শাটডাউন এড়াতে বিল পাশ করতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক:
অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বিল পাশ করে শাটডাউন এড়াতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে পাশ হওয়ার পর ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রত সেনেটেও বিলটি পাশ হয়েছে। এখন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্বাক্ষর করলেই এটি চূড়ান্ত হবে।

যদিও এই বিলটিতে সংশোধনী আনতে প্রস্তাব দিয়েছিল মার্কিন সিনেটর র‍্যান্ড পল।

নতুন এই বিলটি পাশ না হলে শনিবার থেকে শাটডাউনের মুখে পড়তো মার্কিন সরকার।

শাটডাউনে পড়লে কিছু জরুরি সেবা বাদে অন্যান্য সেবা খাতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেত। এতে অনেক সরকারিকর্মীর বেতনও পর্যন্ত বন্ধ যাওয়ার শঙ্কা ছিল।

বড়দিন এবং ইংরেজি নববর্ষের ছুটির মুখে লাখ লাখ মার্কিনির দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠতে পারতো ফেডারেল গভর্নমেন্ট শাটডাউন।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহবানের পরও (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ) প্রতিনিধি পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন এড়াতে আনা সংশোধিত বিল পাশে ব্যর্থ হয় রিপাবলিকানরা। এমনকি দলটির কিছু প্রতিনিধিও বিলের বিপক্ষে ভোট দেন।

বিলটি পাশে সংসদের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন ছিল।

বিল কীভাবে আইনে পরিণত হয়?
তৃতীয় দফা চেষ্টার পর হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ শাটডাউন রোধে অর্থ বিলটি পাশ করার পরও শাটডাউন রোধে মার্কিন সিনেটরদের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। একজন সেনেটর আপত্তি তুললেও শেষ পর্যন্ত অনুমোদন মিলেছে।

নিয়ম অনুযায়ী বিলকে আইনে পরিণত করতে হলে কংগ্রেসের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সিনেট উভয় জায়গা থেকেই অনুমোদন পেতে হয়। পরে সেটিতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর করতে হয়।

মেয়াদ শেষে আগামী ২০শে জানুয়ারি জো বাইডেন হোয়াইট হাউজ ত্যাগ করবেন। বিলটি পাশের পর রাতে হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা এই আইনটিকে সমর্থন করেন।

এতে আরো বলা হয়, “যদিও ডেমোক্রেটদের সিনেটে খুব অল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তবুও এই বিলকে আটকে দেয়া বা ধীরগতির জন্য একজন সিনেটরের আপত্তিই যথেষ্ট। কিন্তু আমাদের হাতে আছে মাত্র দুই ঘণ্টা। এরপরই তহবিলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। শাটডাউনের মুখে পড়বে মার্কিন সরকার।”

তবে এর পেছনে কিছু কারণকে সামনে এনে তিনি তার যুক্তিও তুলে ধরেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে মি. পল স্পষ্টবাদী হিসেবে পরিচিত। তিনি এই বিলের বিরোধিতা প্রস্তাব নিয়ে যান মার্কিন সিনেটে। আপত্তি জানিয়ে বলেন, এই বিলে এমন কিছু ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেটি পাশ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরো বেশি ঋণের ফাঁদে পড়বে।

মি. পল যুক্তি দিয়ে বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত যে এই বিল পাশ হলে এটি ইউক্রেনকে অর্থায়নে সহযোগিতা করবে কি না, কিংবা ভবিষ্যতে অন্য কোনো সমস্যা তৈরি হবে কি না সেটি বিবেচনা করেই নতুন তহবিল পাশের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।”

বিলটি নিয়ে যা যা হলো
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলেও রিপাবলিকান পার্টি ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো পদে বসেননি। আগামী ২০শে জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন।

রাষ্ট্রীয় এই অর্থ বিলটির পক্ষে ভোট দিতে মি. ট্রাম্প হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

তবে রিপাবলিকান কিছু কট্টরপন্থী সদস্যরা মি. ট্রাম্পের এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তারা এই বিলটির পক্ষে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

বিলটির পক্ষে ১৭৪টি ভোট পড়ে। আর বিপক্ষে ২৩৫টি। বিপক্ষে ভোট দেন ৩৮ জন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার মধ্যরাতে সরকারি তহবিলের মেয়াদ শেষ হবে। বিলটি পাশ হলে তা তহবিল জোগানোর মেয়াদ বাড়াবে। একই সঙ্গে তা ঋণের সীমা (ঋণ নেওয়ার সর্বোচ্চ পরিমাণ) স্থগিত করবে।

মার্কিন আইনপ্রণেতারা অর্থ বিলটি পাশে ব্যর্থ হলে মার্কিন সরকারের কার্যক্রম আংশিক ‘শাটডাউনে’ চলে যেতো।

ইলন মাস্কের প্রভাব
ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পেছনে ইলন মাস্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলা হয়ে থাকে। ব্যয় সংক্রান্ত বিল ইস্যুতে আবারো আলোচনায় এসেছে মাস্কের প্রভাব।

ট্রাম্প ও মাস্কের তাগিদের কারণেই ঐকমত্যে পৌঁছানো প্রথম বিলটি খারিজ করেছিলেন রিপাবলিকানরা।

কিন্তু, সংশোধন করে আনা দ্বিতীয় বিলটির বেলায় রক্ষণশীলদের অনেকে মাস্কদের কথা শোনেননি। বিপক্ষে পড়া ওই ৩৮ রিপাবলিকানের ভোটই ফলাফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখে।

এই রাজনৈতিক নাটকীয়তা বিশৃঙ্খলা আর অনিশ্চয়তার স্বাদই দিলো আগামী দিনের শাসকদের।

অথচ, সপ্তাহজুড়ে নাটকীয়তার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিটির কোনো সরকারি পদও নেই। তার আছে কোটি কোটি ডলার, একটি সোশ্যাল মিডিয়া মেগাফোন (চোঙা) এবং শ্রোতা হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুধু নয় কংগ্রেসের রক্ষণশীলরাও।

বুধবার সকালে এই টেক টাইকুন তার মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ প্রথম বিলটির বিপক্ষে প্রচারণায় নেমে পড়েন। বছর দুয়েক আগে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে এক্স কেনেন মাস্ক।

হাউজ স্পিকার মাইক জনসন মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত সরকারি খরচ মেটাতে একটা সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। সেটির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন ইলন মাস্ক।

একের পর এক পোস্টে যেসব বক্তব্য তিনি উপস্থাপন করেছেন তার কোনো কোনোটির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

এতে শেষ পর্যন্ত সংকট আরো ঘনীভূত হলো।

মি. ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিলেন শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। অনুদানও দিয়েছেন প্রায় ২০ কোটি ডলার। অবশ্য ট্রাম্প জেতার পরে মাস্কের সম্পদ বাড়ছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার।

বিজয়ী ভাষণে বিশেষভাবে মাস্কের কথা বলেন ‘প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট’। তার ভূঁয়সী প্রশংসাও করেন।

এর আগে, ২০২২ সালে অবশ্য তিনি মি. ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পতনের ইঙ্গিত দিয়ে মন্তব্য করেছিলেন “ট্রাম্পের টুপি খুলে ঝুলিয়ে রাখা এবং সূর্যাস্তের দিকে যাত্রা করার সময় এসেছে।”

তবে সময় বদলেছে। প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ার থেকে ট্রাম্পের অন্যতম দৃশ্যমান এবং সুপরিচিত সমর্থক হিসাবে প্রকাশ্যে এসেছেন ইলন মাস্ক। চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করতে ‘আমেরিকা পিএসি’ নামে একটা রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি গঠন করেছিলেন তিনি। এই নির্বাচনে সেখানে ২০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন মি. মাস্ক।

টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান এবং সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটারের)-এর মালিক ইলন মাস্ক ভোটার রেজিস্ট্রেশন অভিযান (ভোটার নিবন্ধন অভিযান) চালু করেছিলেন।

প্রচারের সমাপনী পর্বে এই অভিযানের আওতায় সুইং-স্টেটের যেকোনও একজন ভোটারকে প্রতিদিন ১০ লক্ষ ডলার উপহার দেওয়া হতো।

১৩ই জুলাই পেনসিলভানিয়ার বাটলারে হত্যা প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পকে প্রথম সমর্থন দেয়ার পর থেকে, ইলন মাস্ক ট্রাম্পের প্রচারাভিযানের একটি অংশ হয়ে ওঠেন, যেখানে তিনি প্রায়শই সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিলেন যে শুধুমাত্র ট্রাম্পই আমেরিকার গণতন্ত্রকে “বাঁচাতে” পারেন।




শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্তে সময় বেঁধে দিলো ট্রাইব্যুনাল

জন্মভূমি নিউজ ডেক্স
গণহত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে দুই মাস সময় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই সময় দেন।

আজ অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সময় আবেদন করেন আইনজীবী। ট্রাইব্যুনাল দুই মাস সময় মঞ্জুর করে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ অক্টোবর থেকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়।

জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় গত ১৮ নভেম্বর প্রথম শুনানি হয় ট্রাইব্যুনালে। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এক মাস সময় মঞ্জুর করে ১৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ ফের দুই মাস সময় দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

অন্যদিকে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায় সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধেও দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের পর শুনানি শেষে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েেছে




বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার ‘ষড়যন্ত্র’ ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ নিয়ে ‘তথ্য সন্ত্রাস’ শুরু করেছে ভারতের অনেক মিডিয়া। হিন্দু নির্যাতনের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে তারা। দেশের অনেক হিন্দু পরিবার সেই‘ষড়যন্ত্র’ প্রকাশ্যে আনছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা বলছেন, সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের কলকাতায় প্রবেশ করতেই বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পরে সেখানকার সাংবাদিকদের শিখিয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকার না দিলে পাসপোর্ট রেখে দেওয়ার হুমকি আসছে। এভাবেই বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের মিথ্যা কাহিনী বানিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের দুটি চ্যানেলে ছাড়ানো গুজবের সত্যতা জানতে আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে তাদের বাড়িতে গেলে পরিবারের অভিভাবকেরাই জানান এসব তথ্য। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের মিথ্যা বর্ণনা সন্তানের মুখে ভারতীয় মিডিয়ায় দেখে তারা বিস্মিত। সন্তানের এমন কাণ্ডে তারা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ভারতের এবিপি আনন্দ টিভিতে একটি সাক্ষাৎকার দেন শুভ কর্মকার। তিনি ফরিদপুরের শহরের নীলটুলীর স্বর্ণকার পট্টির নিউ গিনি ভবন জুয়েলার্সের মালিক সুনীল কর্মকারের ছেলে। ওই সাক্ষাৎকারে শুভ দাবি করে বলেন, ‘বাংলাদেশের খুবই খারাপ অবস্থা। হিন্দুদের ওপর অনেক অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে বাড়িঘর দখল করা হচ্ছে। মন্দির-প্রাসাদ পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ছোট-ছোট বাচ্চাদের জন্য খারাপ লাগে। তাদের মারধর করা করা হচ্ছে। মা-বোনদের ওপরে নির্যাতন করা হচ্ছে। রাতে দোকান থেকে বাড়িতে যাওয়ার পর ভাবতে হয় সকালে দোকানের উদ্দেশ্যে আবার বের হতে পারব কি না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভ কর্মকারের এই বক্তব্য জানাজানি হলে নিন্দার ঝড় ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিকেরা সরেজমিনে বিষয়টি জানতে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান। এ সময় শুভর বাবা সুনীল কর্মকার ও মা দুজনেই তাদের ছেলের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

শুভর মা সুনীল বলেন, ‘আমার ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই এমন। কোনো কথা শোনে না। এ জন্য আমরা অনেক দুঃখিত। আমরা কখনোই এই দেশে কোনো নির্যাতনের শিকার হইনি। আমার মেয়েরা, ভাসুরের মেয়েরা তারাও কখনোই এ ধরনের হামলার শিকার হইনি। ভারতের ওই সাংবাদিকেরা খারাপ। তারা ইচ্ছা করেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা বাংলাদেশে খুবই নিরাপদে রয়েছি।’

শুভর বাবা সুনীল কর্মকারের বলেন, ‘ওর এই কথা শুনে আমরা নিজেরাই অবাক হয়ে গেছি। ও কি করে এই কথা বলল ভাবতেও পারছি না। আমরা দেশে কোনো ধরনের অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হইনি। আমি ওকে ফোন করেছিলাম ওর এই কখা শুনে। ও বলল, ‘‘পেট্রাপোলে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার পরে সেখানকার সাংবাদিকেরা আমার পাসপোর্ট নিয়ে নেয়। এরপর ওদের শিখিয়ে দেওয়া মতো কথা না বললে পাসপোর্ট দিবে না বলে ভয় দেখায়।” বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নষ্টের উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে।’

এদিকে, দ্য ওয়াল নামে আরেকটি চ্যানেলে এক নারী সংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে বাংলাদেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে দুই মাস ধরে কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি অমীয় সরকার। জানা গেছে, অমীয় সরকার ২০২১ সালের নভেম্বরে গঠিত জেলা ছাত্রলীগের কমিটির ৮ নম্বর সহসভাপতি ছিলেন। পরের বছর অনুমোদিত কমিটি থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়। অবশ্য তার আগেই এই অমীয় সরকারের নাম ছড়িয়ে যায় খন্দকার মোশাররফের হেলমেট-হাতুড়ি বাহিনীর অন্যতম ক্যাডার হিসেবে। এই অমীয় ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলা মামলার অন্যতম আসামি।




১৪ দেশের নাগরিকদের ভিসা দিতে সতর্ক করল সরকার

জন্মভূমি নিউজ ডেক্স
১৪টি দেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা দিয়েছে সরকার। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়াতে এ সতর্কতা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিদেশে বাংলাদেশের সব মিশনের রাষ্ট্রদূতদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের ইমিগ্রেশন শাখার উপসচিব কানিজ ফাতেমা গত ৩ ডিসেম্বর ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে- সিরিয়া, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, ইরাক, সোমালিয়া, লেবানন, আফগানিস্তান, সুদান, লিবিয়া, চাদ, মালি, তিউনিশিয়া, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর আবেদনকারীদের জমা দেওয়া প্রাসঙ্গিক নথিপত্র যথাযথ যাচাইয়ের পর ভিসা দেওয়া যেতে পারে।

বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন নিয়ে গত ৪ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সব বিদেশি মেহমানের তালিকা, নাম, পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা, জন্ম তারিখ, পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ সব তথ্য ২০ ডিসেম্বরের আগে শুরায়ে নিজাম বা তাবলিগ জামায়াত বাংলাদেশ কর্তৃক এসবিকে সরবরাহ করতে হবে।

আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাবলিগ জামাতের মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়েরের অনুসারীরা (শুরায়ি নেজাম) আয়োজন করবেন বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।

আর দ্বিতীয় পর্ব হবে আগামী ৭-৯ ফেব্রুয়ারি, যা আয়োজন করবেন মাওলানা সাদের অনুসারীরা। দুই গ্রুপেরই ইজতেমা গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের পারে অনুষ্ঠিত হবে।




বাংলাদেশ সীমান্তে অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট মোতায়েন করছে ভারত

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক:
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। উত্তেজনা বাড়ছে এই দুই দেশের সম্পর্কে। আর এই অবস্থায় বাংলাদেশ সীমান্তে অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। একইসঙ্গে দেশটি এই পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান সীমান্তেও।

সীমান্তের অপর পাশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট মোতায়েন করবে ভারত। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তে অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ভারত। সীমান্তের অপর পাশ থেকে আসা মনুষ্যবিহীন আকাশযানের মাধ্যমে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সীমানা সুরক্ষিত করার জন্য ব্যাপকভাবে অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট স্থাপন করবে নয়াদিল্লি।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সেনাদের প্রশিক্ষণ শিবিরে ৬০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় ড্রোন হুমকির গুরুত্ব এবং ভারতের সক্রিয় পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

অমিত শাহ বলেন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সাথে সমগ্র সীমান্তে ‘সংবেদনশীল এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ’ করার জন্য ব্যাপকভাবে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করবে ভারত। তিনি বলেন, মানববিহীন আকাশযানের মাধ্যমে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সীমানা সুরক্ষিত করতে বিস্তৃত অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট প্রতিষ্ঠা করবে ভারত।

শাহ আরও বলেন, ‘লেজার-সজ্জিত অ্যান্টি-ড্রোন গান-মাউন্টেড’ ম্যাকানিজমের প্রাথমিক ফলাফল বেশ উৎসাহব্যাঞ্জক, যার ফলে পাঞ্জাবের পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে ড্রোন নিষ্ক্রিয়করণ এবং শনাক্তকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতীয় একটি সংবাদপত্র দেশটির সরকারি তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ২০২৩ সালে প্রায় ১১০টির তুলনায় এই বছর ২৬০টিরও বেশি ড্রোন পাকিস্তানের কাছে ভারতের সীমান্ত থেকে ভূপাতিত বা উদ্ধার করা হয়েছে। ড্রোন আটকানোর এই ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে পাঞ্জাবে। তবে রাজস্থান এবং জম্মুতে এই সংখ্যা খুব কম।

পাকিস্তানের সাথে ভারতের ২ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। বিএসএফের ওই অনুষ্ঠানে অমিত শাহ পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য চলমান কম্পিহেনসিভ ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইবিএমএস) নিয়েওআ আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, এই কাজটি চলমান রয়েছে। তার ভাষায়, ‘আসামের ধুবরি (ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত) সীমান্তের নদী এলাকায় মোতায়েন করা সিআইবিএমএস থেকে আমরা উৎসাহজনক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, তবে এক্ষেত্রে আরও কিছু উন্নতি করা প্রয়োজন।’

অন্যদিকে ভারতের একটি সরকারি বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আরও কিছু উন্নতির পর এই ব্যবস্থা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সাথে সমগ্র সীমান্তজুড়ে প্রয়োগ করা হবে।




বাংলাদেশিদের চিকিৎসা দেবে না কলকাতার হাসপাতাল

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে কয়েকদিন ধরে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে।

কলকাতার বেগ বাগানে কলকাতাস্থ বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাড়াও গণসংগঠনগুলো চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নিঃশর্ত মুক্তির প্রতিবাদে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এরই মধ্যে বাংলাদেশিদের চিকিৎসেবা না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে এবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

কলকাতার মানসিকতলার জে এন রায় হাসপাতালে ঘোষণা দিয়েছে কোনো বাংলাদেশি রোগীদের তাদের হাসপাতালে ভর্তি অথবা কোনো রকম চিকিৎসাসেবা দেবো না।

জে এন রায় হাসপাতালের ডিরেক্টর শুভ্রাংশু ভক্ত জানিয়েছেন, জে এন রায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা বিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) থেকে কোনো বাংলাদেশি রোগীদের ভর্তি অথবা মেডিকেল সেবা দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, এই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পেছনে আমাদের দেশের লাখ লাখ সৈনিকের রক্ত ঝড়ে ছিল। আজ সেই দেশে আমাদের দেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হচ্ছে। জাতীয় পতাকাকে পায়ের তলায় পদলিত করা হচ্ছে। অতএব তাদের সঙ্গে আমাদের এই ভাব-ভালোবাসা দেখানোর কোনো কারণ নেই।

এছাড়া কলকাতার সব বেসরকারি হাসপাতালে শুভ্রাংশ ভক্ত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, চিকিৎসা সেবায় যারা রয়েছেন তাদের সবারই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ সবার ঊর্ধ্বে আমাদের এই দেশ। এই দেশে বসেই আমরা হাসপাতাল চালাচ্ছি, এই পরিসেবা মানবজাতির জন্য। কিন্তু বাংলাদেশে যেটা হচ্ছে সেটা একদমই কাম্য নয়, সেটা অমানবিক।

শুভ্রাংশ ভক্ত আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তাদের পরিসেবা দেওয়ার কোনো দরকার নেই




ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মেজর মান্নানের অভিনন্দন

জন্মভূমি নিউজ ডেক্স
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিকল্পধারা বাংলাদেশের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের অভিনন্দন।

এক অভিনন্দন বার্তায় বিকল্পধারা বাংলাদেশের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) আবদুল মান্নান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প অভূতপূর্ব বিজয় লাভ করায় তিনি তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে চলমান গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে এবং আমাদের দুই দেশের জনগনের মধ্যে ভাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতা এক অন্যন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে। তিনি আরো আশা প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ইসরাইল-ফিলিস্তিন-লেবাননের যুদ্ধের অতিসত্বর অবসান হবে এবং ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ প্রতিক্ষিত স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।




ইতিহাস গড়ার পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে এগিয়ে রয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে দোদুল্যমান কয়েকটি রাজ্যের জয় ও কয়েকটিতে এগিয়ে থাকার খবর আসার পর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের যাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত ধরে নিয়েছেন তার সমর্থকরা।

ইতোমধ্যে ২৪৭টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়ে জয়ের অনেকটা কাছাকাছি পৌছে গেছেন ট্রাম্প। বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ২১৪ ভোট। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যেসব দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে ফল ঘোষণা বাকি আছে সেগুলোর বেশিরভাগেই এগিয়ে রয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সর্বশেষ পূর্বাভাসে ট্রাম্পের আরও প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে ইতিহাস গড়বেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো ফৌজদারী অপরাধী হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা হওয়ার রেকর্ড গড়বেন।

সর্বশেষ প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান যাচাই করে নিউইয়র্ক টাইমসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা খুব দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে তার জয়ের সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ। অপরদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের জয়ের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে শেষ হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প ৩০১টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট এবং কমলা ২৩৭টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেতে পারেন।

এদিকে এপির খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ২টার পর্যন্ত রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২৬৭ ইলেকটোরাল ভোট। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ২২৪ ভোট। কমলা পেয়েছেন ৪৭.৪ শতাংশ ভোট এবং ট্রাম্প পেয়েছেন ৫১.২ শতাংশ ভোট।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে। টাইম জোনের তারতম্যের কারণে রাজ্যগুলোতে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে ভোটগ্রহণ শেষ হয় ইন্ডিয়ানা ও কেন্টাকিতে।




ভোট শেষ হওয়ার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ফল ঘোষণার দাবি ট্রাম্পের

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রে চলছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট। দেশটিতে ৫০টি রাজ্য। অনেক রাজ্যে আগে ভোট শুরু হলেও সময়ের তারতম্যের কারণে দেরিতে ভোট শুরু হয়েছে কয়েকটি রাজ্যে। যেসব রাজ্যে দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সেখানে গণনাও দেরিতে হবে।

মঙ্গলবার রাতেই সব রাজ্যে গণনা শুরু হবে। তবে এক রাতেই সব ভোট গণনা শেষ করে ফল দেওয়া কঠিন। তবে ট্রাম্পের দাবি রাতেই ভোটের ফল ঘোষণা করতে হবে। রোববার পেনসিলভানিয়ায় এক সমাবেশে ট্রাম্প এ দাবি করেন।
ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টা, ১০টা, ১১টার মধ্যে এগুলো ঠিক করতে হবে। খারাপ লোকের দল। এরা খারাপ মানুষ।

আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় (মার্কিন সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা) ভোটগ্রহণ শেষ হবে। আর ট্রাম্পের দাবি, শেষ হওয়ার তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই ফল ঘোষণা করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের একেক অঙ্গরাজ্যের গণনা পদ্ধতি একেকরকম। অনেক অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে আসা ভোট এবং দেশের বাইরের নাগরিকদের ভোট নির্বাচনের আগেই গণনা করে ফেলেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। তবে পেনসিলভেনিয়া ও উইসকনসিনে নির্বাচনের পর গণনা হয় এসব ব্যালট। এই গুরুত্বপূর্ণ দুই দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের জন্যই ফলাফলে দেরি হতে পারে।

এছাড়া, কোনো অঙ্গরাজ্যে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান বেশি কম থাকলে ভোট পুনর্গণনাও হতে পারে।

২০২০ নির্বাচনেও মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল শনিবার। তবে এর আগের দুই নির্বাচন, ২০১৬ ও ২০১২ সালে বিজয়ীর নাম জানতে এত সময় লাগেনি। এর পিছনে একটি কারণ, কোভিডকালীন সময়ে হওয়া ২০২০ নির্বাচনে অনেক ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন।

যুক্তরাস্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায় (৫৪টি)। আর সবচেয়ে কম রয়েছে নর্থ ডাকোটায় (৩টি)। সাধারণত রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে ইলেকটোরাল ভোট থাকে। যে রাজ্যে যত বেশি জনসংখ্যা ওই রাজ্যে তত বেশি ইলেকটোরাল ভোট।

রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট যিনি পান ইলেকটোরাল ভোটগুলো তিনি পান। এভাবে একজন প্রার্থীকে প্রেসিডেন্ট হতে হলে অন্তত ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হয়




পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জন্মভূমি নিউজ ডেস্ক :
আন্ত সরকার সংস্থা সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে (এসসিও) যোগ দিতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বরাত দিয়ে এনডিটিভি শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

জয়সওয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ইসলামাদে এসসিওর সম্মেলন হবে। সেই সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে ভারতের কোনো মন্ত্রী পাকিস্তান গিয়েছিলেন। সে সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আফগানিস্তানসংক্রান্ত একটি সফরে সে দেশে গিয়েছিলেন।

উপমহাদেশের দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে বরাবরই দা-কুমড়ার সম্পর্ক। এই সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পুলোয়ামায় ভারতীয় সেনা সদস্যদের বহনকারী একটি গাড়িতে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার হামলার পর থেকে।

সেই হামলায় অন্তত ৪০ জন সেনা প্রাণ হারিয়েছিলেন।

ওই হামলার পর প্রথমে পাকিস্তানের বালাকোটে ঝটিকা অভিযান চালায় ভারতীয় বিমানবাহিনী। তারপর ওই বছর আগস্টে জম্মু-কাশ্মিরের সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা বাতিল করে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এ পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল পাকিস্তান।

কিন্তু ভারত তা আমলে না নেওয়ায় চরম তিক্ততায় পৌঁছায় দুই দেশের সম্পর্ক।

প্রসঙ্গত, এসসিও বিশ্বের বৃহত্তম আঞ্চলিক আন্ত রাষ্ট্রীয় সংস্থা। ভারত-পাকিস্তান ছাড়াও এই সংস্থার সদস্যের তালিকায় রয়েছে রাশিয়া, চীন, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান এবং তাজিকিস্তান। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এসসিও।