

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করলে কোন নারী পিছিয়ে থাকবেনা, কারো অর্থে অভাব হবেনা। তোমরা প্রশিক্ষিত হও, তোমাদের পাশে সরকার আছে, তোমাদেরকে বিভিন্ন ব্যাংক সহযোগিতা করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয়ের মাননীয় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি। শনিবার (১৩ জুন) রাজশাহীতে জাতীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন তহবিল (NHRDF) প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শনিবার দুপুরে জীবনতরী টেকনিক্যাল ট্রেনিং একাডেমীর হল রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
এমময় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মারুফ হোসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন তহবিল (NHRDF) এর পরিচালক ও সিও তৌহিদুর রহমান (সাবেক সচিব), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক মহাপরিচালক আব্দুল হাকিম, জাতীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন তহবিল এর এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার ভাস্কর হালদার, জীবনতরী টেকনিক্যাল ট্রেনিং একাডেমীর প্রিন্সিপাল খাদিজা খাতুন, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও একাডেমির সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, প্রতিষ্ঠানের অর্থ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম মুকুলসহ মহানগর বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। জীবনতরী টেকনিক্যাল ট্রেনিং একাডেমীর প্রিন্সিপাল খাদিজা খাতুন, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও একাডেমির সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, প্রতিষ্ঠানের অর্থ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম মুকুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি উপস্থিত শতাধিক নারীকে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, আজকের পর থেকে নারীরা আর পিছিয়ে থাকবে না, অসহায় থাকবে না। সবাই একমত তো? এ সময় উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে মন্ত্রীর কথায় সাড়া দেন।
পরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তৌহিদুর রহমান বলেন, নারীর দক্ষতা বাড়লে শুধু পরিবারের নয়, পুরো সমাজের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। আজকের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নারীরা উদ্যোক্তা হতে পারবেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখবেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জীবনতরী টেকনিক্যাল ট্রেনিং একাডেমীর নির্বাহী পরিচালক মারুফ হোসান বলেন, সরকারের সহযোগিতায় পেলে আমরা আরও একসাথে হাজারের অধিক নারীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারবো। আমরা চাই প্রতিটি নারী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠুক। এই প্রকল্প শুধু প্রশিক্ষণ নয়, এটি নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন কিংবা চাকরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন।
তিনি আরও জানান, এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে শুধুমাত্র বাংলাদেশি নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠা অথবা কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হবে। এছাড়া দরিদ্র, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধান করছে।
আপনার মতামত লিখুন :