চট্টগ্রামের চন্দনাইশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’র স্মৃতিবিজড়িত বৈঠকখানা পুনর্নির্মাণ


sohel প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩, ২০২৫, ১১:৪৪ অপরাহ্ন /
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’র স্মৃতিবিজড়িত বৈঠকখানা পুনর্নির্মাণ
[pnc_photonews_button]

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : সাবেক সেনাবাহিনীর প্রধান, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এর বরুমতি খালের খননকাজ শেষে ১৯৮০ সালে যে বৈঠকখানায় বিশ্রাম নিয়েছিলেন, সেটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) এ বৈঠকখানার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন।
মেয়র বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা এবং অর্থনৈতিক মুক্তির দর্শন আজও সমান প্রাসঙ্গিক। জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি কৃষি, গার্মেন্টস ও মানবসম্পদ উন্নয়নের যে দর্শন তিনি দিয়েছিলেন, তা-ই আজকের সংকট উত্তরণের মূল চাবিকাঠি।
শহীদ জিয়ার নির্দেশিত কৃষি বিপ্লব আমাদের খাদ্য স্বনির্ভরতার পথে নিয়ে গিয়েছিলো। যদি আমরা আবারও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে চাই, তবে তার দর্শনে ফিরে গিয়ে কৃষি ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি ছিলো অর্থনৈতিক মুক্তির দর্শন।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সারাদেশে যে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন, তার অংশ হিসেবেই তিনি চন্দনাইশের হারলা গ্রামের এই বরুমতি খালের উদ্বোধন করেছিলেন।
কৃষিকে জনপর্যায়ে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখার এই কর্মসূচি ছিলো এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।
শহীদ জিয়ার জীবদ্দশায় কর্ম ময়ের এমন স্মৃতিচারণ করে ডাঃ শাহাদাত বলেন, কালের বিবর্তনে শহীদ জিয়ার স্থাপিত স্মৃতিফলকটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। আজ পুনর্নির্মিত এই স্মৃতিফলক ও বৈঠকখানা আমাদের ইতিহাসকে নতুন করে ধারণ করছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া যেই স্থানে বসে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন, ঠিক সেই স্থানে আজ আমরা আবারও তার অবদান স্মরণ করছি।
খাল খনন ও সংস্কার কর্মসূচি শুধু গ্রামীণ উন্নয়নেই নয়, নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণেও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু, বর্তমানে খাল ও নদী দখল, দূষণ, বিশেষ করে পলিথিন ও প্লাস্টিকের স্তর বৃদ্ধি মারাত্মক পরিবেশগত হুমকি তৈরি করছে। কর্ণফুলী, হালদা ও সাঙ্গু নদীর দূষণরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শহীদ জিয়া ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশের মডেল তৈরি করা। এই খাল খনন কর্মসূচি চলমান থাকলে বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রতিবছর যে বন্যা দেখা যাচ্ছে তা এতটা প্রকট হতো না।
ডাঃ শাহাদাত বলেন, খাল খনন কর্মসূচি বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলো। দেড় বছরে এক হাজার ৫শ’টির বেশি খাল খনন ও পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল, যা সেচব্যবস্থার উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করেছিলো। ১৯৭৯-৮১ সালের মধ্যে ২৭৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করা হয়। যে খাল খনন কর্মসূচির ফলে ১৯৮০ সালে খাদ্য উৎপাদন ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। এই কর্মসূচি গ্রামীণ স্বনির্ভরতা বাড়াতে সহায়ক ছিলো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবার পরিকল্পনা সম্পাদক ডাঃ মহসিন জিল্লুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মোঃ ইদ্রিস মিয়া, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সম্পাদক বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ ইখতিয়ার হোসেন, মোঃ জসিম উদ্দিন, খন্দকার হেলাল উদ্দিন সিআইপি, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মন্জুর আলম তালুকদার, চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুর রহমান খাঁন, বাহাউদ্দীন চৌধুরী, সাইফুল করিম, আরিফুর রহমান মারুফ, চন্দনাইশ পৌরসভা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম শহীদ, অলি হোসেন মুন্সি, মোরশেদুল আলম, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য ইন্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম, পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক আজম খান ও সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।