মোঃ আব্দুস সালাম
দৈনিক আমাদের জন্মভূমি সংবাদদাতা:
সম্প্রতি রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলায় অন্তর্গত আড়ানী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড উত্তর সোনাদহ জামে মসজিদে আযান দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুর্বের জের ধরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির দুইজন সদস্য গুরুত্বর আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ৭ জুলাই দুপুরে যোহর নামাজের আযান দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উত্তর সোনদহ জামে মসজিদের আওতায় ১২০ ঘর মানুষের একটি সমাজ রয়েছে। এর মধ্যে উশৃংখল আচরণ ও সমাজিক নানা কর্মকান্ডে বাঁধা দেওয়ায় আ: রশিদ,ফজল, মোসলেম উদ্দিন ,তুজাম , মজনু সহ মোট ৫ ঘর মানুষকে সমাজচ্যুত করা হয়। এরপর থেকেই মসজিদ, মাদ্রাসা ও মসজিদে আযান দেওয়া এবং কোরআন তেলাওয়াত কে তারা সাংঘর্ষিক মনে করে। কেউ মৃত্যু বরণ করলে মসজিদের মাইকে এলাউন্স করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়। সমাজচ্যুতদের মধ্যে রয়েছেন, মসলেম উদ্দিন, ফজলুল হক উভয় পিতা মৃত জাহাঙ্গীর জংলী, জসিম উদ্দীন মোল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ (সন্ত্রাসী), মৃত আজিত মোল্লার ছেলে তুজাম এবং তুজামের ছেলে মজনু
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, নিয়মিত নামাজি না হলেও রবিবার দুপুরে নির্ধারিত সময়ের আগেই মসজিদে আজান দিতে যান ফজলুল হকের ছেলে জিনারুল। মাইকের যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় মসজিদের ইমাম হাফেজ শামসুল ইসলাম মাদ্রাসার এক ছাত্র সাগর কে বক্সে আজান দিতে বলেন। এ সময় জিনারুল রাগান্বিত হয়ে তার পরিবারের লোকজন ও সন্ডা- পান্ডা নিয়ে দেশীয় অস্ত্র সাহায্যে ইমাম সাহেব হাফেজ শামসুল ইসলাম ও তার মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর আকর্ষণিকভাবে হামলা চালায় । ইমাম সাহেব তাৎক্ষণিকভাবে মসজিদ এবং মাদ্রাসায় ভেতর দিয়ে ছিটকানি দিয়ে ছাত্রদেরকে হেফাজত করেন । ইমাম সাহেব এবং তার পরিবার ও ছাত্রদের প্রাণ নাশের হুমকি দেখে সংঘাত এড়ানোর জন্য মসজিদ কমিটির কাছে ফোন দেয় এবং জীবন বাঁচানোর জন্য মাইকে মানুষের কাছে সাহায্য চাই। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনা স্থলে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য মানিক ও সেন্টু হাজির হয়। এ সময় সমাজচ্যুত সন্ত্রাসী আব্দুর রশিদ ,মোসলেম উদ্দিন ,ফজল হক ,ফজল হকের দুই ছেলে, তোজাম্মেল হক, তোজাম্মেল হকের ছেলে মজনু দেশি অস্ত্র সহ সন্ত্রাসী কাদায় হামলা চালায় । এতে করে মানিক ও সেন্টু আলী গুরুত্বের আহত হয় । হুজুরের জীবন বাঁচানোর জন্য মাইকেল আকুতি শুনে এলাকাবাসী ছুটে আসে। এলাকাবাসীর উপস্থিত টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুরুত্বের আহত অবস্থায় সেন্টু মানিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় । পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে চারঘাট উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক রামেক হাসপাতালে প্রেরন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এ বিষয়ে উত্তর সোনাদহ নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম শামসুল ইসলাম বলেন, আমি মাদ্রাসা ও মসজিদের দায়িত্ব পালন করি। মাদ্রাসার বেতন না দেওয়া ও সমাজের লোকের সাথে সুসম্পর্ক না থাকার কারনে তাদের সমাজ থেকে আলাদা করা হয়। পরবর্তীতে তারা জোর করে মসজিদে এসে ফেসবুক চালায়, ছবি দেখে, বলতে গেলেই যতো দন্দ হয়। আজকে জোরপূর্বক আজান দিতে আসে ফজলুল হকের ছেলে জিনারুল কিন্তুু মাইকের যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় আমি আমার এক ছাত্রকে বক্সে আজান দিতে বলি। এর পর আমি এবং আমার ছাত্রদের মারার জন্য জিনারুল ও তার গোত্রের লোক জন ধারালো হাসুয়া, সাবল ও লঠি-সোটা নিয়ে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। তখন আমি ভয়ে আমার ছাত্রদের নিয়ে দরজা বন্ধ করে কমিটির লোকজন কে মোবাইলে জানাই। এ সময় কমিটির সদস্য মানিক ও সেন্টু আসলে তাদের উপর অতর্কিত হামলা করা হয়।
আড়ানী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য কুদরত আলী দৈনিক আমাদের জন্মভূমির প্রতিনিধি কে বলেন, আমি এই সমাজেরই মানুষ এই মসজিদেই নামাজ পড়ি। আমার জানা মতে জিনারুল নিয়মিত নামাজ পড়েনা অথচ ঘটনার দুই তিনদিন আগে থেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই সে আজান দিচ্ছে। হয়তো তার ভেতরে কোন পরিকল্পনা থাকতে পারে। আজকের এ ঘটনায় হামলার শিকার দুই জন কমিটির সদস্য তারা আশঙ্কা জনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। তবে এ ঘটনা কে অত্যন্ত জঘন্য ও নিকৃষ্ট বলে তিনি মনে করেন ।
ঘটনার পর থেকে মসলেম উদ্দিন,ফজলুল হক, আব্দুর রশিদ, তুজাম এবং মজনু বাড়িতে না থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এলাকাবাসীর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু বিচার চাই । বর্তমানে উক্ত এলাকার থমথমে বিরাজ করছে ।