স্টাফ রিপোর্টার: রাকিবুল ইসলাম
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) দিনব্যাপী এসব উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধন করা ছয়টি সড়কের উন্নয়নকাজে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। সড়কগুলো উন্নয়ন হলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি শফিকুল হক মিলন বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোহনপুরের রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে ছয়টি সড়কের কাজ উদ্বোধন করা হলো। ভবিষ্যতেও এ উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। কোনো ধরনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
এমপি মিলন বলেন, তাঁর নিজের ভাই বা আত্মীয়স্বজনও যদি দুর্নীতির অপচেষ্টা করেন, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, যারা ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি—সবাই রাষ্ট্রের সমান নাগরিক। সরকারি সুবিধা ও রাস্তাঘাট ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া মানুষের নাগরিক অধিকার, কোনো দয়া নয়।
উন্নয়নকাজের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য ঠিকাদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ভালো কাজ করলে ঠিকাদারদের পুরস্কৃত করা হবে। আর নিম্নমানের কাজ হলে ভবিষ্যতে তাদের কাজের সুযোগ দেওয়া হবে না।
এলাকার উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ইতোমধ্যে এলাকার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে উল্লেখ করে এমপি বলেন, পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণসহ টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সড়ক নয়, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধন করা সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে—চাঁদপুর চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশ থেকে মাখনপুর গুচ্ছগ্রাম হয়ে মুনসুর মেম্বারের বাসা পর্যন্ত ১ হাজার ১৯৫ মিটার সড়ক; মৌগাছী জিপিএস থেকে কৃষ্ণপুর ইউজেডআর পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মিটার; কোটালীপাড়া ইউজেডআর থেকে কোটালীপাড়া বিডব্লিউডিবি পর্যন্ত ৯৯০ মিটার; দাঁড়াপাড়া থেকে মুগাইপাড়া হাট পর্যন্ত ১ হাজার ২৭০ মিটার; বিষহারা ইউজেডআর থেকে হাটখোলা পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মিটার এবং কৃষ্ণপুর ইউজেডআর থেকে কৃষ্ণপুর পূর্বপাড়া পর্যন্ত ৪৫০ মিটার সড়ক।
এলজিইডি আরও জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ‘গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ’ কর্মসূচির আওতায় মোহনপুর উপজেলার ৯টি সড়কের মোট ৬ দশমিক ৬০৫ কিলোমিটার পুনর্বাসনে প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সড়কের কাজ এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই কর্মসূচির আওতায় মোহনপুরে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার একটি সড়ক পুনর্বাসন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত নকশা, স্পেসিফিকেশন ও প্রকৌশলগত মান বজায় রেখেই এসব কাজ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মোহনপুর উপজেলা প্রকৌশলী রকিব হাসান বলেন, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের ফলে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সহজ হবে। এতে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অনুমোদিত সড়কগুলোর কাজ ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কাজগুলো সম্পন্ন হলে চাঁদপুর, নখড়াজিঘাট, হিন্দুপাড়া, ধোরসা, চক বিরহী, বিষহারা ও কৃষ্ণপুর এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, এলজিইডির রাজশাহী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা প্রকৌশলী রকিব হাসান, উপসহকারী প্রকৌশলী রিপন আলী সরকার ও সাব্বির খন্দকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.