পূর্বাহ্ণ ০২:২৮
শুক্রবার
৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অপহরণের পর দলবদ্ধ ভাবে তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ


sohel প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২২, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ন / ০
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অপহরণের পর দলবদ্ধ ভাবে তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
শুনুন বাংলায় Ready

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক তরুণীকে জোরপূর্বক অপহরণের পর দলবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ (গ্যাংরেপ) এর লোমহর্ষক ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ২১ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- সীতাকুন্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের আকিলপুর গ্রামের মৃত দিলীপ ঘোষের পুত্র সঞ্জয় কুমার ঘোষ (৩৭) এবং পাশ্ববর্তী মীরেরহাট জাফর নগর মণ্ডল বাড়ির পাশের কালা মিয়ার পুত্র আলাউদ্দিন (৩৯)। ওই মামলার অপর পলাতক আসামি হলেন- এক-ই উপজেলার ১ নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের দুলাল মেম্বার বাড়ির সাহাব উদ্দিনের পুত্র রহিম উদ্দিন (২৬)।মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণী (১৯) স্থানীয় ১ নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের মীরেরহাট বাজারে তার মায়ের সাথে একটি বাসা বাড়িতে বুয়া বা মালিনীর কাজ করেন। ঘটনার দিন গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে ওই তরুণী কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মামলার ২ নং আসামি আলা উদ্দিন ও ৩ নং আসামি রহিম উদ্দিন তরুণীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক পথরোধ করে। তারা তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে টেনেহেঁচড়ে একটি সিএনজি চালিত অটো রিক্সায় তুলে নিয়ে যায়। অপহরণ কারীরা তাকে জাফর নগর স্কুলের পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।সেখানে পৌঁছানোর পর ২ নং আসামি আলা উদ্দিন মুঠো ফোনে কল করে ১ নং আসামি সঞ্জয় কুমার ঘোষকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। এবং ৩জন মিলে তরুণীকে নির্জন স্থানে আটকে রেখে প্রথমে কু’প্রস্তাব দেয়।এতে সে রাজি না হওয়ায় এবং বাঁচার আকুতি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে আলা উদ্দিন তরুণীর সাথে থাকা গামছা কেড়ে নিয়ে তা দিয়ে তাঁর মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে। এরপর আসামিরা পালাক্রমে তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পাশবিক নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরক্ষণে তার কান্না রত: কণ্ঠ শুনে স্থানীয় কয়েক জন ঘটনাস্থলএ গিয়ে তার এই অবস্থা দেখে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। এবং পরিবারের লোকজনকে বিস্তারিত ঘটনা জানান।
ন্যাক্কারজনক ওই ঘটনার পরদিন বুধবার সকালে তরুণীর মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দয়েরের পর পর-ই সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর নির্দেশনায় পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি সঞ্জয় কুমার ঘোষ ও ২ নং আসামি আলা উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মহিনুল ইসলাম বলেন, তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এবং পরে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক অপর আসামি রহিম উদ্দিনকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন বলে ও জানান দেন ওসি।

2

2