গাজার ‘প্রধানমন্ত্রীকে’ হত্যার দাবি ইসরায়েলের

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক :
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ডি-ফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী ইশাম দা’লিসকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েল। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ভোরে গাজাজুড়ে ব্যাপক বোমা হামলা চালায় ইসরায়েল। এ হামলায় ইশাম দা’লিস নিহত হন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এসব তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার ভোরে গাজার ঘুমন্ত মানুষের ওপর বর্বরোচিত বোমা হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে চারশরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে অসংখ্য নারী ও শিশু রয়েছে।

এদিকে, গাজায় ইশাম দা’লিসের পদবী ছিলো ‘সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ’ কমিটির প্রধান, যা প্রধানমন্ত্রীর সমপর্যায়ের। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসরাইলের হাতে রৌহি মুশতাহার নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন হামাসের ডি-ফ্যাক্টো প্রাধানমন্ত্রী ইসাম দা’আলিস। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ভাষ্য, দা’আলিস গাজা উপত্যকায় হামাস শাসনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং সংগঠনটির সব শাখার মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

আইডিএফ ঘোষণা করেছে, হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকার ‘ডি-ফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী’ ও গোষ্ঠীটির আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে তারা।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, ইশাম দা-লিস ছাড়াও গাজার হামাস সরকারের বিচার মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আহমেদ আল-খাত্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আবু ওয়াতফা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান বাহজাত আবু সুলতান নিহত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মাহমুদ আবু ওয়াতফা হামাস সরকারের পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করতেন।

এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, বিস্তৃত অভিযানের অংশ হিসেবে তারা মঙ্গলবার ভোর থেকে গাজা উপত্যকার কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। সেসময় তারা হামাসের ওই চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ‘টার্গেট করে’ হত্যা করেছে। এই হামলায় আল-খাত্তা, আবু ওয়াতফা এবং আবু সুলতানের নিহত হওয়ার খবরও নিশ্চিত করা হতে পারে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

ইসরায়েল বলছে, এই হামলার লক্ষ্য হলো হামাসের সামরিক ও সরকারি সক্ষমতাকে আঘাত করা এবং ইসরায়েল ও এর নাগরিকদের জন্য হুমকি দূর করা। এমনকি, দখলদার দেশটি হুমকি দিয়ে আরও বলেছে, যদি তাদের জিম্মিদের হামাস ছেড়ে না দেয়, তাহলে গাজায় এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে




হোলির রং মাখতে না চাওয়ায় ভারতে যুবককে হত্যা

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক :
হোলির আগে রং মাখতে না চাওয়ায় এক যুবককে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভারতের রাজস্থানে। পুলিশ জানিয়েছে, গত বুধবার দৌসার রালওয়াস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, হংসরাজ নামে ২৫ বছর বয়সী এক যুবক স্থানীয় গ্রন্থাগারে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আশোক, বাবলু ও কালুরাম নামে তিন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে তাকে হোলির রং মাখাতে চান। কিন্তু হংসরাজ এতে রাজি না হওয়ায় তারা তাকে লাথি মারেন এবং বেল্ট দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন।

একপর্যায়ে এক অভিযুক্ত তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) দিনেশ আগরওয়াল।

এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ পরিবার ও গ্রামবাসীরা হংসরাজের মরদেহ নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন, যা রাত ১টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তারা নিহতের পরিবারকে ৫০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ, পরিবারের একজন সদস্যের জন্য সরকারি চাকরি এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয়




মস্কোতে রাতভর ‘ব্যাপক’ ড্রোন হামলা

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক:
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলে রাতভর ব্যাপক ড্রোন হামলায় কমপক্ষে একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে হামলা হয়েছে ইউক্রেনেও। কর্তৃপক্ষের বরাতে বিবিসি আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়েভ বলেছেন, রাজধানীর ঠিক বাইরে ভিদনয়ে এবং ডোমোদেদোভো শহরে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। একটি আবাসিক ভবনের সাতটি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, শহরের দিকে অগ্রসর হওয়া ৭৩টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে একটি ভবনের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, হামলার পর একটি জেলা ট্রেন নেটওয়ার্ক স্থগিত করা হয়েছে। মস্কোর বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে এটি সবচেয়ে বড় হামলা।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে সৌদি আরবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি জরুরি বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে এই হামলা হলো।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে গভর্নর ভোরোবিয়েভ মস্কো অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর একটি এবং পুড়ে যাওয়া গাড়ির ছবি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রাতভর হামলার পর তিন শিশুসহ ১২ জনকে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাট থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

মস্কোর শেরেমেতিয়েভো, ডোমোদেদোভো এবং ভনুকোভো বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মস্কো এবং রাশিয়ার নয়টি অঞ্চলে রাতে ৩৩৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন আটকানো হয়েছে অথবা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ইউক্রেন এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

এদিকে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা রাজধানী কিয়েভ এবং আরও বেশ কয়েকটি অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলার খবর জানিয়েছেন। এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।




শিক্ষা বিভাগ বিলুপ্তির নির্দেশ দিতে চলেছেন ট্রাম্প?

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক :
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের কথা বিবেচনা করছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করে দেবে। এটি দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণশীলদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। এই পদক্ষেপটি তার নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প শিক্ষা বিভাগের কিছু কর্মসূচি বন্ধ করতে চান, আর কিছু অন্য সরকারি সংস্থার অধীনে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দেখা খসড়া আদেশ অনুযায়ী, ‘আইনসম্মত সর্বোচ্চ সীমার ভিত্তিতে’ ট্রাম্প তার সদ্য নিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকমাহনকে ‘শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে’ নির্দেশ দেবেন। তবে শিক্ষা বিভাগ পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিভাগটি সরকারি স্কুলের জন্য তহবিল পরিচালনা করে, শিক্ষার্থীদের ঋণ প্রদান করে এবং নিম্নআয়ের শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে। ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা এই সংস্থাটির বিরুদ্ধে ‘তরুণদের অনুপযুক্ত জাতিগত, যৌন ও রাজনৈতিক উপাদান শেখানোর’ অভিযোগ এনেছেন।

গত ডিসেম্বর ট্রাম্প সাবেক ওয়ার্ল্ড রেসলিং এন্টারটেইনমেন্টের (ডব্লিউডব্লিউই) সিইও ও তার রূপান্তরকালীন কমিটির সহসভাপতি লিন্ডা ম্যাকমাহনকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন। তবে সিনেট এখনো তার নিয়োগ চূড়ান্ত করার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেনি।

শিক্ষা বিভাগ কী করে
একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো, শিক্ষা বিভাগ মার্কিন স্কুল পরিচালনা করে ও পাঠ্যসূচি নির্ধারণ করে। প্রকৃতপক্ষে এসব দায়িত্ব অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় জেলা কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত।

এই সংস্থাটি মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ কর্মসূচি তদারকি করে এবং নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘পেল গ্রান্ট’ প্রদান করে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া সংস্থাটি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসূচি চালাতে অর্থ প্রদান করে। পাশাপাশি শিক্ষা বিভাগ এমন নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ করে, যা সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুলে জাতিগত বা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।

বাজেট ও কর্মী সংখ্যা
২০২৪ অর্থবছরে শিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা মোট কেন্দ্রীয় বাজেটের ২ শতাংশেরও কম। এই সংস্থাটিতে প্রায় চার হাজার ৪০০ কর্মী রয়েছে, যা মন্ত্রিসভা স্তরের সংস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট।

মার্কিন স্কুলগুলোর জন্য বেশির ভাগ সরকারি তহবিল অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার সরবরাহ করে। ২০২৪ সালে এডুকেশন ডাটা ইনিশিয়েটিভ অনুমান করেছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় মোট ৮৫৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা শিক্ষার্থী প্রতি ১৭ হাজার ২৮০ ডলারের সমতুল্য।

ট্রাম্প কি শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করতে পারবেন
এর উত্তর হলো, এককভাবে, না। শিক্ষা বিভাগ বিলুপ্ত করতে শুধু কংগ্রেসের অনুমোদন হলেই হবে না, বরং মার্কিন সিনেটে সুপারমেজরিটি (১০০ জনের মধ্যে ৬০ জন সিনেটরের সমর্থন) প্রয়োজন হতে পারে।

সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ফলে তাদের অন্তত সাতজন ডেমোক্র‍্যাট সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন, যা রাজনৈতিকভাবে দুরূহ। এমনকি হউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসেও ট্রাম্পের পক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া কঠিন হতে পারে।

গত বছর একটি বিলের সংশোধনী হিসেবে শিক্ষা বিভাগ বিলুপ্ত করার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল। তবে সেটি ব্যর্থ হয়। কারণ ৬০ জন রিপাবলিকান সব ডেমোক্র‍্যাটের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন।

এদিকে ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অন্যান্য সরকারি বিভাগ সংকুচিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন, যদিও এসব উদ্যোগের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে পাওয়া ট্রাম্পের খসড়া আদেশে বলা হয়েছে, শিক্ষা বিভাগ পুরোপুরি বিলুপ্ত করার ক্ষমতা শুধু কংগ্রেসের রয়েছে। তবে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্থাটিকে নিজেকে তার কার্যক্রম ধাপে ধাপে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া ফেডারেল কর্মীর সংখ্যা হ্রাস করার জন্য প্রশাসনের প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষা বিভাগের কর্মীরাও রয়েছেন।

কেন রিপাবলিকানরা এটি বিলুপ্ত করতে চান
শিক্ষা বিভাগ বিলুপ্ত করার ধারণা প্রায় যত দিন ধরে সংস্থাটি বিদ্যমান, তত দিন ধরে রিপাবলিকানদের আলোচনায় রয়েছে। ১৯৮০ সালের নির্বাচনী প্রচারে রোনাল্ড রিগান এটি বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

রিপাবলিকানরা ঐতিহাসিকভাবে শিক্ষানীতি কেন্দ্রীয়করণের বিরোধী। তারা বিশ্বাস করেন, এটি রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের হাতে থাকা উচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা শিক্ষা বিভাগকে শিশুদের মধ্যে ‘জাগ্রত’ (উদার) রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারের অভিযোগ এনেছে, বিশেষ করে লিঙ্গ ও জাতি বিষয়ক পাঠ্যসূচি নিয়ে।

এদিকে ট্রাম্পের মিত্ররা স্কুল বেছে নেওয়ার সুযোগ বাড়াতে চান, যাতে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবাররা সরকারি অর্থ ব্যবহার করে সরকারি স্কুলের বদলে বেসরকারি বা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারেন।

রক্ষণশীলদের মতে, শিক্ষার্থীদের ঋণ প্রদানের মতো শিক্ষা বিভাগের অন্যান্য কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের আওতায় থাকা উচিত এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত।




আরোহী নিয়ে ভারতে জরুরী অবতরণ বাংলাদেশ বিমানের

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক:
৪০৮ জন আরোহী নিয়ে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের নাগপুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া এই ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইতে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছেন, জরুরি অবতরণ করা এই ফ্লাইটটিতে চার শতাধিক আরোহী ছিলেন।

অফাবৎঃরংবসবহঃ

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ঢাকা থেকে দুবাই যাওয়ার পথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ৩৯৬ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু নিয়ে মহারাষ্ট্রের নাগপুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বলে কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন।

নাগপুর বিমানবন্দরের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে ফ্লাইটটি ডাইভার্ট করা হয় এবং পরে জরুরি অবতরণ করে সেটি।

ফ্লাইটটিতে ৩৯৬ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু সদস্য রয়েছেন বলে অন্য একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যাত্রীদের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আরেকটি ফ্লাইটে উঠিয়ে দেওয়া হবে।




ব্রিটিশরা ২০০ বছরে এদেশ থেকে কত টাকা লুটপাট করেছিল?

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক :
সেদিন ছিল মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের জন্মদিন। মুঘল ঐতিহ্য অনুসারে সম্রাটকে পাল্লায় তুলে ওজন করা হচ্ছিলো। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ দূত স্যার থমাস রো। চারপাশ পানিতে ঘেরা চতুষ্কোণ এক মঞ্চে অনুষ্ঠান চলছিল।

মঞ্চের ঠিক মাঝখানে স্বর্ণে মোড়ানো বিশাল এক দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করা হয়।
পাল্লার এক পাশে উঠে বসেছিলেন চতুর্থ মুঘল সম্রাট নুর-উদ-দিন মোহাম্মদ সেলিম, যিনি সম্রাট জাহাঙ্গীর নামে পরিচিত। আর অন্য পাশের পাল্লায় রাখা হয় মূল্যবান জিনিসপত্র বোঝাই রেশমের থলি। ভারী পোশাক, মুকুট ও গহনাসহ সম্রাট জাহাঙ্গীরের ওজন হয় প্রায় ১১৪ কেজির মতো।

একদিকে সম্রাট বসে রইলেন, অন্যদিকে রেশমের থলিগুলো বারবার বদল করা হলো।
প্রথমে তাকে রূপার মুদ্রায় ওজন করা হয়, যা সঙ্গে সঙ্গেই বিলিয়ে দেওয়া হয় গরিবদের মধ্যে। এরপর স্বর্ণ, দামি রত্ন, এরপর রেশমের কাপড় এবং শেষে অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী দিয়ে সম্রাটের ওজন মাপা হয়।

প্রায় ৪০০ বছর আগে সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে দেখা ধনসম্পদে এই বর্ণনা নিজের ডায়েরিতে লিখে রেখেছিলেন ব্রিটিশ দূত স্যার টমাস রো।

এই অঢেল সম্পদ দেখে তার মনে সন্দেহ জেগেছিল যে সিল করা রেশমের ব্যাগগুলোর ভেতরে কি সত্যিই হীরা-মানিক ছিল, নাকি শুধুই নুড়িপাথর? প্রশ্ন উঠতে পারে, ব্রিটেনের মতো একটি ছোট দ্বীপের রাষ্ট্রদূত তখন ভারতে কী করছিলেন?
সমৃদ্ধ ভারত থেকে দারির্দ্যের দেশ

অনেকের কাছে অবাক লাগতে পারে যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির আধিপত্যের আগে, সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ ছিল। বিশ্বের মোট জিডিপির এক-চতুর্থাংশ এখানে উৎপাদিত হতো। অথচ একই সময়ে ইংল্যান্ডের অংশ ছিল মাত্র দুই শতাংশ।

ভারতের ভূমি ছিল উর্বর এবং সব ধরনের সম্পদে সমৃদ্ধ ছিল। দক্ষ শ্রমিক ও কারিগরদের জন্য ভারত ছিল বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র।

ভারতীয় সূতি কাপড় ও মসলিনের চাহিদা ছিল বিশ্বজোড়া। জাহাজ নির্মাণ ও ইস্পাত শিল্পেও ভারতের কোনো তুলনা ছিল না।
কিন্তু ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি জয়ের পর এই পুরো পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা যখন ভারত ছাড়ে তখন আলেকজান্ডারের মতো তাদের ঝোলা পূর্ণ ছিল এবং ভারতের হাত ছিল খালি।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিং বলেছিলেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগের একটি শক্ত ভিত্তি রয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

১৭০০ সালে ভারত একাই বিশ্বের ২২ দশমিক ছয় শতাংশ সম্পদ উৎপাদন করত, যা গোটা ইউরোপের মোট সম্পদের প্রায় সমান। কিন্তু ১৯৫২ সালে এই সম্পদের পরিমাণ মাত্র তিন দশমিক আট শতাংশে নেমে আসে। ২০ শতকের শুরুতে ‘ব্রিটিশ রাজের সবচেয়ে উজ্জ্বল রত্ন’ হয়ে ওঠা ভারত, আসলে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হয়ে পড়েছিল।

দুশো বছরের লুটপাটের হিসাব

ব্রিটিশদের ২০০ বছরের শোষণে ভারত ঠিক কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল? এ বিষয়ে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন অনুমান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হলো অর্থনীতিবিদ এবং সাংবাদিক মিনহাজ মার্চেন্টের গবেষণা।

তার হিসাব অনুযায়ী, ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশদের দ্বারা ভারতের মোট আর্থিক ক্ষতি ২০১৫ সালের বিনিময় হার অনুযায়ী ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার।

এক মিনিট থামুন এবং এই বিশাল পরিমাণ অর্থ কল্পনা করুন। এর তুলনায় নাদির শাহের মতো ব্যক্তিও শুধু ১৪৩ বিলিয়ন ডলারে সন্তুষ্ট ছিলেন।

ভারতের ধনসম্পদ এমন ছিল যে ৪০০ বছর আগে সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে ভারত আসলেই এতোটা সমৃদ্ধ! সত্যিই কি মুঘল সম্রাটকে সোনা-রূপা ও হীরাতে ওজন করা হচ্ছে, নাকি থলিগুলোর মধ্যে শুধু নুড়ি পাথর রাখা হয়েছে!

যদি স্যার থমাস রোকে কোনোভাবে ফিরিয়ে এনে এই সংখ্যাগুলো দেখানো যেত, সম্ভবত তার সন্দেহ চিরতরে দূর হয়ে যেত।




হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প, সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করছে রাশিয়া-চীন

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক:
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার একদিন পরেই এই ঘোষণা দিলেন দুই নেতা।

বুধবার রুশ বার্তা সংস্থা টিএএএস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিন ও শি ভিডিও কনফারেন্সে ইউরেশিয়ান নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় নেতা নিশ্চিত করেন যে, রাশিয়া ও চীন একত্রে ইউরেশিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে।

পরে এক বিবৃতিতে পুতিন বলেছেন, ‘আমরা ইউরেশিয়ান অঞ্চল এবং বিশ্বের অবিভাজ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি’।

একই সঙ্গে, চীনে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়া প্রধান সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে আমরা সাইবেরিয়ার জ্বালানি গ্যাস পাইপলাইন চালু করেছিলাম। আজ রাশিয়া চীনের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে’।

পুতিন এ সময় জোর দিয়ে বলেন, মস্কো এবং বেইজিংয়ের সম্পর্ক বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং সমান সুযোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

‘আমাদের সম্পর্ক জাতীয় স্বার্থের বিস্তৃত অভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে এবং বড় শক্তিগুলোর মধ্যে কেমন সম্পর্ক থাকা উচিত, সে বিষয়ে অভিন্ন মতামতের সঙ্গে এগিয়ে চলছে’, যোগ করেন পুতিন।

এদিকে ক্রেমলিনের সহকারী মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানান, গত ১৭ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের বিষয়বস্তু কি ছিল, তা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে তিনি জানিয়েছেন।

উশাকভ বলেন, ‘শি জিনপিং ট্রাম্পের সঙ্গে তার ফোনালাপের সারাংশ পুতিনকে জানিয়েছেন’।

এছাড়াও এই দুই নেতা তাদের ভিডিও কনফারেন্সে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। রুশ নেতা এ সময় ‘এক চীন নীতির’ প্রতি তাদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা গ্রহণের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়েও তারা আলোচনা করেন।

উশাকভ বলেন, ‘ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে’




সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার চরম ক্ষতি করেছেন: তসলিমা নাসরিন

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক :
ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন সম্প্রতি তার ফেসবুকে একটি পোস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। লেখিকার দাবি, শেখ হাসিনা তার অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর ক্ষতি করেছেন এবং তাকে তার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন।

তসলিমা নাসরিন জানান, তার পৈতৃক সম্পত্তি বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য তিনি তার বোনকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন। তবে, শেখ হাসিনার ভয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো কর্মচারী এই ডকুমেন্ট সত্যায়িত করেননি।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েও তিনি কোনো সাড়া পাননি বলে লেখিকা অভিযোগ করেছেন।
তসলিমা উল্লেখ করেছেন, তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আমার মেয়েবেলা’ শেখ হাসিনার শাসনামলে নিষিদ্ধ হয়। লেখিকার প্রশ্ন, ‘কেন আমার বই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল?’ তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে শেখ হাসিনার ‘হিংসা, ঘৃণা এবং দম্ভ’ কাজ করেছে।

তসলিমা আরও জানান, তার বাবা যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তিনি দেশে ফিরে বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিলেন।

শেখ হাসিনার কাছে বারবার অনুরোধ করলেও তিনি সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেন। তসলিমার ভাষায়, ‘তিনি নিজের বাবাকে নিয়ে হাহাকার করতেন, অথচ অন্যের বাবার প্রতি কোনো সহমর্মিতা দেখাননি।’

তসলিমা দাবি করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রকাশকদের তার বই প্রকাশ করতে ভয় পেতে হতো। কারণ, তারা ধারণা করতেন তার বই প্রকাশ করলে তাদের ওপর হেনস্তা নেমে আসতে পারে।

তসলিমা নাসরিন তার পোস্টে শেখ হাসিনার সমালোচনা করলেও আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি চাই, সামনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করুক এবং স্বাধীনতার শত্রুদের প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি জোট বাঁধুক।’

তসলিমা নাসরিনের এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে সমর্থকরা তার সাহসের প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।




এক নারীর দুটি জরায়ু!

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক:
সারা বিশ্বে মাত্র ‘শূন্য’ দশমিক ৩ শতাংশ নারীদের দুটি জরায়ু থাকে। দুটি জরায়ুর নিজস্ব ডিম্বাশয় এবং ফেলোপিয়ান টিউব থাকে। এই রকম একজন নারী হলেন পশ্চিবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার পূজা বিশ্বাস। তাকে অস্ত্রোপচারের টেবিলে দেখে অবাক হন চিকিৎসকরা।

তারা জানিয়েছেন, পূজা বিশ্বাস নামে এক সন্তানসম্ভবা গত ১৯ ডিসেম্বর বনগাঁর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেদিনই অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অস্ত্রোপচার শুরু হতেই হতবাক হন চিকিৎসকরা। কারণ, ওই নারীর দুটি জরায়ু শরীরে রয়েছে। আগে পরীক্ষায় সেই বিষয়টি ধরাও পড়েনি। ওই মুহূর্তে পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল হয়ে যায়। অস্ত্রোপচারের ঘরেই আলোচনা করেন চিকিৎসক ও নার্সরা। প্রথমে অস্ত্রোপচার করে সন্তানকে একটি জরায়ু থেকে বার করা হয়। মায়ের থেকে সদ্যোজাতকে আলাদা করে এবার বাকি অস্ত্রোপচার শুরু হয়। গোটা বিষয়টিই ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রবল। অন্য জরায়ুটি শরীর থেকে বাদ দেওয়া হয়। মূত্রনালির যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেই বিষয়েও সতর্ক ছিলেন চিকিৎসকরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এ অস্ত্রোপচার। প্রতিকূলতার মধ্যেও সাফল্য পেলেন চিকিৎসকরা।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা বনগাঁর এক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের।

চিকিৎসক মোহিতোষ মণ্ডল বলেন, ‘নারীদের শরীরে একটি জরায়ু থাকে। এই ধরনের দুটি জরায়ুকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ইউটোরাইন ডাইডিলকাস ইউনিকলিস বলা হয়। এটি বিরল ঘটনা।’

তিনি আরও বলেন, ওই নারী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সদ্যোজাত ও মাকে অস্ত্রোপচারের পরে বিশেষ নজরদারিতেও রাখা হয়।




বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে উত্তেজনা বাড়ছে

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক:
সম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। যে কারণে ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। গত দুই মাসে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে দুর্নীতির কারণেই এই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে রোববার দুপুরে মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

সদ্যই ব্যাংকক সফর থেকে ফিরেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিস সাঙ্গিয়াম্পংসার সভাপতিত্বে গত বৃহস্পতিবার ব্যাংককে ছয় দেশের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিয়ানমারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা। তাছাড়া সম্প্রতি ৬০ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের নীতিগতভাবে অবস্থান ছিল আর কোনো রোহিঙ্গাকে ঢুকতে দেব না। তবে পরিস্থিতি কখনো কখনো এমন দাঁড়ায় যে আমাদের কিছু আর করার থাকে না। সে রকম পরিস্থিতিতে আমরা ৬০ হাজার রোহিঙ্গাকে ঢুকতে দিয়েছি। আনুষ্ঠানিকভাবে যে তাদের ঢুকতে দিয়েছি, তা–ও নয়, তারা বিভিন্ন পথে ঢুকেছেন।’

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে সীমান্তে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘একটি কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রচুর দুর্নীতি আছে সীমান্তে। এটা সত্যি। এটা অস্বীকার করার কোনো অর্থ নেই। দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর ঢুকে যাচ্ছে (রোহিঙ্গারা)। নৌকা নিয়ে ঢুকছে। তবে একটা সীমান্ত দিয়ে যে ঢুকছে বিষয়টা এমন নয়। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে যে ঢুকছে এটা আটকানো খুব কঠিন হচ্ছে। তবে আমি মনে করি না আর একটি ঢল আসবে। যদিও অনেকে আশঙ্কা করছেন। এই আশঙ্কা আমাদেরও আছে। তবে সেই ঢলকে আটকানোর ব্যবস্থা করতে হবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়েই।’

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি যে পুরো অঞ্চলের জন্যই অশনিসংকেত তা জানিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এখন বয়স্ক যেসব রোহিঙ্গা আছেন, তারা হয়তো পরিস্থিতি মেনে নেবেন। তবে আগামী ৫ বছর পর যেসব তরুণ রোহিঙ্গার বয়স ২০ বছর হবে, তাঁরা বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। তখন আমাদের সমস্যা বেশি হবে ঠিকই, তবে সেই সমস্যা প্রত্যেকেরই হবে। এর মধ্যেই নৌকায় রোহিঙ্গারা অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত পৌঁছে গেছেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘তাকে (থান সোয়ে) বলেছি মিয়ানমার সীমান্তে তো তোমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সীমান্ত তো রাষ্ট্রবহির্ভূত শক্তির (নন–স্টেট অ্যাক্টর) নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। রাষ্ট্র হিসেবে তো আমরা নন–স্টেট অ্যাক্টরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি না। কাজেই তাদের দেখতে হবে কোন পদ্ধতিতে সীমান্ত ও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে।’