[msabcd_bangla_calendar display_view=”modern” format=”time_date_weekday” show_time=”1″ show_suffix=”1″ timezone=”Asia/Dhaka” color_primary=”#0073aa” color_bg=”#f8f9fa” font_size=”16px” border_radius=”10px”]

গাছের ছায়ায় শ্রমিকের বিশ্রাম ও কাজ বন্ধ করতে ১ যুগ বয়সী সরকারি পাইকড় গাছ কর্তন।


sohel প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ন /
গাছের ছায়ায় শ্রমিকের বিশ্রাম ও কাজ বন্ধ করতে ১ যুগ বয়সী সরকারি পাইকড় গাছ কর্তন।

মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী
রাজশাহী সমাজসেবা কমপ্লেক্সে গাছ কাটায় প্রশ্ন, বাইরের লোক বসবে কেন উপপরিচালকের জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সে একজন ব্যক্তিকে গাছের নিচে বসে বাঁশ কাটতে বাধা দিতে প্রায় ১২ বছর বয়সী একটি পাইকর গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ছায়াদানকারী বড় গাছটি কেটে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে—একজন ব্যক্তিকে সরাতে গাছ কাটাই কি একমাত্র সমাধান ছিল?

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের দক্ষিণ পাশে বেশ কিছু খালি জায়গায় সবজি, কলা ও আখ চাষ করা হয়েছে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ কাঠা জায়গাজুড়ে এসব চাষাবাদ চলছে। এর পাশেই ছিল পাইকর গাছটি। তবে গাছটির কোনো ডালপালা বা পাতা নেই। কেটে ফেলার পর পড়ে আছে শুধু অবশিষ্ট অংশ।

কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত গাছটির নিচে বসতেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরম ও বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের সময় সেখানে তারা বিশ্রাম নিতেন। দাফন কাজে ব্যবহৃত বাঁশ কাটার শ্রমিকরাও গাছটির নিচে বসতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিকদের গাছটির নিচে বসা নিয়ে আপত্তির জেরেই গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। তবে গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, এ বিষয়ে কোনো নথি বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমাজসেবা কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, কমপ্লেক্সের বিভিন্ন খালি জায়গায় সবজি, কলা ও আখসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছেন অফিস সহকারী মুঞ্জুরুল ইসলাম। উৎপাদিত সবজির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হলেও অধিকাংশ বাজারে বিক্রি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ওই কর্মচারী আরও বলেন, সরকারি জায়গা নিয়ম মেনে কোনো স্থানীয় উদ্যোক্তাকে ইজারা দেওয়া হলে সরকার রাজস্ব পেতে পারত। আবার খালি জায়গায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হলেও প্রতিষ্ঠান ও পরিবেশ, দুই দিক থেকেই উপকার পাওয়া সম্ভব ছিল।

গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী মুঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, গাছটির নিচে স্থানীয় একজন ব্যক্তি জায়গা দখল করে বাঁশ কাটার কাজ করতেন। তাকে নিষেধ করা হলেও তিনি তা শুনতেন না। এ কারণে গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।

একজন ব্যক্তিকে সরাতে একটি বড় গাছ কেটে ফেলার প্রয়োজন হলো কেন, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

গাছ কাটার বিষয়ে রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের উপপরিচালক মনিরা খাতুনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাইরের লোকজন গাছের নিচে বসবে কেন?

বাইরের কেউ অনুমতি ছাড়া সেখানে বসলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া কিংবা থানায় অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে উপপরিচালক বলেন, আসলে বিষয়টি আমার জানা নেই, জেনে জানাব।

এদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান চত্বরে থাকা একটি পরিণত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় গাছটির কাটার অনুমোদন ছিল কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। অনুমোদন ছাড়া গাছটি কাটা হয়ে থাকলে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে।

অন্যদিকে, সমাজসেবা কমপ্লেক্সের খালি জায়গায় চাষাবাদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি জমিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাষাবাদ হয়ে থাকলে এর অনুমোদন কী, উৎপাদিত পণ্য কোথায় যাচ্ছে এবং এ থেকে সরকার বা প্রতিষ্ঠান কোনো রাজস্ব পাচ্ছে কি না, এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

সরকার যখন দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন একটি সরকারি সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানের চত্বরে ছায়াদানকারী গাছ কেটে ফেলার ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি গাছ কাটার বিষয়টি শুধু পরিবেশের ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা এবং সরকারি জায়গার যথাযথ ব্যবহারের প্রশ্নও জড়িত। তাই গাছ কাটার অনুমোদন, চাষাবাদ এবং পুরো ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।

2

2