পূর্বাহ্ণ ১০:৪৭
বুধবার
১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় আবারও ফিরে এলো নতুন বছর পহেলা বৈশাখ


sohel প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১২, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ন /
ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় আবারও ফিরে এলো নতুন বছর পহেলা বৈশাখ

আমাদের জন্মভূমি নিউজ ডেক্স
বছর ঘুরে আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ মানেই পুরাতন বছরের জীর্ণতা ও ক্লান্তির অবসান ঘটিয়ে নতুন উদ্যমে আরেকটি বছরের সূচনা। ঐক্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধনের অঙ্গীকার নিয়ে আর মাত্র একদিন পর দেশব্যাপী উদযাপিত হতে যাচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন-আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আনন্দের এক অপূর্ব মিলনমেলা। এই দিনটি শুধু নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং বাঙালির হৃদয়ে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের দিন। একসময় ঢাকার রমনার বটমূল চত্বর থেকে সীমিত পরিসরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হলেও বর্তমানে এটি সারা দেশব্যাপী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে থাকে। ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই চারপাশে ভেসে ওঠে “এসো হে বৈশাখ এসো-এসো” গানের সুর। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত মানুষজন, মুখে হাসি আর মনে উচ্ছ্বাস নিয়ে বেরিয়ে পড়ে উৎসবের আনন্দে শামিল হতে। গ্রাম থেকে শহর-সবখানেই দেখা যায় মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলিশ,সজনে ডাটা ও ডাল ঘন্টের আয়োজন, বৈশাখী মেলা এবং নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরনো বছরের সব গ্লানি ও দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা জাগায় এই দিনটি।

পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায় সরলতা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের মূল্য। ধর্ম, বর্ণ বা শ্রেণিভেদ ভুলে সবাই একসাথে উদযাপন করি এই দিন। ব্যবসায়ীরা হালখাতা খুলে নতুন বছরের হিসাব শুরু করেন, আর সাধারণ মানুষ নতুন পোশাক পরে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়-জীবন মানেই নতুন করে শুরু করার সুযোগ।

পহেলা বৈশাখ এখন সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। গ্রাম থেকে শহর, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নগর-সবখানেই মানুষ আনন্দ, উৎসাহ ও ভালোবাসা নিয়ে এই দিনটি উদযাপন করেন। এই সার্বজনীন উদযাপনই প্রমাণ করে, পয়লা বৈশাখ বাঙালির হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত এক অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক বন্ধন।

এদিন বিভিন্ন এলাকায় বসে বৈশাখী মেলা। মেলায় পাওয়া যায় নানা ধরনের খেলনা ও মিষ্টির দোকান। এছাড়া দিনভর চলে বাংলা লোকসংস্কৃতির আকর্ষণীয় খেলা ও আয়োজন যেমন-লাঠিখেলা, গোল্লাছুট, হাডুডু, হাঁড়ি ভাঙা এবং জারি-সারি গান, যা উপভোগ করে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলে।

এদিকে এই সার্বজনীন উৎসবকে কেন্দ্র করে মার্কেট গুলোতেও লেগেছে বৈশাখের ছোঁয়া। উপজেলার বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, বৈশাখ উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা সাজিয়েছেন নানা পণ্যের পসরা। অনেক দোকানেই দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড়। গত কয়েকদিন ধরেই এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।এই দিনটি উপলক্ষে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে শিশু ও বয়স্করাও।

ঈদ ও পূজার মতোই নতুন পোশাক কেনার ধুম পড়েছে দোকান গুলোতে। বাংলার ঐতিহ্য কুলা, ঢেঁকি, মাথল, ডুগি, তবলা, একতারা অংকন করা লালপেড়ে সাদাশাড়ি, ফতুয়া, পাঞ্জাবী ও গামছা কিনতে প্রধান প্রধান মার্কেট গুলিতে নেমেছে মানুষের ঢল । এদিক থেকে মাঝ বয়সিরাও পিছিয়ে নেই, বৈশাখী উৎসবের আয়োজন থেকে। তারাও কিনছেন সাধ্যমত পোশাক।

এক কথায় পহেলা বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। নতুন বছরের আগমনে আমরা পুরনো সব গ্লানি ভুলে নতুন আশায় বুক বাঁধি। এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়-ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকলেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই আসুন, সকল ভেদাভেদ ভুলে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বরণ করি বাংলা নববর্ষকে এবং গড়ে তুলি একটি সাম্যের, সম্প্রীতির ও মানবিক বাংলাদেশ