বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি,
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ধান, পাট, সবজি কিংবা নানা অর্থকরী ফসলের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই এ উপজেলায় মাঠজুড়ে আখের চাষ হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে লাল রংয়ের রংবিলাস জাতের আখ চাষের যাত্রা,কৃষিতে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা, উন্মোচিত হয়েছে নবদিগন্তের।
আখের (কান্ড) রং লাল হওয়ায় এলাকাবাসী নামকরণ করেছে রংবিলাস। স্বাদে মিষ্টি, কান্ড নরম, দাঁত দিয়ে সহজেই ছিলে চিবিয়ে খাওয়া যায়, প্রতি পিছ ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়, অন্য ফসলের তুলনায় নিঃসন্দেহে লাভজনক। আখের চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। মাঠে মাঠে বাড়ছে আখ, আর সেই সঙ্গে ফুটছে কৃষকের মুখে হাসি। কিন্তু বাধা রেডরট ডিজিজ।
উপজেলার মহিষভাঙ্গা গ্রামের আখচাষী মাহফুজ হোসেন বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে রংবিলাস জাতের আখ গত দুই বছর ধরে আবাদ কারি। জমি প্রস্তুতের পর ১ফুট দীর্ঘ বীজ (কান্ডের খন্ডাংশ) অক্টোবর –নভেম্বর মাসে রোপন করতে হয় ও সেপ্টেম্বর- অক্টোবর মাসে কর্তন করতে হয়। ইহা ৬ ফুট থেকে ৯ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এক শত পিচ ২৫০০/- থেকে ৩৫০০/- টাকায়, গড়ে ৩০০০/-টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি বিঘায় ৫৫০০ থেকে ৬৫০০পিচ, গড়ে ৬০০০ পিচ আখ উৎপন্ন হয়। প্রতি বিঘার আখ গড়ে (১,৮০,০০০/-) এক লাখ আশি হাজার টাকায় বিক্রি হয়। খরচ হয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা । প্রতি বিঘায় বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় হয়। এতে কৃষকেরা দিনদিন রংবিলাস আখচাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। সহজে চিবিয়ে খাওয়া যায় বলে বাজারে এ আখের চাহিদাও রয়েছে। জন্ডিস রোগাক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত এ আখ ক্রয় করে। জমি থেকেই ব্যবসায়ীরা আখ কিনে নেওয়ায় বাজারজাত করার ঝামেলাও কম। ফলে দিন দিন বাড়ছে এর আবাদ। শুধু আখ বিক্রি নয়, একই জমিতে সাথি ফসল হিসেবে রসুন বা পেঁয়াজ চাষ করে বাড়তি আয় করছেন অনেকই। আখের সঙ্গে জড়িয়ে তৈরি হয়েছে মৌসুমি কর্মসংস্থানও। রং বিলাস আখকে ঘিরে প্রায় তিন মাস ধরে চলে কেনাবেচা। কৃষকের কাছ থেকে আখ কিনে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। ভবিষ্যতে এটি বড়াইগ্রামের কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক ফসলে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আখচাষী রুবেল আলী বলেন, রংবিলাস জাতের আখ চাষে প্রচুর সার ঔষধ ও সেচ লাগে। গোড়ায় মাটি দেওয়া, পাতা ছোড়ানো, ঔষধ স্প্রে করণ, হেলে পড়া রোধ, গুচ্ছাকারে বাঁধা ইত্যাদি পরিচর্যায় প্রতি বিঘায় ৬৫/৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ আখ চাষে বড় বাধা রেড রট (পচন রোগ)। কোনো আখ গাছ আক্রান্ত হলে কান্ডের ভেতর ও পাতা লালচে হয়ে যায়। এটা ছত্রাক জাতীয় রোগ বলে অনেকে মনে করে। সেচের পানির মাধ্যমে দ্রুত গোটা জমিতে ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সজিব আল মারুফ বলেন, নাটোরে দুটি চিনিকল থাকায় এ জেলায় দীর্ঘদিন ধরে আখের চাষ হয়ে আসছে। বড়াইগ্রামে সাধারণতঃ ঈশ^রদী ৩৬, ৪১,৪৩, ৪৪ জাতের আখ চাষ হয়। তবে ফলন ও দাম বেশী পাওয়ায় ৩/৪ বছর যাবত রংবিলাস জাতের আখ চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠছে। চলতি মওসুমে ৫১ হেক্টর জমিতে এ জাতের আখ চাষ হয়েছে। ঈশ^রদীতে উদ্ধাবিত জাতগুলো থেকে রংবিলাস অধিক লম্বা ও মোটা হয়। আখগুলো মিলে বিক্রি হয় না। এগুলো হাটে-বাজারে চড়া দামে ক্রয়-বিক্রয় হয়। ছত্রাক জাতীয় (রেড রট) রোগে আখগুলো বেশী আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত গাছ জমি থেকে দ্রুত উপড়ে ফেলা উত্তম।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.