

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশের দেয়া অভিযোগ পত্র গ্রহণ করেছেন বিজ্ঞ আদালত।
২৫ আগষ্ট (সোমবার) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলা উদ্দিন মাহমুদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি অঞ্চল) মাহফুজুর রহমান গত ১ জুলাই সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় ব্রহ্মচারী সহ ৩৮ জনকে আসামি করে চট্টগ্রাম আদালতে অভিযোগ পত্রটি জমা দেন। তবে, তদন্তে পাওয়া সুকান্ত নামের এক আসামির নাম অভিযোগ পত্র থেকে বাদ দেয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলার বাদী সুকান্ত নামের ওই ব্যক্তিকে ও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত বাদীর আবেদন মঞ্জুর করে মোট ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র গ্রহণ করেছেন।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ মে আদালত চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে আইনজীবী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। তবে, আজকের হাজির হওয়ার দিন চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে আদালতে হাজির করা হয়নি। সূত্র জানায়, তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকাবস্থায় থেকে ভার্চ্যুয়ালি শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় ব্রহ্মচারীর জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা এবং আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের ওপর হামলা সহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরো ৫টি মামলা দায়ের হয়। ৬টি মামলায় গ্রেপ্তার হন ৫১ জন।
আদালত সূত্র জানায়, সাইফুল হত্যার আসামিদের মধ্যে চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবীর ঘাড়ে বঁটি দিয়ে দুটি কোপ দেন রিপন দাস। আর কিরিচ দিয়ে কোপান চন্দন দাস। পরে রাস্তায় পড়ে থাকা সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এই আইনজীবীকে লাঠি, বাটাম, ইট, কিরিচ ও বঁটি দিয়ে তাঁরা ১৫ থেকে ২০ জন পিটিয়ে হত্যা করেন।
আপনার মতামত লিখুন :