অপরাহ্ণ ০৩:৫৩
সোমবার
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামাজিক পরিবর্তনে একজোট: যাত্রা শুরু করল লালপুর-বাগাতিপাড়া ন্যায় ফোরাম


sohel প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ৭:২১ পূর্বাহ্ন /
সামাজিক পরিবর্তনে একজোট: যাত্রা শুরু করল লালপুর-বাগাতিপাড়া ন্যায় ফোরাম

মো: রাতুল সরকার, স্টাফ রিপোর্টার।

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও স্বচ্ছ সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন সামাজিক সংগঠন ‘লালপুর বাগাতিপাড়া ন্যায় ফোরাম’, যার সংক্ষিপ্ত নাম (এলবিএনএফ)। এলাকার একদল প্রগতিশীল ও সচেতন নাগরিকের উদ্যোগে গঠিত এই সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমুখী ধারায় পরিচালিত হবে।
​একটি আদর্শিক ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন
​‘এলবিএনএফ’ তাদের গঠনতন্ত্রে অত্যন্ত স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে নারী, পুরুষ ও শিক্ষার্থীসহ প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, সম্মান এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাবে। তারা কেবল সদস্য সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
​সুনির্দিষ্ট আট দফা লক্ষ্য ও বহুমুখী কার্যক্রম
​সংগঠনটি তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে:
​দুর্নীতি ও অপরাধমুক্ত সমাজ: লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় যে কোনো প্রকার অন্যায়, অপরাধ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করা।
​সামাজিক অবক্ষয় রোধ: যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদক ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।
​মানবিক সহায়তা: অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি মানবিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো।
​নারী ও শিশু সুরক্ষা: নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কাজ করা এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকা।
​তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব: শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে দূরে রেখে সৃজনশীল, ইতিবাচক ও উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা।
​প্রশাসনিক সমন্বয় ও উন্নয়ন: এলাকার অবকাঠামোগত বা জনসেবামূলক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করা।
​অরাজনৈতিক নিরপেক্ষতার কঠোর বিধান
​সংগঠনটির অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর কঠোর অরাজনৈতিক অবস্থান। গঠনতন্ত্রের ধারা ৯ অনুযায়ী, কোনো সদস্য ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে বা ব্যানারে কোনো রাজনৈতিক প্রতীক, স্লোগান কিংবা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন না। সংগঠনের ভেতরে কোনো ধরনের দলীয় বিভাজন বা প্রভাব সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
​স্বচ্ছ ও শক্তিশালী পরিচালনা কাঠামো
​সংগঠনটি পরিচালনার জন্য একটি সুশৃঙ্খল চেইন-অফ-কমান্ড তৈরি করা হয়েছে:
​সদস্যপদ: সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠাতা, সাধারণ, শিক্ষার্থী ও উপদেষ্টা—এই চার শ্রেণির সদস্যপদ রাখা হয়েছে।
​সমন্বয় প্যানেল: সংগঠনের মূল নীতি রক্ষা ও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ৭ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের একটি সমন্বয় প্যানেল কাজ করবে। উক্ত প্যানেলের অন্তত ৪ জন সদস্যের সম্মতি ছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা কমিটি অনুমোদন কার্যকর হবে না।
​জবাবদিহিতা ও অর্থায়ন: সদস্যদের চাঁদা ও বৈধ অনুদানের মাধ্যমে গঠিত তহবিলের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব রাখা এবং প্রতিটি কর্মকাণ্ডে পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
​স্থানীয় সুধী সমাজের প্রতিক্রিয়া
​নবগঠিত এই ফোরামের আত্মপ্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারা মনে করছেন, যদি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে লালপুর-বাগাতিপাড়ার অন্যায্য ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিরসনে এটি একটি শক্তিশালী মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
​সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা কেবল নামসর্বস্ব সংগঠন হতে চান না, বরং কাজের মাধ্যমে প্রতিটি সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় পৌঁছাতে চান। তারা এই সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার আন্দোলনে এলাকার সকল সুনাগরিকের সহযোগিতা ও সংহতি কামনা করেছেন।