নিজস্ব প্রতিবেদক,সাগর (নিয়ামতপুর): নওগাঁর নিয়ামতপুরে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের মাকলাহাটের তরুণ উদ্যোক্তা মো: মাহফুজ আলম। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে ৩ বছর আগে প্রথমবার তিনি নিজের জমিতে কিছু করার পরিকল্পনা হিসেবে তরমুজ,পিঁয়াজ ও মিস্টি কুমড়ার চাষ করেন। তবে অন্য ফসলে লাভের মুখ দেখলেও তরমুজে খুব একটা লাভবান হতে পারেন নি। এবছর তিনি ১৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ১২ বিঘা বেগুন ও ২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেন। ইতিমধ্যে তিনি বেগুন চাষে সফলতা লাভ করেছেন। এছাড়াও তিনি এবছর ৬ বিঘা জমিতে পিয়াজ ও শসা চাষ করে লাভবান হয়েছেন।
প্রথাগত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে নতুন নতুন ফসল চাষ করে তিনি সফল চাষিদের অন্যতম রোল মডেল। তার এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেক বেকার যুবক এখন কৃষিমুখী হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এবার মাকলাহাটে অন্যান্য ফসল ছাড়াও ১০১ বিঘা জমিতে বেগুন,৮ বিঘা জমিতে তরমুজ,৩ বিঘা জমিতে পেপে চাষ করেছে তরুন উদ্যোক্তরা। তার মধ্যে মাকলাহাটের ফিরোজ আলম,নাসিম,শামীম,আইনুল ইসলাম,শহিদুল,শামীম,ফারুক অন্যতম।
প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে অসময়ে (অফ-সিজন) মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে তিনি এখন সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। তার এই অভিনব উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ও স্থানীয় কৃষকেরা ভিড় জমাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ সবুজ লতা-পাতায় ছেয়ে গেছে। বাঁশ ও জালের তৈরি মাচায় ঝুলছে শত শত গাঢ় সবুজ রঙের তরমুজ। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ও বৈরী আবহাওয়া থেকে রক্ষা করতে ফলগুলোকে নেটের ব্যাগ দিয়ে পরম যত্নে জড়িয়ে রাখা হয়েছে। মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং আগাছা দমনে পুরো জমিতে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক মালচিং পেপার প্রযুক্তি।
তরুণ উদ্যোক্তা মাহফুজ আলম জানান, চিরাচরিত ধান বা আলু চাষের চেয়ে কম সময়ে এবং অল্প খরচে লাভজনক কিছু করার তাগিদ থেকেই তিনি তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা পাওয়ায় ফলনও হয়েছে চমৎকার। বাজারে বর্তমানে অসময়ের এই তরমুজের ব্যাপক চাহিদা এবং ভালো দাম থাকায়, সব খরচ বাদ দিয়ে এবার মোটা অঙ্কের মুনাফা লাভের আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিয়ামতপুরের বরেন্দ্র অঞ্চলখ্যাত মাকলাহাটের মাটি ও আবহাওয়া এই ধরনের উচ্চমূল্যের ফসল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আধুনিক মালচিং ও মাচা পদ্ধতিতে চাষ করায় ফলন যেমন ভালো হয়, তেমনি রোগ-বালাইয়ের উপদ্রবও অনেক কম থাকে। তরুণদের এমন উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এলাকার বেকারত্ব দূরীকরণেও বড় ভূমিকা রাখবে।
এই তরুণ উদ্যোক্তার হাত ধরে নিয়ামতপুরের কৃষি খাতে যোগ হয়েছে নতুন এক মাত্রা। তাকে দেখে এলাকার আরও অনেক বেকার যুবক ও কৃষক এখন মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছেন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও ঋণ সুবিধা পেলে এই অঞ্চলে তরমুজ চাষ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.