এম, এ কাশেম
তখন ছোট থাকলে ও কিন্তু, শহীদ জিয়ার সংস্পর্শ ও পেয়েছিলাম নিজের এলাকা উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে খাল কাটার সময় এবং বারইয়ারহাট বাজার সংলগ্ন কদমতলা মাদ্রাসা মাঠের এক সমাবেশে যখন এসেছিলেন তখন দলের এক পরিশ্রমী কর্মী-নের্তৃত্বে থাকার সুবাদে পাশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম।
এর পর যখন চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে একদল বিপদগামী সেনা সদস্যদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে কেঁদে ছিলাম ও।
এর ও পর দিন পেরিয়ে মাস আর মাস পেরিয়ে বছর গড়িয়ে যেতে যেতে দলের হাল ধরলেন তার-ই সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়া।
তখন রাজনীতির বাইরে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে শেষোতক দলের-ই একমাত্র পত্রিকা দৈনিক 'দিনকাল' পত্রিকার দায়িত্ব নিয়ে সাংবাদিকতা পেশায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে লাগলাম দল এবং দলীয় নেতা কর্মীদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে।
এর ফাঁকে মা' এর সমতুল্য স্থানে স্থান দেয়া বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত কাছে থাকার সুযোগ ও হয়েছিলো বিগত সৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় গিয়ে দলীয় কার্যালয়ে যখন রাত যাপন করেছিলাম তখন। যখন তিনি সৈরাচারী এরশাদ সরকারের লেলীয়ে দেয়া পুলিশ ও দলীয় পেটুয়া বাহিনীর হামলায় নিজের প্রাইভেট কার এ আক্রান্ত হয়ে এবং পায়ে টিয়ার সেল এ রক্তঝরা অবস্থায় দলীয় কার্যালয়ে এসে পৌঁছান তখন মারাত্মক আহতাবস্থায় আমি সহ আমার সাথে থাকা আরো দুই/চারজন গাড়ি থেকে নামিয়ে দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করার সুযোগ করে দিয়েছিলাম তখন। মনে পড়লে এখনো চোখের কোণে পানি জমে মমতাময়ী মা' এর সমতুল্য বেগম খালেদা জিয়ার জন্য।
এমন একজন ব্যক্তিত্ববান দলীয় প্রধান আমাদের জীবনে আর কখনো আসবেনা!
কারো অভাবে পৃথিবী আটকে থাকে না ঠিকই কিন্তু, বেগম খালেদা জিয়ার মতো গুণবতী ব্যক্তিত্বের অভাব কখনো পূরণ হওয়ার নয়!?
বেগম খালেদা জিয়ার ছবি দেখলে আজও চোখে পানি চলে আসে, হে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ রাবুল আল আমিন আপনি বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতের মেহমান বানিয়ে সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।
দলের জন্য অতীত সময়ে এমন কিছু করা একজন বিগত সময়ে আওয়ামী হায়েনাদের হাতে পর পর ৪ বার হামলার শিকার হয়ে রক্তাক্ত হয়ে শারিরীক যন্ত্রণায় এখনো কাঁত রাতে হয়/হচ্ছে। অথচ, দল এখন ক্ষমতায়। কিন্তু, পড়ে থাকতে হলো আমাকে! যারা অতীত সময়ে আমার মতো ওই রকম কিছুর ভাগিদার ও নয় তারা এখন উড়ে এসে জুড়ে বসে উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই বিএনপি'র একটা কিছু সেজে গিয়ে লাখোপতি-কোটিপতি বনে গেছে! এবং নের্তৃত্বের পদ-পদবী ভাগীয়ে নিয়ে কি যে হয়ে গেছে ভাবতে ও অবাক লাগে। অথচ, তারা আমার মতো চরম অভাবগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা একজনের খবর নেয়ার গরজ আছে বলে ও মনে করছে না!
শুধু আমি নয়, আমার মতো দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা আরো অনেক সাধারণ নেতা কর্মীরা পড়ে রয়েছে অবজ্ঞা-অবহেলা এবং বঞ্চিত হয়ে!!
লেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক: ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়ন যুবদল, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: জাসাস, নিজস্ব প্রতিনিধি: দৈনিক 'দিনকাল' মীরসরাই, চট্টগ্রাম।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.