

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : দেশের লাইফলাইন খ্যাত বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম শহরে প্রকাশ্যে চলন্ত পিকআপ থামিয়ে ৫০ লাখ টাকার সিগারেট লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা।
সূত্র মতে, চট্টগ্রাম মহা নগরীর ব্যস্ততম: এলাকা ‘লাভলেইন’ মোড়ে পিকআপ ভ্যানের গতিরোধ করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের বিদেশী সিগারেট লুটে নেয়ার মতো দুঃসাহসীক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ২-৩ জনকে আসামি করে শহরের কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে লাভলেইন মোড়ের অ্যাপোলো-১১ পেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আর মামলার খবর পাওয়া যায় ২৪ সেপ্টেম্বর।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে কাজীর দেউড়ির এসএ পরিবহন থেকে প্রায় ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট বোঝাই করে একটি পিকআপ রিয়াজউদ্দিন বাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। পিকআপটি চালাচ্ছিলেন মোঃ আনোয়ার হোসেন। তার সাথে ছিলেন হেলপার মোঃ জাহিদ হোসেন।
দুপুর দেড়টার দিকে পিকআপটি লাভলেইন মোড়ের অ্যাপোলো-১১ পেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত আকস্মিক ভাবে এর গতিরোধ করে। এ সময় তারা চালক আনোয়ার হোসেনের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চালক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা আনোয়ারকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করে। চালককে রক্ষা করতে হেলপার মোঃ জাহিদ এগিয়ে গেলে তাকে ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে জাহিদের নাকে গুরুতর জখম হয়।
এর পর পিকআপে থাকা ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাতনামা গাড়িতে তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা।
পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে চালক ও হেলপারের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আহত চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন-মোঃ হৃদয়, শুরুর, নয়ন, ফরহাদ, মোঃ শফি আলম, মোঃ আদি এবং মোঃ আফসার।
এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আর ও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :