নিজস্ব সংবাদদাতা
প্রায় ৭০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম সিলেটের হযরত শাহজাল (রহ.) মাজারের দানের ডেগ ও দানবাক্স জনসম্মুখে খুলে গণনা করল জেলা প্রশাসন।
গত ১৮ জুন সিলগালা করা তিনটি ডেগ ও নতুন স্থাপিত দানবাক্স থেকে পাঁচদিনে সংগৃহীত দান বাবদ মোট ১৭ লাখ ৬ হাজার ৬৯ টাকা পাওয়া গেছে। গত সোমবার জোহরের নামাজ শেষে বেলা প্রায় ২টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে সবার উপস্থিতিতে ডেগ ও দানবাক্স খোলা হয়। সেখান থেকে বস্তাভর্তি টাকা বের করে নির্ধারিত স্থানে গণনা করা হয়।
সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুরো কার্যক্রমের তদারকি করেন সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
স্বচ্ছতা আনতে প্রশাসনের উদ্যোগ
গত ১২ জুন শাহজাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে গিয়ে দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন ডিসি সারওয়ার আলম। এরপর মাজারের মানতের টাকা সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত তিনটি ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। স্থাপন করা হয় নতুন দানবাক্স। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব ধরনের দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা দানবাক্সে জমা হবে। দানবাক্সের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে আনসার সদস্য।
তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় মাজারের খাদেমদের একটি পক্ষ। দান ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তারা প্রচলিত ব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য দেন।
বদলি হলেন ডিসি সারওয়ার আলম
দান ব্যবস্থাপনা সংস্কার করতে গিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন ডিসি সারওয়ার আলম। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে গত রবিবার তাকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে পাথরকাণ্ডের পর তিনি সিলেটের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ উল্লেখ না থাকলেও এর পেছনে ‘মাজারকাণ্ড’ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গ: সিলেটের দুই ঐতিহাসিক মাজার শাহজাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এ প্রতিদিন হাজারো ভক্ত আসেন। দান করেন নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গবাদিপশুসহ নানা সামগ্রী। দীর্ঘদিন ধরে দানের হিসাব ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন থাকলেও এবারই প্রথম প্রশাসনিক নজরদারিতে গণনা হলো।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.