
এনামুল কবীর এনাম বদলগাছী সংবাদাতা নওগাঁ।
নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার টি (সোমপুরবিহার)নামে প্রতিয়মান,পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব কর্তৃক অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকের শুরুতেই নির্মিতকরেন। বিহারটি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের মালঞ্চা মৌজা পাহাড়পুর গ্রামেই অবস্থিত। জয়পুরহাট হতে দক্ষিণে প্রায় ৪ কিলোমিটার।
জানা যায় ১৯৮৫ সালে দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায়, ইউনেস্কো প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করেন এবং এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন।
১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই বিশাল প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি আবিষ্কার করেন।. ১৯২৩ সাল থেকে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের উদ্যোগে এখানে নিয়মিত খনন শুরু হয়, এবং সমগ্র বিহারের কাঠামোটি উন্মোচিত হয়.।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের স্থাপত্যশৈলী প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের স্থাপত্যের এক অনন্য এবং যুগান্তকারী নিদর্শন। ভূমি পরিকল্পনা ও বহুধাপবিশিষ্ট নকশায় পরিপূর্ণ। পরবর্তীকালে নির্মিত সকল স্থাপত্যকে অনেকটা প্রভাবিত করেছে। বিহার প্রাঙ্গণের ঠিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রয়েছে সুউচ্চ মন্দিরটি উক্ত স্থাপত্যের প্রধান আকর্ষণ। চারদিকে সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য মোট ১৭৭টি কক্ষ রয়েছে। উত্তর বাহুতে ৪৫টি এবং বাঁকি তিন বাহুতে ৪৪টি করে কক্ষ আছে। প্রতিটি কক্ষের সামনে একটি সাধারণ টানা বারান্দা রয়েছে।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের (সোমপুর মহাবিহার) শিল্পকর্ম প্রাচীন বাংলার লোকশিল্প এবং ধর্মীয় সংস্কৃতির এক অপূর্ব ও সমৃদ্ধ দলিল। দেয়ালজুড়ে থাকা হাজার হাজার পোড়ামাটির ফলক বিশ্বজুড়ে প্রাচীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির ধারক হিসেবে বিশেষভাবে খ্যাত। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে প্রতি বছরের পর বছর গড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন, যার মধ্যে ১৫০০ জনই বিদেশি। প্রাচীন বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্যের এবং সংস্কৃতির জগতের অন্যতম বৃহৎ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি হচ্ছে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, যাহা নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার উত্তরে ১১ কিলো দুরে অবস্থিত। সাংস্কৃতিক জগতের উন্নতম স্হান হলেও সেখানে নেই কোন সংগীত বিদ্যালয়,নেই সংস্কৃতি চর্চার সংস্কৃতির বিদ্যালয় বা কোন অডিটোরিয়াম হল।গ্রাম বাংলার যাএা পালার সংগঠন পাহাড় পুর বুড়িগঞ্জ নাট্যশিল্পি গুষ্টি সংগঠন থাকলে দেওয়া হয়না বিহার স্হলে চর্চার সুযোগ। চলুন আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের এই বৃহৎ ঐতিহ্যকে এবং ইতিহাসকে সংরক্ষণ করি।
বিহারটি পূর্বে প্রবেশ গেট,দক্ষিণে দ্বিতীয় গেট, ভিতরে রয়েছে সত্য পিরের ভিটা, ভিতরে যাদুঘরের পশ্চিমে রয়েছে মৃত্যু অনুসরণ অনুধাবনের জন্য পাবলিক মসলিম কবরস্থান। ফুলের সমাহার ফুল বাগান।
বিহারের উত্তর পার্শ্বে তৈরি হচ্ছে আধুনিক বিশ্বের ন্যায় মহাসড়ক ঐতিহ্যবাহী গেট,কত টাকা ব্যায় সরকারি বরাদ্দ বিহার গেটে জানতে চাইলে কাষ্টডিয়ান কর্মকর্তা বলে নাই ।তবে তিনি বিহার টির রুপ রেখা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে এগিয়ে নিতে জয়পুরহাট পাচোর মোর হতে পাহাড় পুর প্রর্যন্ত রাস্তা প্রসস্ত করতে জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে পএ দিয়েছেন।বিহারের দক্ষিণে পাহাড় পুর বাজার থেকে ১ নং গেট প্রর্যন্ত রাস্তা টি প্রসস্ত করনের আবেদন করেছেন। বিহারের পুর্ব দক্ষিণে গেট সংলগ্ন সন্ধ্যাবতীর ঘাট রয়েছে। যাহা ৩.৬০ মিটার চওড়া,ইট ও চুনাপাথর দিয়ে নির্মিত।১২.৪০ মিটার গভীর, ততকালীন রাজার কুমারী কণ্যা ঘাটে স্নান করতেন।একদিন অলৌকিক ভাবে ভেসে আসা ফুলের গন্ধ সঙ্গে গর্ভবতী হন, এবং সত্য পির কে জন্ম দেন।আজও সেই বিহারে সত্য পিরের ভিটা দৃশ্যমান রয়েছে ।পরবর্তীতে সেই ঘাটে সন্ন্যাসীরা স্ন্যান করতেন।কিন্তু অযন্তে সংস্কারের অভাবে স্ন্যান ঘাটটি বিলুপ্তির পথে।স্হানীয় স্বচেতন সহ বদলগাছী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকগন উক্ত ইতিহাস জনিত ঘাট ১২,৪০ মিটার গভীর পুকুরের সংস্কার করলে ইতিহাস ঐতিহ্য দৃশ্যমান থাকবে।সেই সাথে বুদ্ধ বিহার দেখতে আসা মসলিম সমাজ শরণার্থীদের নামাজ ও প্রার্থনার জন্য আধুনিক দৃশ্যমান একটি মসজিদ স্থাপনের দাবি করেন, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সাংবাদিক সমাজ সহ উপজেলা স্বচেতন মহল রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধি গন।
এনামুল কবিরের এনাম বদলগাছী নওগাঁ।
আপনার মতামত লিখুন :