

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেঙে সংশ্লিষ্টদের অপসারণ, বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই দাবিতে মানববন্ধনও করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ভৃমিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ও রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং রামেক হাসপাতালের পরিচালকের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, প্রায় ১৭ বছর যাবত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের গড়া এই সিন্ডিকেট হাসপাতাল কেন্দ্রিক একটি চক্র টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য, গ্যারেজ ও অ্যাম্বুলেন্স/মাইক্রোবাস পরিচালনায় অনিয়ম এবং সরকারি ওষুধ বাণিজ্যসহ নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এর ফলে সাধারণ ঠিকাদাররা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছেন না এবং রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এর আগে গত (১৩ এপ্রিল) মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে রাজশাহী বাসী ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা একই অভিযোগ তুলে ধরেন।
তারা বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে রোগী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের জিম্মি করে রেখেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হাসানুল হাছিব, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ আবু তালেব এবং পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এস.এম. রাশিদুস সালেকিন (সুমন)-এর নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
তাদের দাবি, চক্রটি বর্তমান সরকারকে বিব্রত করতে এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে অস্থিরতা তৈরি করতে সক্রিয় রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, সম্প্রতি শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট চক্র হাসপাতালের সুনাম রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, বরং বর্তমান পরিচালকের কাজে অসহযোগিতা করছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পিএ সুমনের নেতৃত্বে ওয়ার্ড মাস্টার রাসেল, এস এম মোশারফ হোসেন, শহিদুল ইসলাম, জামাদার মোজাহার,জামাদার আলিম সহ ১৫-২০ জন কর্মচারীর একটি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
ওয়ার্ড মাস্টার শহিদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ব্যবহারে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
অনিয়মের সাথে অরও জড়িত উপ-পরিচালক ডা. হাসানুল হাছিব, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব, পিএ রাশিদুস সালেকিন সুমন। মূলত এরাই এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা পরিচালনাকারী ও মাস্টার মাইন্ড। তাদের বিরুদ্ধে একাধীক স্থানীয় পত্রিকা, জাতীয় পত্রিকা ও অর্ধশত অনলাইন নিউজপোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তাদের তারা রয়েছেন বহাল তবিয়্যতে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, রামেক সংশ্লিষ্ট বক্তব্য জানতে হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
তবে রামেক হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্মারকলিপিতে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ সময় স্মারকলিপি প্রদানে উপস্থিত ছিলেন, বিটিসি নিউজের চেয়ারম্যান আনোয়ার আক্তার কাজল, রাজপাড়া থানা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মর্তুজা, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনার রশিদ, সাবেক সহ সভাপতি জেলা যুবদল ও সদস্য রাজপাড়া থানা বিএনপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম, বিটিসি নিউজ এর সম্পাদক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান রেজা, বিটিসি নিউজ এর ডেপুটি সম্পাদক প্রতিনিধি জি, এম হাসান-ই-সালাম (বাবুল), রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজপাড়া থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি নেতা আলমগীর, রতন, খসরু, সাংবাদিক বিশাল, লিটন, রানা, টনি সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। #
আপনার মতামত লিখুন :