এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : এলডিপি'র চেয়ারম্যান ও বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ভুক্ত কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ বিএনপি'র চেয়ারম্যান ও বর্তমান দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে যে সব কথা বলে যাচ্ছেন তা ভেবে দেখার দরকার রয়েছে বলে মনে করছেন চট্টগ্রামের অনেকেই। এবং তারেক রহমান কে ঢাকার বাইরে রাত্রি যাপন করতে নিষেধ করা সহ ২০১৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার কাছ থেকে বিএনপি'র অনেক নেতা/প্রার্থী মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন বলে যে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন তা নিয়ে ও পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন- এই যেই ব্যাক্তি যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে জামায়াতে ইসলামী কে রাজাকার বলে সারা বছর তিরস্কার করে আসছিলো সেই কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে ডুকে গিয়ে যতো-ই ভালো কথা বলুন না কেনো তা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। কারন, কোনো বেঈমান-মোনাফেক কে মানুষ পছন্দ করে না। আর একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সারা বছর জামায়াতের বিরোধীতা কারী ব্যাক্তি হিসেবে বর্তমানে জামায়াতকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি নিন্দিত এবং ধিকৃত।
তবে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর একজন সহযোদ্ধা হিসেবে বিএনপি এখনো তাকে খারাপ চোখে দেখে না। আর বিএনপি' চেয়ারম্যান হিসেবে এবং বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যতোটুকু সম্মান দেয়ার দরকার যতোটুকু সম্মান তারেক রহমান কর্নেল (অব:)অলি আহমেদ কে অবশ্যই দিয়ে যাচ্ছেন এবং দিয়ে যাবেন ও । আর তিনি তারেক রহমান এর উদ্দেশ্যে যে সব কথা বলে যাচ্ছেন ইদানীং তা ও গুরুত্ব সহকারে ভাবনায় রেখে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার দরকার বলে ও মনে করছেন অনেকেই।
বিএনপি'র রাজনীতিতে থাকাবস্থায় কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ এর চট্টগ্রাম ব্যাপী যে প্রভৃতি প্রতিপত্তি ছিলো তা এখন একেবারেই নেই বললেই চলে শুধুমাত্র স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত জামায়াতে ইসলামীর নের্তৃত্বে পরিচালিত ১১ দলের জোট ভুক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে। আর বিগত সময়ে ৪ দলীয় জোট'র নের্তৃত্বে পরিচালিত বিএনপি'র সরকারের সময়ে ও তার যে একটা অবস্থান ছিলো রাজনৈতিক ময়দানে তা ও এখন আর নেই। এর বাইরে বিগত বিএনপি'র সরকারের সময়ে যোগাযোগ মন্ত্রী থাকাকালীন যে অবস্থানে ছিলেন তিনি তা ও আর ধরে রাখতে পারেননি। কর্নেল (অব:)অলি আহমেদ তার নিজের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম (দক্ষিণ) এর চন্দনাইশ- লোহাগাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রতিপক্ষ হিসেবে অত্যন্ত শক্তি অবস্থানে ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীদের সাথে তার অনুসারী নেতা কর্মীদের মধ্যে যারপরনাই দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগেই থাকতো। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং নেতা কর্মীদের শক্ত অবস্থানের কারণে জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীরা তার এলাকায় টিকতে কষ্টকর হতো।
এ ছাড়া তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রায় সব সময়-ই জামায়াতে ইসলামী কে স্বাধীনতা বিরোধী-রাজাকার আখ্যা দিয়ে চলে আসলে ও কিন্তু হঠাৎ গত নির্বাচনের পূর্বে আকস্মিক ভাবে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট'র অন্তর্ভুক্ত হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে একেবারেই শূন্যের কোঠায় চলে যান রাজনৈতিক মাঠে। তার নিজের এলাকা চন্দনাইশ-লোহাগাড়া ছাড়া ও পুরো চট্টগ্রাম ব্যাপী তিনি অধিক জনপ্রিয়তার স্থলে অধিক নিন্দিত ও ধিকৃত ব্যাক্তিতে পরিনত হয়েছেন।
এমন একজন স্বাধীনতা যুদ্ধের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব (সাবেক) এবং এমপি-মন্ত্রী শুধুমাত্র রাজনৈতিক ডিগবাজীর কারণে নিজের এলাকা চট্টগ্রাম (দক্ষিণ) এর চন্দনাইশ-লোহাগাড়া ছাড়া ও পুরো চট্টগ্রাম ব্যাপী নিন্দিত এবং ধিকৃত ব্যাক্তিতে পরিনত হয়েছেন।
শেষোতক তিনি গত কয়েক দিন যাবত বর্তমান বিএনপি সরকার এবং সরকারের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে নানাবিধ: বক্তব্য দিয়ে যেতে থাকায় রহস্যের জন্ম দিয়ে চলেছেন বলে মনে করছেন চট্টগ্রামের বিএনপি'র রাজনৈতিকাঙ্গন ছাড়া ও সর্ব মহান ও পেশার মানুষের মাঝে।
তার বক্তব্যের আলোকে পুরো বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো সহ বিএনপি'র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন বলে মনে করছেন চট্টগ্রামের বিএনপি'র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেতা-কর্মী সহ রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.