

স্টাফ রিপোর্টার:
দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। রোগী মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকদের ওপর হামলা বা দোষারোপের ঘটনাও নতুন নয়। তবে চিকিৎসকদের যে পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে, সেই বাস্তবতা কতটা ভয়াবহ হতে পারে—তারই এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত Marks Medical College ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগে।
কলেজটিতে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত “অত্যাধুনিক” মেডিকেল কলেজ হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব অবস্থা নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, কলেজটির শিক্ষাব্যবস্থা, হাসপাতাল সুবিধা এবং একাডেমিক পরিবেশ নিয়ে রয়েছে গুরুতর সংকট।
অভিযোগে বলা হয়, একটি মেডিকেল কলেজে প্রতিটি বিভাগে প্রয়োজন হয় একাধিক অভিজ্ঞ শিক্ষক, প্র্যাক্টিসিং সার্জন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ভাষ্যমতে, পুরো ক্যাম্পাসে কার্যত সার্জন রয়েছেন মাত্র একজন। অধিকাংশ ক্লাস পরিচালনা করছেন সদ্য পাস করা বা অনভিজ্ঞ লেকচারাররা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা “তেল মারার সংস্কৃতি” না থাকলে শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও মানসিক চাপ বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মেডিকেল শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা বা “হ্যান্ডস অন” প্রশিক্ষণ। কিন্তু অভিযোগকারীরা জানান, কলেজের অধীনস্থ ৩৫০ শয্যার হাসপাতাল বাস্তবে অনেকাংশে অকার্যকর। রোগী সংকটের কারণে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীরাও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয় না। ব্যয় কমাতে সীমিত জনবল দিয়েই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফলে মেডিকেল শিক্ষার মৌলিক মান নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
এছাড়া কলেজের ক্যান্টিনে তেমন স্বাস্থ্যকর খাবার নেই, বাথরুম ও আবাসন ব্যবস্থার অবস্থাও নাজুক বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের অভাব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ শৌচাগারের এবং ভাঙাচোরা অবকাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে Ministry of Health and Family Welfare বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পর মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা কলেজটি পরিদর্শন করেছেন এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিকের সত্যতা পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
তবে এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কলেজের ওয়েবসাইটে থাকা নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ফোন কল রিসিভ হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম ও মানহীনতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। কারণ আজকের মেডিকেল শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের চিকিৎসক।
আপনার মতামত লিখুন :