

এম রাসেল সরকার:- বিশেষ প্রতিবেদক
৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ; অর্থ না পেয়ে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের দাবি, আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
রাজধানীতে একটি কথিত সংবাদমাধ্যমের আড়ালে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি ও সাইবার ব্ল্যাকমেইলিং চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কিছু অনলাইন পোর্টাল ও নামসর্বস্ব পত্রিকার পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে চাঁদা দাবি করছে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ‘আমাদের মাতৃভূমি’, ‘দুর্নীতির ডায়েরি’ ও ‘ভোরের আওয়ারা’ নামের কিছু গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি এই অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়ালের অভিযোগ
ভুক্তভোগী হিসেবে সামনে এসেছেন মেসার্স সাইমন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সরকারের প্রথম শ্রেণির অনুমোদিত ঠিকাদার খন্দকার আব্দুল আউয়াল (সাইমন)।
তার অভিযোগ, দৈনিক “আমাদের মাতৃভূমি”-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক পরিচয়দানকারী মেছমাউল আলম (মোহন) তার কাছে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দেওয়ায় গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে ওই পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
আব্দুল আউয়াল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সততা ও সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছি। কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল আমাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা এবং চাঁদা দিতে বাধ্য করা। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
পূর্বেও একই ধরনের অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর একটি ড্রেজিং প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ-এর কাছ থেকেও অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছিল। সে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ এবং সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে (CPC) অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশ ও আইনি পদক্ষেপ
ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়ালের পক্ষে ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন মিলন-এর মাধ্যমে দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি-এর সম্পাদক খাদিজা আক্তার পূর্ণী এবং ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মেছমাউল আলম (মোহন)-এর কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে সাত দিনের মধ্যে—
প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার,
একই গুরুত্বে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা,
সংশোধনী প্রকাশ,
উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং
ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার লিখিত নিশ্চয়তা
দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির মানহানি-সংক্রান্ত বিধান এবং প্রযোজ্য সাইবার আইনের আওতায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিইউজে নেতাদের প্রতিক্রিয়া
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) কয়েকজন নেতা এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলিং বা চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকেন, তবে তা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাদের মতে, ভুক্তভোগীদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকলে বিষয়টি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে উপস্থাপন করা উচিত, যাতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
ধারাবাহিক অনুসন্ধান
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল দাবি করেছেন, তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ বিষয়ে আরও তথ্য, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হবে।
> সম্পাদকের নোট: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য ও প্রাপ্ত নথির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :