এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাইতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীতে ঠাসাঠাসি বিএনপি', তবে-একক প্রার্থী চুড়ান্ত নিয়ে এগুচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি ও একক প্রার্থী নির্ধারণের ওপর জোর দিয়ে প্রার্থী মনোনয়নের চিন্তায় রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।
সূত্র মতে, মীরসরাই উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়ন এবং ইউনিয়নের আওতাধীন ৯ টি ওয়ার্ডে চেয়ারম্যান ও মেম্বার এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে মেম্বার মিলিয়ে ২০৮ জন প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার কথা। কিন্তু, প্রার্থী হয়ে রয়েছে প্রায় ২ হাজারের ও বেশি।
হিসেব মোতাবেক জামায়াতে ইসলামী থেকে তাদের দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিটা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ১ জন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ জন করে ৯ ওয়ার্ডে ৯ জন হিসেবে ১৬ ইউনিয়ন ১৪৪ জন মেম্বার প্রার্থী নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনে ও অনুরূপ হারে ৩ ওয়ার্ড মিলিয়ে ১ ইউনিয়ন ৯ ওয়ার্ডে ৩ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
শুধু বিএনপি'তে হ-য-ব-র-ল অবস্থা! যদিও বা বিএনপি থেকে এখনো প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়নি। তবে, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক এখানকার এমপি নুরুল আমিন প্রতিটি প্রোগ্রামে বক্তব্যে বলে যাচ্ছেন দল থেকে ১ জন করে প্রার্থী দেয়া হবে।
এবং দল মনোনীত প্রার্থীর বাইরে যে প্রার্থী হবে তাকে দল বিরোধী তথা বিদ্রোহী প্রার্থী আখ্যায়িত করে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বর্তমানে মীরসরাই উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে কম করে হলে ৬-৭-৮ এবং কোনো কোনো ইউনিয়নে ২০ জনের ও অধিক প্রার্থী রয়েছে চেয়ারম্যান পদে! আর মেম্বার পদে তো বেশুমার!! এবং মহিলা মেম্বারের প্রার্থীর বেলায় কিছু টা স্থিতি অবস্থা দেখা যাচ্ছে। বিএনপি'র তৃনমূল পর্যায়ের সাধারণ নেতা কর্মীদের অভিযোগ: ৫ আগষ্টের আগে দলের কোনো প্রোগ্রামে নিয়ে যেতে যাদেরকে পাইনি তারাই এখন চেয়ারম্যান ও মেম্বার এর জন্য প্রার্থী হয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দলের সাধারণ নেতা কর্মীদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করার অপ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মীরসরাইয়ের এমপি অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে বসে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে যার বা যাদের জীবনপণ ভুমিকা ছিলো তাদেরকে অগ্রকাতারে রেখে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এবং দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করাদের মধ্যে যদি একের অধিক প্রার্থী থাকে তাহলে তাদের মধ্যে থেকে বিশেষ ভূমিকা রাখা ব্যাক্তিকেই মনোনীত করতে হবে। এর বাইরে বাকি যারা থাকবে তাদেরকে শান্তনা দিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলা যেতে পারে।
তবে, বিগত আওয়ামী জামানায় যে বা যাদের কোনো ভুমিকা ছিলো না তাদেরকে মনোনয়ন তো দুরের কথা দলের কোনো দায়িত্ব দিতে ও বিবেচনা করে দেখতে হবে।
তা যদি না হয় তাহলে দলের সাধারণ নেতা কর্মীদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি হয়ে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দলের অধিকাংশ তরুণ নের্তৃত্বের বাইরে একাধিক প্রবীণ নের্তৃবৃন্দরা মনে করেন, সরকারের জন্য প্রধান চালিকাশক্তি স্থানীয় সরকার। এবং ওই স্থানীয় সরকারের আওতায় থাকা গ্রাম্য ভুমিকা, তথা- ইউনিয়ন পরিষদ। আর রাজনৈতিক ভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত ইউনিয়ন পরিষদ এবং এর চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা।
বর্তমান রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় বিএনপি, বিএনপি'র জন্য সরকার পরিচালনা করার জন্য শক্তি হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদকে প্রাধান্য দিতে হবে। এবং রাজনৈতিক ভাবে বিএনপি'র সাংগঠনিক শক্তি ও নির্ভর করবে ইউনিয়ন পরিষদ, তথা- চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ওপর।
সুতরাং, হেলাফেলা না করে সঠিক নের্তৃত্ব বাছাই করে চেয়ারম্যান ও মেম্বার হিসেবে দল প্রেমি ও যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে ও মনে করেন দলের প্রবীণ নেতা এবং সামাজিক ভাবে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য ব্যাক্তিরা।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.