ইসমাইল হোসেন, খুলনা জেলা প্রতিনিধি:
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটী গ্রামে বসতবাড়ি ও প্রধান সড়কের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে একটি বিশাল অবৈধ পোল্ট্রি খামার। পোল্ট্রি ফার্মের তীব্র দুর্গন্ধ ও বর্জ্যের কারণে স্থানীয় পরিবেশ আশঙ্কাজনকভাবে দূষিত হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা।
স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, লাখোহাটী গ্রামের মৃত গোলাম শেখের ছেলে মোঃ মফিজ শেখ (৫০) সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে বসতবাড়ির মাত্র ৬ ফুট দূরত্বে প্রায় এক বছর আগে কয়েক হাজার মুরগির একটি পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপন করেন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা এই ফার্মের বর্জ্য ও দুর্গন্ধে আশপাশের বসতবাড়িগুলো বাস অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। শ্বাসকষ্ট এবং পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।
এ ছাড়া লাখোহাটী গ্রামটি মাছ চাষের জন্য দেশজুড়ে প্রসিদ্ধ। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মৎস্যচাষী ও ব্যবসায়ীরা পোনা কিনতে এখানে আসেন। ফার্মটির দুর্গন্ধের কারণে বাইরের দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব ব্যবসায়ীদেরও চরম বেগ পোহাতে হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ও স্থানীয় দোকানদার মোঃ মাকসুদ শেখ এ বিষয়ে দিঘলিয়া থানা ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত মফিজ শেখ কোনো কর্ণপাত করেননি বলে জানা গেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর লাখোহাটী বাজারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনও করেন মাকসুদ শেখ।
অভিযোগের ভিত্তিতে দিঘলিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদা সুলতানা সরেজমিনে পোল্ট্রি খামারটি পরিদর্শন করেছেন। তবে পরিদর্শন শেষে তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানে তিনি গড়িমসি করছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ তুলেছে।
পোল্ট্রি ফার্মটি দ্রুত অপসারণ করে সাধারণ মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.