অপরাহ্ণ ০৪:৩৫
শুক্রবার
১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী আশেপাশের উপজেলা গুলোতে ঝরছে আমের গুটি


sohel প্রকাশের সময় : মে ১, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ন /
রাজশাহী আশেপাশের উপজেলা গুলোতে ঝরছে আমের গুটি

আমাদের জন্মভুমি ডেক্স

দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদন অঞ্চল রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে গাছে প্রচুর মুকুল এলেও আশঙ্কাজনক হারে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও রাজশাহীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টিপাত না হওয়া, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাষি ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা। ফলে এবার আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে রাজশাহীর বিভিন্ন আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, অনেক গাছেই গুটি শুকিয়ে কালচে হয়ে ঝরে পড়ছে। কোথাও কোথাও গুটিতে দাগ পড়ে পচন ধরছে। কিছু বাগানে মাটির আর্দ্রতা এতটাই কমে গেছে যে গাছের গোড়ার মাটি ফেটে গেছে। এতে গাছ ঠিকমতো পুষ্টি গ্রহণ করতে পারছে না, ফলে গুটি টিকছে না।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় প্রায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। তবে গত বছরের তুলনায় আমবাগানের পরিমাণ কমেছে ৫৪১ হেক্টর। গত বছর ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল এবং লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার টন।
এদিকে লিচু চাষেও সামান্য পরিবর্তন দেখা গেছে। গত বছর ৫২৮ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হলেও এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২৬ হেক্টরে। তবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৭৭৫ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজশাহী পবা উপজেলার আমচাষি কামরুজ্জামান জানান, “এই বছর গাছে ভালো মুকুল এসেছিল, গুটিও ধরেছিল। কিন্তু বৃষ্টি না থাকায় গুটি টিকছে না। প্রতিদিনই ঝরে পড়ছে। এতে ফলন অনেকটাই কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে রবিউল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে গুটি ঝরে যাচ্ছে। গাছের গোড়ায় পানি দেওয়ার পর কিছুটা উপকার পাওয়া গেছে। তবে ডিজেলের অভাবে পুরো বাগানে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এখন একমাত্র ভরসা বৃষ্টি।”
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচদিনে (২৫-৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত রাজশাহীতে মাত্র ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজশাহী, নওগাঁ বা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়েছে। যা গাছের জন্য অতি সামান্য। এই অপ্রতুল বৃষ্টিপাত গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, গুটি অবস্থায় আমগাছের জন্য মাটির আর্দ্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় খরা থাকলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়, যার ফলে গুটি ঝরে পড়ে। পাশাপাশি পোকামাকড় ও বিভিন্ন রোগের আক্রমণও বাড়ে।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “এখনো তীব্র খরা না হলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। যেসব গাছে গুটি ঝরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেখানে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। গাছের গোড়ায় পানি দিলে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং গুটি ঝরা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”
কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাষিদের নিয়মিত সেচ প্রদান, প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহার এবং গাছের পরিচর্যা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে রাজশাহীর আম উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Bangla Photocard Generatorv3.7