পূর্বাহ্ণ ১২:৪৭
বৃহস্পতিবার
৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ নয়, পবা- মোহনপুরকে মডেল হিসাবে গড়ার অঙ্গীকার; এমপি মিলনের


sohel প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ন /
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ নয়, পবা-  মোহনপুরকে মডেল হিসাবে গড়ার অঙ্গীকার; এমপি মিলনের

রতন, মোহনপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর পবা-মোহনপুরকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয়করণ না করার অঙ্গীকার করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ২১শে জুলাই বিকালে মোহনপুর উপজেলা চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ এবং এমপি মিলনকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মিলন স্পষ্টভাবে জানান, এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শূন্য পদগুলোতে কোনো ধরনের দলীয়করণ করা হবে না। আসন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। দলের পক্ষ থেকে একজনকে সমর্থন দেওয়া হবে এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সকল নেতাকর্মীকে ভেদাভেদ ভুলে সেই একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে। যেকোনো আন্দোলন বা নির্বাচনে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করারও নির্দেশ দেন তিনি।
জাতীয় সংসদে রাজশাহীর কৃষকদের অধিকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পবাকে একটি মডেল বা আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। রাজশাহীর পানের ভাইরাসের সমাধান ও কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একটি কার্গো বিমানবন্দর চালু করার দাবি ইতিমধ্যে সংসদে তোলা হয়েছে।
কৃষকদের উন্নয়নের জন্য তিনি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন কৃষকদের বীজ সংরক্ষণের জন্য স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণ করা হবে। আধুনিক সেচ সুবিধার জন্য খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, যার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে এমপি মিলন বাংলাদেশের মানুষের জাতীয়তাবাদ, আত্মপরিচয় এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। পবা-মোহনপুরের মানুষের প্রাণঢালা ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে তিনি নিজেকে সমর্পণ করেছেন। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
অনুষ্ঠানে মোহনপুর উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী ও কর্মীদের সরব এবং স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়, যা অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমন, নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র মকবুল হোসেন, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের, কৃষক দলের আহবায়ক গোলাম মোস্তফা বাবলু, সাধারণ সম্পাদক এস এম মতিউর রহমান, উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি রামকৃষ্ণ কুমার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডাবলু সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ আলম শিমুল ও হাতেম আলী, শ্রমিক দলের সভাপতি মোজাম্মেল হক ও সদস্য সচিব আব্দুল করিম মণ্ডল, উপজেলা মহিলা দলের আহবায়ক মৌটুসি সুলতানা রুমা, যুগ্ম আহবায়ক বেলী খাতুন, ও সদস্য সচিব ববিতা খাতুন, যুবনেতা মির্জা শওকত ও নাহিদ পারভেজ হিমু, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান রুবেল ও শাকিবুল হাসান লিটন। এছাড়াও ধুরইল, মৌগাছি, বাকশিমইল, জাহানাবাদ, রায়ঘাটি, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন এবং কেশরহাট পৌর বিএনপিসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।