

(নাটোর)প্রতিনিধি:সরকার ঘোষিত ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা প্রতি মাসে প্রদান এবং মৌসুমী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণের দাবিতে নর্থবেঙ্গল সুগার মিল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে এক ফটক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০ জুলাই (সোমবার) সকাল ১০টায় সুগার মিলের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে দাবি আদায়ে বিক্ষোভ মিছিলসহ তিন দিনব্যাপী ধাপে ধাপে কর্মবিরতির টানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক নেতারা।নর্থবেঙ্গল সুগার মিল শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মমিনুল ইসলাম মানিকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।”১৮ বছরে চারবার স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়া স্থগিত”বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মৌসুমী ও চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ বিগত ১৮ বছরে মৌসুমী জনবল স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া অন্তত চারবার স্থগিত করা হয়েছে।”তিনি প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামোর চিত্র তুলে ধরে জানান, মিলটিতে ৫৮৭টি স্থায়ী পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৩৯০ জন স্থায়ী কর্মচারী কর্মরত আছেন। বাকি ১৯৭টি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক লোক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে, যা যেকোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দক্ষ জনবল তৈরি না করে চিনি শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।ঘোষিত কর্মসূচি:দাবি আদায় না হলে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে দেলোয়ার হোসেন নিম্নলিখিত কর্মসূচি ঘোষণা করেন:২১ জুলাই: বিক্ষোভ মিছিল ও ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি।২২ জুলাই: ৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি।২৩ জুলাই: পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি।অন্যান্য বক্তা ও উপস্থিতি:সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, অর্থ সম্পাদক আব্দুল হালিম, সাবেক শ্রমিক নেতা আবুল কালাম আজাদ, হিসাব বিভাগের ক্যাশিয়ার (গ্রেড-২) আব্দুল আলিম এবং কারখানা বিভাগের শ্রমিক কুদরত আলী।এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বাচ্চু, প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান, ধর্ম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাকিমুর রশিদ লিটু, নির্বাচনী এলাকা-১ এর সদস্য মাসুদ রানা ও আব্দুল হালিম, এলাকা-২ এর সদস্য আবু নাঈম, এলাকা-৩ এর সদস্য ছবির উদ্দিন খন্দকার ও শফিকুল ইসলাম শাহীনসহ সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারী বৃন্দ।
আপনার মতামত লিখুন :