[msabcd_bangla_calendar display_view=”modern” format=”time_date_weekday” show_time=”1″ show_suffix=”1″ timezone=”Asia/Dhaka” color_primary=”#0073aa” color_bg=”#f8f9fa” font_size=”16px” border_radius=”10px”]

রাজশাহীতে সার্বিক নিরাপত্তায় আটদফা দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান


sohel প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ন /
রাজশাহীতে সার্বিক নিরাপত্তায় আটদফা দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহীর সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষে রাজশাহী মেট্রোপলিটন কমিশনার বরাবরে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাদ দফা দাবী সম্মলিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে তাঁরা উল্লেখ করেন আমরা ঐতিহ্যগতভাবে শান্ত ও নিরাপদ হিসেবে পরিচিত রাজশাহী মহানগরীর সর্বস্তরের সাধারণ নগরবাসী। কিন্তু বর্তমানে এই শিক্ষা নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রশংসনীয় কিছু তৎপরতা ও নিয়মিত গ্রেপ্তার অভিযান সত্ত্বেও অপরাধের পুনরাবৃত্তি এবং নতুন নতুন অপরাধচক্রের উদ্ভব সাধারণ নগরবাসীকে চরম আতঙ্কের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু প্রধান অপরাধের ধরণ ও কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর সিএনবি মোড়, শিরইল, নওদাপাড়া, রেলস্টেশন ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীদের উৎপাত আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। আর এই ছিনতাইয়ে নারী ও শিক্ষার্থীরা প্রধান টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। এর পাশাপাশি একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, মারামারি, স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্তকরণ এবং চাঁদাবাজির ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসেছে। পুলিশের ডাটাবেজে পাঁচ শতাধিক কিশোর অপরাধীর তালিকা থাকার পরও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তথাকথিত “বড় ভাইদের” রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে এরা গ্রেপ্তারের পরপরই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই ধরনের অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে।
শুধু তাইনয় মাদক বিক্রি এবং সেবন এখন এতটাই সহজ হয়েছে যে, হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ যুব ও তুরন সমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মাদক কেনাবেচা ও সেবনের বিস্তারে তরুণ যুবসমাজসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ ধ্বংশের দিকে। সেইসাথে চুরি, ডাকাতি ও রাহাজানির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে এই মাদক। একই সঙ্গে সাইবার স্পেসে আর্থিক প্রতারণা এবং ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য হ্যাক করার মতো ডিজিটাল অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চুরি এবং চুরির প্রচেষ্টার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা।
এই পরিস্থিতিতে নগরীর আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজশাহী নগরবাসীর পক্ষ থেকে অসুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক আট দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবী গুলো হলো প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখগুলোতে দিন-রাত, বিশেষ করে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ মোবাইল টহল ও নজরদারি জোরদার করা, পুলিশের তালিকাভুক্ত ৫০০+ কিশোর গ্যাং সদস্য এবং তাদের পেছনে থাকা স্থানীয় প্রভাবশালী আশ্রয়দাতাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা।

আরো দাবী সমুহ হলো, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পাশাপাশি আরএমপির সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি নিবেদিত ও গোপনীয় ‘বিশেষ নিরাপত্তা হটলাইন’ চালু করতে হবে, যাতে ভুক্তভোগীরা কোনো ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানাতে পারেন। নগরীর সকল গুরুত্বপূর্ণ ও জনমানবহীন এলাকার অকেজো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো দ্রুত মেরামত করে সেগুলোকে একটি কেন্দ্রীয় ২৪/৭ মনিটরিং সেলের আওতায় এনে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল ছুটির সময়ে, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারী পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ টহল দল মোতায়েন করা, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা রুখতে আরএমপি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ব্যাংক ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা, গ্রেপ্তারকৃত চিহ্নিত ও পেশাদার অপরাধীরা যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বা কোনো মহলের সুপারিশে সহজে পার পেয়ে না যায়, সেজন্য বিজ্ঞ আদালতের প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, প্রত্যেকটি মহল্লায় সাধারণ জনগণ এবং শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে যে ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ ব্যবস্থাটি বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেটি পুনরায় চালু করতে হবে বলে উল্লেখ করেন স্মারকলিপিতে।
এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে রাজশাহী মহানগরীর সর্বস্তরের মানুষের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বসবাসের স্বার্থে উপরোক্ত দাবিগুলো জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করে কার্যকর, কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবী জানানো হয় স্মারকলিপিতে।

এদিকে নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলার সময় আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, তাঁরা প্রতিনিয়ত মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিদিন মাদক কারবারী ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সেইসাথে সম্প্রতি মহানগরীতে যে সকল খুন, ধর্ষন ও অন্যান্য ঘটনা ঘটেছে , সে সকল ঘটনার প্রতিটিরই ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে। সেইসাথে আসামীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেইসাথে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ বলে জানান তিনি।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক, বেলাল আহমেদ, শফিকুর রহমান ও জালাল উদ্দিন, যুগ্ম সদস্য সচিব সাদেকুল ইসলাম, রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ শাহ মখদুম থানার আহ্বায়ক আতাউর রহমান, বোয়ারিয়া থানার সদস্য সচিব তৌহিদুল হক তোতা, রাজশাহী মহানগরীর যুগ্ম সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম ও লিয়াকত খান ও এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী হায়দারসহ অন্যান্য সদস্যগণ।

Bangla Photocard Generatorv3.7