

জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজারে ১০৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌরসভা পরিচালিত দাতব্য চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। শতবর্ষের এই মানবিক প্রতিষ্ঠানটি আবারও দরিদ্র, অসহায়, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবায় ফিরে আসার উদ্যোগে পুরাণবাজারবাসীর মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
চাঁদপুরের সন্তান এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে পুরাণবাজারের সাধারণ মানুষ, নিম্নআয়ের পরিবার ও অসহায় মানুষের জন্য এটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক সংবাদ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর উদ্যোগকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।
দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মাত্র ২ টাকার বিনিময়ে চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে আসছিল এই দাতব্য চিকিৎসালয়। হাজারো দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠানটি ছিল চিকিৎসাসেবার অন্যতম নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। কিন্তু প্রায় দুই বছর ধরে চিকিৎসালয়টি বন্ধ থাকায় অসংখ্য অসহায়, দিনমজুর ও স্বল্পআয়ের মানুষ সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
১০৫ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এমন একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়; এটি পুরাণবাজারের মানুষের ইতিহাস, মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনসেবার এক উজ্জ্বল স্মারক। তাই দীর্ঘদিন পর প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে পুরাণবাজারের সাধারণ মানুষের জন্য একটি সুখবর।
চাঁদপুরের গর্বিত সন্তান ও মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক মহোদয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে চাঁদপুরবাসী গর্ব অনুভব করে। সেই আস্থার জায়গা থেকেই পুরাণবাজারবাসীর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করায় পুরাণবাজারের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা, সদিচ্ছা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ১০৫ বছরের এই জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানটি আবারও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। এর মাধ্যমে হাজারো অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ ফিরে পাবেন।
পুরাণবাজারের শতবর্ষের মানবিকতার প্রতীক এই দাতব্য চিকিৎসালয়ের দরজা আবার খুলবে—এ যেন শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের পুনরায় চালু হওয়া নয়, বরং দরিদ্র মানুষের আশার একটি পুরোনো দ্বার নতুন করে খুলে যাওয়া।
পুরাণবাজারবাসীর প্রত্যাশা—এই ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসালয়টি নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে এবং ভবিষ্যতেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবায় তার মানবিক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে
আপনার মতামত লিখুন :