মো লুৎফুর রহমান রাকিব আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি।
আজ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় ও মারাত্মক মোড় এসেছে।দীর্ঘদিন ধরে চলা ইয়েমেন-সৌদি আরব উত্তেজনা প্রশমন প্রক্রিয়া বা যুদ্ধবিরতির চেষ্টা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ভেস্তে গেছে।
হুথিদের দেওয়া তথ্য মতে, আজ সকালে তেহরান থেকে একটি ইরানি যাত্রীবাহী বিমান হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হুথি নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানায়, বিমানটি কোনো সামরিক বিমান ছিল না, বরং দীর্ঘদিনের অবরোধের পর ইয়েমেনের আটকে পড়া সাধারণ নাগরিক, প্রতিনিধি দল ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে আসা একটি বেসামরিক বিমান ছিল। বিমানটি যেন কোনোভাবেই ইয়েমেনের মাটিতে নামতে না পারে, সেজন্য সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলো সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে লক্ষ্য করে তীব্র বিমান হামলা চালায়।
তবে হামলার পরপরই সৌদি-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনের অফিশিয়াল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনার দায় তারা স্বীকার করে। তারা জানায়, হুথিরা ইয়েমেনি জাতীয় বিমান সংস্থাকে সানায় নামতে বাধা দিচ্ছিল, অথচ অবৈধভাবে একটি ইরানি বিমানকে আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবতরণের সুযোগ করে দিচ্ছিল।দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হুথিরা ইরানি বিমানকে জোরপূর্বক অবতরণ করানোর চেষ্টা করছিল, তাই তারা এই রানওয়েতে স্ট্রাইক করেছে এবং সৌদি সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা দায় স্বীকার করেনি।
এই হামলার কারণে সানার রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ইরানি বিমানটি চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে দিক পরিবর্তন করে এবং লোহিত সাগর উপকূলের হুথি-নিয়ন্ত্রিত অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর—হোদেইদাহ বিমানবন্দরে গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সফলভাবে অবতরণ করে।
এই ঘটনার পর হুথিদের সামরিক মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহিয়া সারি কড়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "সৌদি আরবের এই সরাসরি আগ্রাসন সব ধরণের যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘটালো। এই হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং এর সব পরিণতির জন্য সৌদি আরবকে সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.