জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, লাখো মানুষের আত্মত্যাগ আর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বিসর্জনের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ। অথচ সেই মুক্তিযুদ্ধের বীরদের স্মৃতিচিহ্নই আজ অবমাননার শিকার!
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সংরক্ষিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অর্ধনির্মিত ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে ভাস্কর্যের মাথায় জুতার মালা ঝোলানো অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে লোক পাঠিয়ে ভাস্কর্য থেকে জুতার মালাটি অপসারণ করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—কারা এতটা ঔদ্ধত্য দেখাল? কেন তারা মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর শহীদের স্মৃতিকে অপমান করার সাহস পেল?
এটি নিছক একটি ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানরা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে আমাদের জন্য স্বাধীন ভূখণ্ড এনে দিয়েছেন। আজ সেই স্বাধীন দেশের মাটিতেই যদি তাঁদের স্মৃতিচিহ্ন অপমানিত হয়, যদি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ও ভাস্কর্য ধ্বংস বা অবমাননার শিকার হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—আমরা কি আমাদের ইতিহাস রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছি?
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কিন্তু অজ্ঞাত থাকার সুযোগে যেন বিষয়টি চাপা পড়ে না যায়। ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছে, কী উদ্দেশ্যে ঘটিয়েছে এবং এর পেছনে কারও পরিকল্পনা ছিল কি না—তা দ্রুত তদন্ত করে বের করা জরুরি।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তিও নয়। এগুলো বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা জাতীয় সম্পদ। তাই এগুলোর অবমাননা হলে শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করলেই হবে না—দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
আজ বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্যে জুতার মালা, কাল যদি আরেকটি স্মৃতিচিহ্ন ভেঙে ফেলা হয়—তখন কি আমরা শুধু ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ করব?
ইতিহাসকে অবমাননার সুযোগ দিলে একদিন ইতিহাসের স্মৃতিই মুছে ফেলার চেষ্টা হবে।
তাই এখনই সময় কঠোর হওয়ার।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করুন।
জড়িতদের শনাক্ত করুন।
এবং প্রমাণিত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন।
কারণ মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে অর্জিত এই দেশের ইতিহাসকে অপমান করার অধিকার কারও নেই।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.