

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ও কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক এমপি- মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
পারিবারিক সূত্র মতে, দীর্ঘ ১ মাস অসুস্থ থাকা অবস্থায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
১৩ মে (বুধবার) সকাল সোয়া ১০ টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। গত নির্বাচনে তিনি যৎসামান্য বিতর্কিত (বিনা ভোটের এমপি) হয়ে এমপি হলে ও তিনি একাধারে অতিতে একাধিক বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে থেকেই তিনি সাবেক অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের আমলে রাজনৈতিক ভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।
তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। উত্তর চট্টগ্রাম সহ পুরো চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা-ব্যাক্তি হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন।
যদিও বা রাজনৈতিক ভাবে কিছু টা বিতর্কিত, তবে- সামাজিক সহ বিভিন্ন ভাবে তার অবদান ও ছিলো অনেক টা।
জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তিনি তার স্থলাভিষিক্ত করনে নিজের পুত্র মাহবুবুর রহমান রুহেলকে মীরসরাই উপজেলা সহ পুরো চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতে সম্পৃত্ত করে নেন। এমনকি কেন্দ্রীয় ভাবে ও তাকে একটা অবস্থানে ন দাড় করাতে কাজ করে শেষোতক গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনে নিজের পরিবর্তে পুত্র মাহবুবুর রহমান রুহেলকে কেন্দ্র থেকে দলের মনোনয়ন পাইয়ে দেন এমপি’র জন্য। আর যেনতেন আকারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাকে মীরসরাইয়ের এমপি বানিয়ে নেন।
সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দোর্দণ্ড প্রভাবশালী নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তার সরকারের পতনের পর একেবারেই কোণঠাসা হয়ে পড়েন। দীর্ঘ বেশ কয়েক দিন তিনি পালিয়ে ও বেড়িয়ে ছিলেন। তাতে ও রক্ষা পাননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। অবশেষে গ্রেপ্তার হয়ে বেশ কিছু দিন জেলহাজতে থাকতে হয়েছিলো তাকে। অনেক দেনদরবার এবং শারিরীক অবস্থা বিবেচনায় তাঁকে জামিন দেয়া হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হচ্ছিলো। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি বুধবার সকালে
মৃত্যু বরণ করেন।
একজন মানুষ জীবদ্দশাবস্থায় যতোই ভুল-দোষত্রুটি করুক না কেনো মৃত্যুর পর তার আর সেই কর্ম পরিচয় থাকে না।
আর সেই কারণে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ও এমপি এবং মন্ত্রী হিসেবে মীরসরাই উপজেলার নাগরিকগণ গর্ববোধ করতে পারেন। তবে, মীরসরাইয়ের মানুষের আশাতীত সফলতা পাওয়া না যাওয়ায় খানিকটা ত্যাক্তবিরক্ত হলে ও তার মৃত্যুর পর অতীতের সেই সব কিছু মনে না রেখে একজন মুসলমান হিসেবে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছেন মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা/কর্মচারী সহ প্রায় সব মানুষ।
পারিবারিক ভাবে তার নামাজে জানাজা ও দাফনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :