

সাগর নিজেস্ব প্রতিবেদক,
নওগাঁর মান্দায় ডলার দেওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া এবং পরে আরও ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও তাঁকে জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কথিত ডলার প্রতারক চক্রের প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের মধ্যমৈনম (সরদারপাড়া) গ্রামের হাফিজুর রহমান সবুজ (২৯) ও আব্দুল মতিন (২০)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজন ডলার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য।
মামলার বাদী আব্দুর রহিমের বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পনার গ্রামে। তিনি ঢাকার আল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে তিনি মান্দা থানায় এ মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হাফিজুর রহমান ওই রিক্রুটিং এজেন্সিতে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। এ সুবাদে প্রতিষ্ঠানের মালিক ইউনুছ আলীসহ কর্মচারীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে ওঠে। গত ২৫ জুলাই হাফিজুর মুঠোফোনে আব্দুর রহিমকে জানান, তাঁর কাছে কিছু ডলার রয়েছে এবং তিনি সেগুলো রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ভাঙিয়ে টাকা নিতে চান। বিষয়টি আব্দুর রহিম এজেন্সির মালিককে জানান।
এরপর গত ১ আগস্ট হাফিজুর ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গিয়ে নমুনা হিসেবে ১০ ডলারের পাঁচটি নোট দেখান। এতে আব্দুর রহিমের বিশ্বাস তৈরি হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ আগস্ট ভোরে বাসযোগে ঢাকা থেকে নওগাঁ আসেন আব্দুর রহিম। পরে তিনি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক থেকে ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। দুপুরের দিকে হাফিজুরের সঙ্গে তাঁর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
ওই দিন সন্ধ্যার দিকে ডলার কেনার জন্য হাফিজুরকে ৫ লাখ টাকা দেন আব্দুর রহিম। পরে ডলার চাইলে হাফিজুর তাঁকে মোটরসাইকেলে করে সন্ধ্যা সাতটার দিকে মান্দা ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ে যান।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ফেরিঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকার শ্রমিক অফিসের পাশে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড কক্ষে আব্দুর রহিমকে নিয়ে জিম্মি করা হয়। এ সময় হাফিজুরের সহযোগীরা তাঁর কাছে থাকা আরও ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় আব্দুর রহিম বাদী হয়ে হাফিজুর রহমান সবুজ, আব্দুল মতিন, এনামুল হক, মাহফুজুর রহমান সুমন, জয়নাল, আল মামুন ও কনক কুমারসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে হাফিজুর রহমান সবুজ ও আব্দুল মতিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাফিজুরের বাড়ি থেকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :