

মোঃরাজু আহমেদস্টাফ রিপোর্টার
আটকে পবার ইটাঘাঁটিতে..
নদীর বাঁধে আটকে জনজীবন: ইটাঘাঁটি-আলাই বিদের পুর সড়কের মাঝে নদী, প্রতিদিন ভোগান্তি হাজারো মানুষের
পবা, রাজশাহী: রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভা ও বড়গাছি ইউনিয়নকে সংযুক্তকরে ইটাঘাঁটি থেকে আলাই বিপদের পুর পর্যন্ত সড়কের মাঝখানে একটি নদী বয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ। সেতু না থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইটাঘাঁটি গ্রাম থেকে আলাই বিপদের পুরের দিকে যাওয়া মাটির রাস্তা ও পাকা সড়কটি হঠাৎ করেই নদীতে গিয়ে ঠেকেছে। বর্ষায় পানি বেড়ে গেলে নদীর স্রোত এতটাই তীব্র হয় যে নৌকা ছাড়া পারাপার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমেও নদীর পানি হাঁটু সমান থাকে, ফলে মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশা কিছুই চলতে পারে না। মানুষ বাধ্য হয়ে কোমর পানিতে নেমে পার হচ্ছে।
ইটাঘাঁটি গ্রাম বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার মেয়ে নওহাটা কলেজে পড়ে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যেতে তাকে এই নদী পার হতে হয়। বর্ষায় কয়েকবার ব্যাগ-বই ভিজে গেছে। একবার পড়ে গিয়ে হাতও ভেঙেছিল।”
ইটাঘাঁটি গ্রাম,বড়গাছি ইউনিয়নের বাসিন্দা মোসলেমা বেগম জানান, “জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে নিতে হলে এই রাস্তা ধরেই যেতে হয়। কিন্তু নদীর কারণে অ্যাম্বুলেন্স আসতে পারে না। অনেক রোগী পথেই কষ্ট পায়।”
বড়গাছি ইউনিয়ন মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা। ধান, পাট, সবজি নিয়ে কৃষকরা নওহাটা বাজারে আসেন। কিন্তু নদীর কারণে গাড়ি পারাপার না হওয়ায় তাদের মাথায় করে বা ভ্যানে অল্প অল্প করে পণ্য পার করতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে, আবার অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে এই রাস্তা ব্যবহার হচ্ছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত নদীর ওপর কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। বারবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি।
নওহাটা পৌরসভার এক কাউন্সিলর বলেন, “এই রাস্তা নওহাটা পৌরসভা ও বড়গাছি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। সেতু হলে দুই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরে জানিয়েছি।”
পবা উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, “জায়গাটি আমরা পরিদর্শন করেছি। সেতু নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে সরকারের উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা। তা না হলে শীত-বর্ষা মিলিয়ে বছরের বেশিরভাগ সময়ই এই অঞ্চলের মানুষ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকবে।
এলাকাবাসীর দাবি, সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প হিসেবে অন্তত একটি টেকসই বেইলি ব্রিজ স্থাপন করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক…
আপনার মতামত লিখুন :