চিরনিদ্রায় আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

দেশের খবর
Spread the love

আমাদের জন্মভূমি নিউজ ডেক্স

বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল ও আপসহীন অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। আজ সকাল ৬টায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও জনগণের অধিকার আদায়ের এক সাহসী প্রতীক। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে যেসব নারী নেতৃত্ব দৃঢ়তার সঙ্গে পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তাঁদের মধ্যে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও খুব দ্রুতই তিনি নিজ গুণে একজন শক্তিশালী ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
দীর্ঘ শত্রুতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁকে বছরের পর বছর দুঃশাসনের নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। একের পর এক মামলা, কারাবরণ ও মানসিক চাপ তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। নির্যাতনমূলক পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তিনি মুক্তি লাভ করলেও অসুস্থতা আরও বেড়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শাসনামলে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নানা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন আপসহীন বিরোধী নেত্রী—স্বৈরতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে যার কণ্ঠ কখনো নীরব হয়নি।
রাজপথের আন্দোলন থেকে সংসদের বিতর্ক—সবখানেই তাঁর দৃঢ় অবস্থান তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি কখনো গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেননি। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ ও দৃঢ়তার এক দীর্ঘ ইতিহাস।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।
একটি অধ্যায়ের ইতি টানলেও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *