অপরাহ্ণ ০২:২৯
শনিবার
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবৈধ ভাবে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রাক্কালে আন্দামান সাগরে ট্রলার ডুবি: ২৭৩ নারী-পুরুষের মাঝে জীবিত উদ্ধার ৯ জন , নিখোঁজ ২৪৬


sohel প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন /
অবৈধ ভাবে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রাক্কালে আন্দামান সাগরে ট্রলার ডুবি: ২৭৩ নারী-পুরুষের মাঝে জীবিত উদ্ধার ৯ জন , নিখোঁজ ২৪৬

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : অবৈধ ভাবে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রাক্কালে আন্দামান সাগরে ২৭৩ জন নারী-পুরুষকে বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ট্রলারে থাকাদের মধ্যে ৯ জনকে জীবীত উদ্ধার করা গেলে ও বাকি ২৪৬ জন- ই নিখোঁজ রয়েছে।ট্রলারে থাকা সকলেই কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। সূত্র মতে-২৭৩ জনের মধ্যে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অপর ২৬৪ জনের এখনো কোনো খোঁজ মিলছে না।

ধারণা করা হচ্ছে, ডুবে যাওয়া ট্রলারের অধিকাংশেরই সলিল সমাধি হয়েছে।
টেকনাফ থানা পুলিশ ও কোস্ট গার্ড বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবিতে উদ্ধার হওয়া ৯ জন হলেন-কক্সবাজার শহরতলীর শান্তি পাড়ার মোঃ হামিদ ও মোঃ সাহেদ আলম, মোঃ আকবর হোসেন, টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার সোহান উদ্দিন এবং চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের মোঃ হৃদয় হোসেন, উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের রফিকুল ইসলাম, রাহেলা বেগম ও মোঃ ইমরান এবং টেকনাফ বড়বিল এলাকার মোঃ তোফায়েল আহমেদ।
এই ঘটনায় ৬ জন দালালকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা করেছে কোস্ট গার্ড। উদ্ধার হওয়া ৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিখোঁদের স্বজনরা জানিয়েছেন, প্রিয়জনদের কোনো খোঁজ না পেয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা তথ্য দেখে তারা প্রতিনিয়ত: অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।
টেকনাফ উপজেলার নিখোঁজ এনায়েতুর রহমানের বাবা মোহাম্মদ কালু মিয়া সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমার ছেলে বাড়ির পাশের একটি ইটভাটায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতো। তার আয় দিয়েই আমাদের সংসার ভালো ভাবেই চলছিলো। কিন্তু, গত ২ এপ্রিল থেকে সে নিখোঁজ হয়।
তিনি জানান, খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছেন- দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে তার ছেলে টেকনাফ হয়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এক পর্যায়ে খবর আসে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের বহনকারী ট্রলারটি ডুবে যায়।
মোহাম্মদ কালু আরো বলেন, ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে কোনো ভাবে ৯ জন উদ্ধার হয়ে ফিরে আসলে তাদের কাছ থেকেই জানতে পারি, আমার ছেলে এনায়েত সহ আরো নারী-পুরুষ ট্রলারডুবির ঘটনায় সাগরে তলিয়ে গেছে।
আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গা রাহেলা বেগম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমার এক খালাতো ভাই আমাকে মালয়েশিয়ায় বিয়ে দেয়ার কথা বলে সাগর পথে নিয়ে যাচ্ছিলো। পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি আন্দামান সাগরে ডুবে যায়।
তিনি বলেন, আমরা ৯ জন সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিলাম। পরে একটি ট্রলারের সহায়তায় উদ্ধার হয়েছি।
একটি সূত্র বলছে, চার-পাঁচ দিন আগে ২৭৩ জন যাত্রী নিয়ে আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এতে ৯ জন কোনো ভাবে উদ্ধার হয়ে জীবিত ফিরতে পারলেও বাকি ২৬৪ জনের এখনো কোনো খোঁজ মিলছে না।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ জনকে নিয়ে কোস্ট গার্ড থানায় আসে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভিকটিমদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে ও জানান দেন ওসি।