

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:নাটোরের লালপুর থানা এলাকার পদ্মা নদীর কিনারে একটি স্পিডবোট থেকে মোঃ আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ৯ জুনবিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লালপুর থানাধীন চর জাজিরা মৌজায় পদ্মা নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।নিহত আজিজুল হক ঝড়ু নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাবনা পাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল শেখ ও হাসিনা বেগমের ছেলে। তিনি চারঘাট এলাকায় জনৈক কাকনের বালুর পয়েন্টে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ৮ জুনদিবাগত রাত ১২টা থেকে আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও রাজশাহীর বাঘা থানাধীন ‘হবির চর’ এলাকায় বালি মহালের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বেলাল গ্রুপ ও কাকন গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উক্ত গোলাগুলির ঘটনায় আজিজুল হক ঝড়ু মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে কে বা কাহারা তাকে একটি স্পিডবোটে করে নদীপথে লালপুর থানার চর জাজিরা মৌজার পদ্মা নদীর কিনারায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।ঘটনার খবর পেয়ে হবির চর থেকে শুরু করে লালপুর থানা সীমানার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদীর কিনারায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর বিকেল ৩:৩০ ঘটিকার সময় বর্ণিত স্থানে নিচে সবুজ ও বডিতে নীল রঙ করা একটি স্পিডবোটের ভেতর থেকে ওই যুবকের মরদেহ শনাক্ত করা হয়। সুরতহালে দেখা যায়, নিহতের বাম চোখের ওপরের পাশে গুলি লেগে মাথার অপর পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে।ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সহ লালপুর থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বর্তমানে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জনাব খন্দকার শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে সুরতহাল ও লাশ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়াসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাঘা থানাধীন বেলাল গ্রুপের সাথে বালু মহালের আধিপত্য বিস্তারের পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার বা আটক হয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :