

নিজস্ব প্রতিবেদক, জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ০৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি’র এক নেতার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ এবং দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি ওই নেতার বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সামনের জায়গায় অবৈধভাবে দখল করে দোকান নির্মাণের চেষ্টা এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তার ছোট ভাই হাবুল্লা এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে অবস্থান নেওয়ার পর থেকে মীর কাসেম আলী ও তার সহযোগীরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণে প্রভাব বিস্তার করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় সুশীল সমাজের এক প্রতিনিধি দোকান নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং পরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউব ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান (কামরুল এমপি)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে নিজেদের কর্মকাণ্ড আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মীর কাসেম আলী, তার ছোট ভাই হাবুল্লা এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা মোবাইল ফোনে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানিয়েছেন, এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতির কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত নেতার বহিষ্কারের দাবিতে প্রায় ৪০/৪৫ জন সদস্য স্বাক্ষর করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা জানান, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কিন্তু উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রহমত এর মোবাইল ফোনে +৮৮০১৭১৬-৬৪২৭৩১ যোগাযোগ করলে, উনার নাম্বার টি বন্ধ পাওয়া যায়। এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হক +৮৮০১৭১২১৫৩১৫৪ নাম্বার টি বন্ধ পাওয়া যায়।তবে এখন পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকে।
আপনার মতামত লিখুন :