

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : মীরসরাই বিএনপি’র রাজনীতিতেও বর্তমান এমপি নুরুল আমিন আগে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান নাম নিয়ে থাকা ব্যাক্তির সময়ে তার বিরুদ্ধাচরণ করতে গিয়ে কতিপয় ব্যাক্তি বিশেষের ইন্ধনে মীরসরাই বিএনপি’র রাজনীতিকে অশান্ত করে তুলেছিলো কে বা কারা তা আমার চাইতে অনেক বেশি জানেন এবং বুঝেন সাবেক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান ও বর্তমান নুরুল আমিন এমপি। এবং তার অনুসারি অন্যান্য বিএনপি’র নেতা কর্মীরা।
নির্বাচনের আগে সেই অবস্থা বিরাজ করার প্রাক্কালে নির্বাচন কালীন সময়ে দলের হাই কমান্ডিং কঠোরতা এবং স্বয়ং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর কঠোর মনোভাবীয় হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে মীরসরাই উপজেলার একাধিক গ্রুপ দলের বৃহত্তর:স্বার্থে দলীয় প্রধান এর নির্দেশ ক্রমে সকল ভেদাভেদ আপাতত: ভুলে গিয়ে এক কাতারে সামিল হতে বাধ্য হয়েছিলেন নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এর টেকনিক্যালেটির কারিশমাটিক জোরে। নির্বাচন হলো, নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ভাবে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমপি হলেন নুরুল আমিন।
কিন্তু, নির্বাচনের পর ক’মাস যেতে না যেতে আবারো সেই পূর্বেকার মতো মীরসরাই উপজেলা অশান্তির ধাবিত হচ্ছে! এর কারণ কি? কারা করার সাহস পাচ্ছে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে মীরসরাইকে অশান্তির ধাবিত করার? নির্বাচনের পূর্বেকার সময়গুলোতে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে দলের একাধিক নেতা কর্মি হতাহত হয়েছে। কেউ কেউ চিরজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব ও বরণ করতে হয়েছে। নির্বাচন কালীন সময় এবং নির্বাচন পরবর্তী কিছু সময় মীরসরাই শান্ত থাকলে ও ইত্যবসরে আবার সেই আগেকার মতো অশান্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে মীরসরাই বিএনপি’র রাজনীতি। অনেক কাটগড় পোহাইয়ে, অনেক পথ পেরিয়ে এবং অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আজকের এমপি নুরুল আমিন।
স্বর্ণকে যে ভাবে কষ্টিপাথরে যাচাই করে আসল স্বর্ণ চিহ্নিত করা হয় ঠিক সেই ভাবেই মনে হয় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটি নুরুল আমিন কে শোষোব্দি এমপি’র মনোনয়ন দিয়ে দিয়েছিলেন। নয় তো একের পর ষড়যন্ত্র এবং শেষ পর্যন্ত দল থেকে বহিস্কার ও করানো হয়েছিলো। আর সব কিছু মোকাবেলা করার মাধ্যমে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা সহ এমপি’র মনোনয়ন ও ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলেন তিনি। এতো কিছুর পর অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটিয়ে শান্ত মীরসরাইকে বর্তমানে অশান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে কে বা কারা তা কি নুরুল আমিন এমপি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিবেন? যে ভাবে হেরে যাননি নির্বাচনে ঠিক সে ভাবে কি না হেরে গিয়ে মীরসরাই অশান্তির দিকে ঠেলে দেয়াদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে মীরসরাইকে শান্তির জনপদে পরিনত করতে পারবেন তিনি? উদাহরণ স্বরূপ আগের কথা বাদ দিয়ে সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল এর কথা বলা যেতে পারে। ওই দিন মীরসরাই উপজেলার ১ নং করেরহাট ইউনিয়নের ঘটনাটি পুরো মীরসরাই উপজেলা ছাড়িয়ে পুরো উত্তর চট্টগ্রামের রাজনীতিত টক্ অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট এ পরিনত হয়েছে।
ঐ দিন এমপি নুরুল আমিন কর্তৃক মীরসরাই উপজেলাকে মাদক সহ সকল ধরনের অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করার কাজে মনোনীবেশ করেছিলেন দলের কিছু নেতা কর্মীরা। আর সেই মোতাবেক ভারত বাংলাদেশ সিমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে ভারত থেকে আসা মাদক সহ বিভিন্ন অবৈধ জিনিসাধির মুল ষ্পট খ্যাত এবং নানাবিধ: অনৈতিক কর্মকান্ডের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে সর্বমহলের কাছে পরিচিত করেরহাট ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা এবং করেরহাট বাজার এলাকায় এমপি নুরুল আমিন এর নির্দেশনা মোতাবেক বিএনপি’র কিছু নেতা কর্মী ওই সব কর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে গেলে তাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া নানাবিধ: অপরাধ মুলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িতরা।
আর তার- ই ফলশ্রুতিতে ইতোপূর্বে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। কিন্তু, গত ১৮ এপ্রিল ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের ৩ নেতা কর্মী গুরুতর: আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) দুপুরের দিকে ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক শাহরিয়ার আহমেদ হ্রদয় মৃত্যু বরণ করেন।
এ নিয়ে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :