এম,এ,মান্নান,স্টাফ রিপোর্টার
আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বজুড়ে যেখানে শিক্ষকদের মেধা, ত্যাগ ও অনন্য অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হচ্ছে, সম্মানিত করা হচ্ছে তাদের পবিত্র পেশাকে; ঠিক সেই আনন্দঘন মুহূর্তেও বাংলাদেশের হাজার হাজার নন-এমপিও শিক্ষকের চোখে অশ্রু আর বুকে চাপা কান্নার হাহাকার। চক-ডাস্টার হাতে শ্রেণিকক্ষে আলোর প্রদীপ জ্বালানো এই মানুষগুলো নিজেদের জীবনেই আজ চরম অন্ধকারের মুখোমুখি।জীবনের সোনালী সময়গুলো যারা শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিঃশেষ করে দিয়েছেন, মাস শেষে তাদের হাতে আসে না কোনো সম্মানজনক বেতন। বছরের পর বছর, কেউ বা যুগের পর যুগ ধরে একবুক আশা নিয়ে শুধুই বিনাবেতনে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন।সন্তানকে একটু ভালো খাবার দেওয়া, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের হাতে ওষুধের বোতল তুলে দেওয়া কিংবা উৎসবের দিনে পরিবারের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানো—এই সামান্য স্বপ্নগুলোও আজ তাদের কাছে আকাশকুসুম কল্পনা। পেটের তাগিদে বাধ্য হয়ে কোনো শিক্ষককে ভ্যান চালাতে হয়, কাউকে দিনমজুরি বা কৃষিকাজে নামতে হয়, যা একজন শিক্ষকের জন্য কতটা বেদনার, তা কেবল তিনিই জানেন।সমাজে ‘শিক্ষক’ পরিচয়ের সম্মানটুকু যতটুকু আছে, বাজারের চড়া দাম আর অভাবের নির্মম থাবা সেটিকে প্রতিনিয়ত বিদ্রূপ করছে। নিজের শিক্ষার্থীদের সামনে দারিদ্র্যের এমন অসহায় রূপ নিয়ে দাঁড়ানো যে কতটা অপমানজনক ও হৃদয়বিদারক, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।যে শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড গড়ার মূল কারিগর, তাদের জীবন এভাবে অভাবের শৃঙ্খলে বন্দি থাকতে পারে না। বৈষম্যের এই শিকল ভেঙে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করার আকুল আকুতি জানান তারা।বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে একটাই চাওয়া—শ্রদ্ধার সুন্দর কথার চেয়ে এই মানুষগুলোর বেঁচে থাকার অধিকার আর ডাল-ভাতের সংস্থান নিশ্চিত করাটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। রাষ্ট্র ও সমাজ কি শুনতে পাবে বিনাবেতনে আলোর পথ দেখানো এই নিঃস্ব মানুষগুলোর বুকের ভেতরের করুণ হাহাকার।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.