
আমাদের জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক
দেশ জুড়ে সুনাম রাজশাহী আমের জন্য বিখ্যাত। আর সেই সুনাম মুলত চারঘাট ও বাঘা অঞ্চলের আম নিয়ে। আমের ন্যায্য দাম, অস্বাভাবিক ভাবে আম উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি ও আম গাছে তুলনামুলক ভাবে আম না আসা সহ বিভিন্ন কারনে আম গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে আম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে উজাড় করা হচ্ছে আমের বাগান। রাজশাহী জেলায় গেল দুই বছরে ১ হাজার হেক্টরের বেশি আমের গাছ কাটা হয়েছে।
আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, গত ৫-৬ বছর ধরে আম বাগান থেকে আসেনি কাঙ্খিত কোন সুফল। ফলে চাঙা হয়নি আমের বাজার। তাই বাধ্য হয়ে আমবাগান কেটে ধান, গম, সবজি, আদা, হলুদ, পেয়ারা, বরই, ড্রাগন ইত্যাদি চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, সরকারি হিসাব অনুযায়ী গত ২ বছরে রাজশাহী অঞ্চলে ১ হাজার ৭১৪ হেক্টর আম কেটে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চারঘাট উপজেলাতেই কেটে ফেলা হয়েছে ৪১৬ হেক্টর জমির আমের বাগান। অন্যদিকে বাঘায় কাটা হয়েছে ৫১০ হেক্টর জমির আম বাগান।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার কেটে ফেলা ১৯ হাজার হেক্টর আম বাগানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমের গাছ কাটা হয়েছে জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায়। আম প্রধান এলাকায় এভাবে আমের গাছ কেটে ফেলায় অর্থনৈতিক ভাবে এ অঞ্চল মারাক্তক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা আম ব্যবসা ও চাষ বন্ধ করে দিয়ে এখন বিকল্প পেশার দিকে ছুটছেন। ফলে বছরের পর বছর ধরে চলছে আম বাগান কাটার হিড়িক।
চারঘাট উপজেলার বুদিরহাট এলাকার আম চাষী আব্দুল মান্নাফ বলেন, প্রায় সাড়ে ৫ বিঘা বিঘা জমিতে খিরসাপাত, ল্যাংড়া, আম্রপালির মতো জাতের আম গাছ রোপণ করেছিলাম। সেই বাগান এবার কেটে ফেলা হয়েছে। আম উৎপাদনে এখন ব্যাপক খরচ। বছর জুড়ে খরচ করে শেষ সময়ে গাছে আসেনা কাঙ্খিত উৎপাদন। এতে প্রতি বছরই লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই আম বাগান কেটে অন্য ফসল ফলানোর চেষ্টায় আম বাগান কেটে ফেলা হচ্ছে।
উপজেলার নিমপাড়া এলাকার চাষি আবু সাঈদ হিরু বলেন, বছরে একটি ফসলের উপর নিভির্েশল। বছর শেষে গাছে ফল না আসলে মাথায় কাজ করে না। আবার যে পরিমান আম ধরে তা বিক্রি করে খরচ উঠে না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে আম বাগান কেটে অন্য ফসল করার চেষ্টা করছি।
চারঘাটে বিশিষ্ট আম ব্যবসায়ি শিক্ষক আব্দুল মান্নাফ বলেন, এক সময় রাজশাহী অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে আম হতো। এখন রাজশাহীর পরিবর্তে বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক আম চাষ হচ্ছে। রাজশাহীর পার্শ্ববর্তী নওগা ও সাতক্ষীরা জেলায় এখন ব্যাপক আম চাষ হচ্ছে। আর এসব অঞ্চলের আম রাজশাহীর চেয়ে অনেক আগে বাজারে আগে আসে। ফলে নওগা ও সাতক্ষিরা অঞ্চলের চাষী আমের ভালো দাম পান।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ চারঘাট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান বলেন, এ অঞ্চলের কিছু এলাকায় আম গাছ কর্তন করা হচ্ছে। তবে আম গাছ কেটে ফেলা হলেও ওই সকল জমিতে আবার নতুন ভাবে উৎপাদনশিল আম গাছ লাগানো হচ্ছে।
