

ফারুক আহমেদ,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার ৩নং ধুবিল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আমশড়া কবর স্থান সংলগ্ন অবস্থিত আমশড়া ইসলামিয়া দারুল উলুম ক্বওমীয়া এবং নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মুফতি আক্তারুল ইসলাম ও মুরহুম সেরাজুল হক মাষ্টারসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা মিলে ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য নয় দ্বীনি ও নৈতিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ইহুকালিন ও পরকালিন মুক্তির আশায় যুগোপযোগী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৯৮ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন।
মুরহুম সেরাজুল হক মাষ্টার, মুরহুম জহুরুল ইসলাম জরু মণ্ডল ও মুফতি মোঃ আক্তারুল ইসলামসহ এলাকার বেশ কয়েকজন মুহতী ভূমি দাতাদের দানের প্রায় আড়াই বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটির রয়েছে একটি অফিস কক্ষ ২টি ইটের আধা পাকা ও দুইটি টিনসেটের জরাজীর্ণ ঘর। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন দাতাদের দানের অর্থায়নে মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত এতিম, দরিদ্র মেধাবী কমলমতি শিক্ষার্থীদের সকল খরচসহ শিক্ষকদের মাসিক বেতন চলে বিভিন্ন দানের মাধ্যমে। নূরানী শাখায় প্রধান ক্বারী রাশেদ খাঁন, মাওলানা আব্দুল কাদের, মাওলানা সুলতান মাহমুদ মোট তিনজন শিক্ষক, আবাসিক মক্তব বিভাগে মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, মক্তব অনাবাসিক হাফেজ রফিকুল ইসলাম, নাজেরা বিভাগে ক্বারী আব্দুর রাজ্জাক, অত্র মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব এবং কিতাব বিভাগের মাওলানা ইস্রাফিল হোসাইন, ও আবাসিক হিফজ বিভাগে হাফেজ রফিকুল ইসলাম, এছাড়া একজন জেনারেল শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে নূরানী শাখাতে ১৫০জন, অনাবাসিক মক্তব শাখায় ৫০জন আবাসিক হেফজ শাখায় ২৫জন, আবাসিক মক্তব শাখায় ৩০জন, কেতাব শাখা আবাসিকে ২০ জন ও এতিমখানায় ৩০ জন ছাত্র/ছাত্রী পড়াশুনা করছেন। লিল্লাহ্ বোডিংয়ে খাবার দাবারের ব্যবস্থা হয়ে থেকে এতিমসহ প্রায় ৫০ জন ছাত্র/ছাত্রীদের। এর ব্যয় ভার বহন করা মাদ্রাসার কর্তি পক্ষের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাদ্রাসার অধ্যনয়নরত ছাত্ররা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে এই মাদ্রাসায় পড়াশুনা করছি। এখানকার পড়াশুনার মান অনেক ভালো। তারা আরো বলেন, আমাদের খাওয়া দাওয়া ও বই পুস্তক সব মাদ্রাসা থেকে বহন করেন। মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আমজাদ হোসেন বলেন, আলহাজ্ব মুফতি আক্তারুল ইসলাম এলাকার বিভিন্ন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের নিয়ে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত। এলাকার মানুষ জনও তাদের সাধ্যমত সাহায্য সহযোগিতা করেন। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর হতে এ পর্যন্ত ২০০ জন কোরআনের হাফেজ ও প্রায় ৩০০ জন মাওলানা তৈরী হয়েছে। তারা আজ বিভিন্ন মাদ্রাসায় কর্মরতহ।
কেন এতো ছাত্র/ছাত্রী আপনাদের মাদ্রাসাতে ভর্তি হয়েছে জানতে চাইলে অত্র মাদ্রাসার শিক্ষক ক্বারী আব্দুর রাজ্জাক এই প্রতিনিধেকে বলেন, আমাদের দৈনন্দিন খাবাবেরর মান ভালো। লেখা পড়ার মান ভালো, সরকারের নিয়ম কানুন মেনেই প্রথমে কোরআন তেলাওয়াতের পরে জাতীয় সংগীতসহ প্রতিদিন ক্লাশ শুরুর আগে পিটিআয়ের ব্যবস্থা প্রতি দিনের পড়া লেখা প্রতিদিনঐ ক্লাসেই করে দেওয়া হয়। হাতের লেখা সন্দুর করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে এবং একনজরে একজন আর্দশ শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের জিজ্ঞাসা এবং একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রতিনের আত্ন জিজ্ঞাসা ও জাবাব দিহি নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। তাছাড়া আদব আখলাক গঠনে বিশেষ গরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে বলেই আমাদের মাদ্রাটিতে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি হয়ে থাকে। তাছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ছাত্র শিক্ষকে হাজির হওয়ার নির্দেশ মুহতামিমের।
নূরানী শাখার অত্র মাদ্রাসার ছাত্র বর্তমানে একই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল কাদের বলেন, ১৯৯৮ সালে মাদ্রাসাটি বিশিষ্ট শিক্ষা অনুরাগী আলহাজ্ব মুফতি আক্তারুল ইসলাম এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিষ্টা করেন। বর্তমানে মাদ্রাসার একটি জরাজীর্ণ টিনসেট ঘর রয়েছে। আরেক ছাত্র ঐ একই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা সুলতান মাহমুদ আরো বলেন, আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ যা এলাকায় কোরআনের জ্ঞানের আলো ছড়াতে নিরলস ভাবে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
হাফেজ রফিকুল ইসলাম এই প্রতিনিধিকে বলেন, মাদ্রাসাটিতে ছাত্র /ছাত্রীদের তুলনাই প্রর্যপ্রাপ্ত ক্লাস রুম না থাকায় মসজিদের ভিতর অথবা খোলা আকাশের নীচে মাদ্রাসার বারান্দায় ক্লাস করে ছাত্র-ছাত্রীরা নিদারুণ কষ্টের পরেও কোরআনের আলোতে জীবনকে আলোকিত করে চলছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের কোন ওইটিং রুম নেই, নেই অভিভাবক দের ওইটিং রুম।
নূরানী বিভাগের প্রধান শিক্ষক ক্বারী রশেদ খাঁন বলেন, উক্ত মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ রাতদিন কার্যক্রম শেষে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে মানুষের দেওয়া যাকাত, ওশর, ফেতরা, দান সাদাকার ২/১ টাকা দানের পয়সায় পরিচালিত হয়ে থাকে মাদ্রাসাটি।
তিনি আরো বলেন, তবে সহযোগিতা ও পৃষ্টপোষকতার অভাবে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছরেও আমশড়া কবরস্থান সংলগ্ন ইসলামীয়া দারুল উলুম ক্বওমীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও (এতিম খানা) টির ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি।
মাদ্রাসার পরিচালক ও সভাপতি শিক্ষাঅনুরাগী মুফতি আক্তারুল ইসলাম এই প্রতিনিধিকে বলেন, অবহেলিত এলাকার কয়েক গ্রামে তখন তেমনি কোন এই ধরনের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিলনা। আমাদের আমশড়া গ্রামটিতে তো ছিলোইনা। এ এলাকার শত শত পরিবারের কমলমতি কলিজার টুকরা ছেলে মেয়েদেরকে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে গেয়ে হাফেজ বা আলেম মানাতে হতো। তাই আমি আমাদের এলাকার শত শত পরিবারের ছোট ছোট শিশু কিশোরের জীবনকে কোরআনের আলোতে আলোময় করতে ব্যক্তিগত আর্থিক ও এলাকাবাসীর সহায়তায় আমশড়া ইসলামীয়া দারুল উলুম ক্বওমীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানা প্রতিষ্ঠানটি গত ১৯৯৮ সালে তাঁর হাত ধরে যাত্রা শুরু হয়।
প্রষ্ঠানটির মুহতামিম মাওলানা আমজাদ হোসেন এই প্রতিনিধিকে আরো বলেন, বাড়ী বাড়ী গিয়ে সামান্য দান খয়রাতির টাকায় মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়ে আসলেও এখনো খোলা আকাশের নীচে শিশুরা চরম দূভোর্গ সহ্য করে প্রচন্ড রোদ ও ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে কোরআনের শিক্ষায় জীবনকে আলোকিতময় করে তুলছে।
স্থানীয়রা জানান, যদি মাদ্রাসাটি সরকারি ভাবে কিংবা বেসরকারি দানবীর ব্যক্তিরা আর্থিক সহযোগীতায় ও সু-দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন দৈন্যদশা ও জরাজীর্ণ এবং জীর্ণশীর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটির জন্য আন্তরিকতার সহিত সরকারি টিআর, কাবিখা, কাবিটার সামান্য বরাদ্ধকৃত ৪/৫ টন চাল দান করতেন তাহলে শত শত শিশুরা আজ নিরাপদে কোরআনের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারতো।
যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া না হয় তাহলে আমশড়া ইসলামীয়া দারুল উলুম ক্বওমীয়া হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠানটি দূর্দশা কোনদিন দূর যাবে না।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহকার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম জহির এবং উক্ত মাদ্রাসার দাতা ও উপদেষ্টা শিল্পপতি রাজু আহমেদ রাজু জানান, সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্টপোষকতার অভাবে ছাত্র/ছাত্রীদের নূরানী, মক্তব, নাজেরা, কিতাব ও হিফজ বিভাগে এছাড়া আবাসিক /অনাবাসিক ডে – কেয়ারে পাঠ দান কষ্ট স্বাধ্য হয়ে পরিবে জানিনা মাদ্রাসাটির এ দৈন্যদশা দূর করতে কে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে?
মাদ্রাসাটির মুহতামিম মাওলানা আমজাদ হোসেন বলেন, আমাদের মাদ্রাসাটিতে নূরানী, হেফজ, কিতাব মক্তব নাজেরা বিভাগে আবাসিক ও অনাবাসিকে ভর্তি চলছে।
আপনার মতামত লিখুন :