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন /
দিঘলিয়ার গাজিরহাটে অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার খুলনা

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলার ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর গাজিরহাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে গাজিরহাটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে সমাবেশ থেকে গাজিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা গাজীর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী হামিদপুর ইউনিয়নের ইসরাইল মোল্লার নেতৃত্বে প্রায় ৪০ জনের একটি দল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাজিরহাট কাঁঠালতলা ঈদগাহ মাঠের সামনে সাব্বির মোল্লার দোকানে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় রিপন মোল্লা, শরিফুল মোল্লা, সোহাগ শেখ, সাব্বির মোল্লা, হারুন, ইমরুল, জামাল মীর ও তাইজ শেখসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা দোকানে থাকা সরকার নির্ধারিত ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির দুই লাখ টাকারও বেশি অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।
হামলায় আহতদের মধ্যে মিজায় মুন্সির ছেলে সাব্বির মুন্সি ও মুত্তাহীন মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর গাজিরহাট বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনা জেলা পুলিশের এক প্লাটুন সদস্য, স্থানীয় থানা ও ফাঁড়ির অতিরিক্ত পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি বলে জানা গেছে।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাজিরহাটে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিরীহ কাউকে হয়রানি না করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গাজিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুকিত মীর, দপ্তর সম্পাদক মো. মাছরুল সিকদার, মহাসিন শিকদার, রোকা গাজী, বখতিয়ার শিকদার, জনি মোল্লা, টিংকু ভূঁইয়া, মোরসালিন শেখসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।
বাদশা গাজীর মুক্তির দাবি
সমাবেশ থেকে গাজিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা গাজীর মুক্তির দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। বক্তারা তাকে ‘মিথ্যা মামলায়’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবি করে দ্রুত তার মুক্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৪ আগস্ট) সৈয়দ রাছেল আলী বাদী হয়ে বাদশা গাজীকে প্রধান আসামি করে মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে দিঘলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ৪৪৮, ৩০৭, ৩২৩, ৩৭৯, ৪২৭, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ৯।
মামলায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক নম্বর, দুই নম্বর ও পাঁচ নম্বর আসামি—মো. বাদশাহ গাজী (৪২), মো. আকবর গাজী (৪৬) ও শরিফুল ইসলাম খুলনার বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একই দিনে হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা
আসামিদের কারাগারে পাঠানোর দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজিরহাটে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে হামলার সঙ্গে দায়ের করা মামলা কিংবা আসামিদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা আরও বড় কোনো সংঘাতের দিকে না গড়ায় সে জন্য এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িতদের পরিচয় এবং অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Bangla Photocard Generatorv3.7

2

2