[msabcd_bangla_calendar display_view=”modern” format=”time_date_weekday” show_time=”1″ show_suffix=”1″ timezone=”Asia/Dhaka” color_primary=”#0073aa” color_bg=”#f8f9fa” font_size=”16px” border_radius=”10px”]

চারবার মরতে মরতেও বেঁচে এখন নিঃস্ব জাহেরা, পদ্মা কেড়ে নিল স্বামী-সন্তানকে


sohel প্রকাশের সময় : জুলাই ৩১, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন /
চারবার মরতে মরতেও বেঁচে এখন নিঃস্ব জাহেরা, পদ্মা কেড়ে নিল স্বামী-সন্তানকে

নিজস্ব সংবাদদাতা

পদ্মা নদীর উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গেই কেটেছে জাহেরা বেগমের ৫৫ বছরের জীবন। এই নদীকে ঘিরেই ছিল তার সংসার, স্বপ্ন, আর বেঁচে থাকার লড়াই। কিন্তু সেই নদীই যে শেষ পর্যন্ত তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়াবে, তা ভাবতেও পারেননি তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে মাঝপদ্মায় ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির পর আগের তিনবারের মতো এবারও প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন জাহেরা। এটি ছিল তার জীবনে চতুর্থবারের মতো নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা। সাঁতার জানা থাকায় প্রতিবারই ঢেউয়ের সাথে লড়াই করে তীরে ফিরেছেন।

জাহেরা জানান, ‘এর আগেও পটলের নৌকাসহ তিনবার গাঙে ডুব্যাছি, মরতে মরতে বাঁচিছি। এবারও সাঁতার কেটে বাঁচনু, কিন্তু নিজের চোখে স্বামী আর ব্যাটার ডুবে যাওয়া দেখনু। খোদা আমারে না নিয়ে তাদের ক্যানে নিল?’

এবার জাহেরা বেঁচে ফিরলেও ফিরতে পারেননি তার স্বামী কাওসার আলী (৬০) ও ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (৩০)। তারা দুজনেই তলিয়ে গেছেন পদ্মার অতল গহ্বরে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুঘাট এলাকায় জাহেরা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বামী আর শ্বশুরকে একসাথে হারিয়ে পাথর হয়ে বসে আছে জিয়ারুলের স্ত্রী সায়েরা খাতুন। তাকে জড়িয়ে ধরে স্বজনেরা কাঁদছেন। বাবা আর দাদাকে হারিয়ে অবুঝ দুই সন্তান তামিম (১১) ও তাসমিরা (৭) যেন কথা বলাই ভুলে গেছে।

বছরদশেক আগে ভারতীয় সীমান্ত লাগোয়া চর খিদিরপুর গ্রামে ছিল তাদের আদি বসতভিটা। পদ্মা নদী সেই বাড়ি গ্রাস করলে তারা নিঃস্ব হয়ে এই পারে চলে আসেন। জমিজমা হারালেও নদীকে ছাড়তে পারেননি তারা। পানের বরজে ঝাউগাছের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে চরের ঝাউগাছ কেটে চারঘাটের টাঙনে বিক্রি করেই চলতো তাদের সংসার।

বছরখানেক আগে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা কেনেন কাওসার আলী। প্রতি সপ্তাহে আড়াই হাজার টাকা কিস্তি শোধ করতে হতো।

মঙ্গলবার দুপুরে সেই নৌকাটিতে করে জাহেরা, তার স্বামী ও ছেলেসহ কয়েকজন চরে ঝাউগাছ কেটে ফিরছিলেন। কিন্তু রাজশাহীর বড়কুঠির সামনে মাঝনদীতে আকস্মিক দমকা বাতাসে নদী উত্তাল হয়ে ওঠে এবং নৌকাটি ডুবে যায়। জাহেরাসহ ছয়জন সাঁতরে ও অন্য নৌকার সহায়তায় বাঁচলেও কাওসার ও জিয়ারুল তলিয়ে যান।

ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপপরিচালক মনজিল হক জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে তাদের তৎপরতা চলছে। রাজশাহী থেকে শুরু করে কুষ্টিয়া পর্যন্ত পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে ফায়ার সার্ভিসের টিম কড়া নজরদারি রাখছে। কোথাও লা*শ ভেসে ওঠার খবর পাওয়া মাত্রই তা উদ্ধার করে দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

 

Bangla Photocard Generatorv3.7