সাজ্জাদ মাহমুদ সুইট, রাজশাহী।
রাজনীতি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর এক মহান মাধ্যম। এই কথাটিই যেন প্রমাণ করে চলেছেন রাজশাহী জেলার বাঘা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান সুমন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অলিগলি, পাড়া-মহল্লায়, চায়ের দোকান সহ সাধারণ মানুষের মুখে এখন একজনেরই নাম মিজানুর রহমান সুমন। স্থানীয় যুবদল নেতা এবং আসন্ন বাঘা পৌর নির্বাচনে ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় রয়েছেন সুমন। তিনি এ পরিচয়ে পরিচিত হলেও, এলাকাবাসীর কাছে তার বড় পরিচয় তিনি একজন 'বিপদের বন্ধু' বা সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক।
ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাধারণ মানুষের জন্য এত বৈচিত্র্যময় সেবা বর্তমান সময়ে পুরো রাজশাহী জেলাতেই এক বিরল দৃষ্টান্ত। সংকটে মোটরসাইকেলের জ্বালানি জোগানো থেকে শুরু করে হাসপাতালের অসহায় রোগীর পকেটের ওষুধ। রাজনীতির চেনা ছকের বাইরে গিয়ে এমন মানবিকতার নজির সমসাময়িক কালে আর কেউ স্থাপন করতে পারেনি। মিজানুর রহমান সুমন নিজেকে শুধু একজন নেতা হিসেবে নন, বরং একজন নিঃস্বার্থ অভিভাবক হিসেবে প্রমাণ করেছেন এমনটায় দাবি স্থানীয় জনসাধারণের।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ডের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাশে দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড়ের মতো জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ছিল পথচারীদের প্রধান বিড়ম্বনা। দুর্গন্ধে নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হতো স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে। এই জনদুর্ভোগ নিরসনে মিজানুর রহমান সুমন ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেই ময়লার ভাগাড় পরিষ্কার করিয়ে এলাকাকে দুষণমুক্ত করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক আঞ্জারুল ইসলাম বলেন, আমরা ভেবেছিলাম এই ময়লা হয়তো কোনোদিন পরিষ্কার হবে না। কিন্তু সুমন কোনো পদ-পদবি ছাড়াই নিজ উদ্যোগে এটি পরিষ্কার করে আমাদের বড় একটা দুশ্চিন্তা দূর করেছেন। এমন কাজই বুঝিয়ে দেয় তিনি এলাকার জন্য কতটা নিবেদিত।
অসুস্থতায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সুমনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এলাকার অসচ্ছল মানুষ অসুস্থ হলে তিনি নীরবে-গোপনে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার খেতে নগদ অর্থ পৌঁছে দেন। এছাড়াও চিকিৎসা সেবাকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গণ্ডিতে আরও সহজ করতে সুমন এক ব্যতিক্রমী ঘোষণা দিয়েছেন। তার ওয়ার্ডের কোনো অসচ্ছল মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হলে সে রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসার যাবতীয় সরঞ্জামের ব্যয়ভার বহন করছেন তিনি। তিনি শুধু ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে কথার সাথে কাজের মিল রেখে দায়িত্ব পালন করছেন।
উপকারভোগী এক বৃদ্ধা বলেন, বাবা আমার স্বামী মারা গেছে কয়েক বছর আগে। আমার ওষুধ কেনার টাকা ছিল না। সুমন লোক মারফত আমার ঘরে কয়েক মাস থেকে নিয়মিত ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছে। সে তো শুধু কথা দেয় না, কাজও করে দেখায়। আমি মন থেকে তার জন্য দোয়া করি।
বিভিন্ন সময় যারা সরকারি চাউল সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন, তাদের তালিকা করে নিজের টাকায় চাউল কিনে দিয়েছেন তিনি। সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় যারা জনসম্মুখে আসতে ইতস্ততবোধ করেছেন, সুমন নিজে তাদের দ্বারে দ্বারে রাতের অন্ধকারে গিয়ে চাউল ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।
প্রতিবেদক কে একজন সুবিধাভোগী বলেন, গত ঈদুল ফিতরের সময় আমার গড়ে তেমন কিছুই ছিলো না ঈদ করার মতো। হঠাৎ রাতে চাচী চাচী বলে কে যেনো এসে ঢাকছে। বের হয়ে দেখি একটা ছেলে হাতে বস্তা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে আমার ঘরে ঢুকে বস্তাটা রেখে বলে সুমন ভাই পাঠিয়েছে সেই সাথে নগদ ৫০০ টাকার তিনটা নোট দিয়ে চলে যায়। পরে বস্তার মুখ খুলে দেখি চাল, চিনি, দুধ ও সেমাই তাই বলে সে শব্দ করে কান্না শুরু করে।
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের সময় যখন ঘন্টার পর ঘন্টা পাম্পের লাইনে দাড়িয়ে তেল পাচ্ছেনা বাইকচালকরা। ঠিক তখনিই সুমন নিজ এলাকার বয়স্ক , কর্মজীবী, জরুরি সেবা ও অসুস্থ রোগী পরিবহন কাজে নিয়োজিত বাইকচালকদের ঘরে ঘরে তেল পৌঁছে দেওয়ার এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন । তিনি আশেপাশের কয়েকটি উপজেলা থেকে শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাধ্যমে উচ্চ দামে তেল ( অকটেন) সংগ্রহ করে বাইকারদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করেছেন।
এ বিষয়ে এক আলাউদ্দিন সরকার নামের এক বাইকার বলেন, সাধারণত রাজনৈতিক নেতাদের ত্রাণ বলতে চাল-ডাল বিতরণ করতে দেখা যায়, কিন্তু বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট 'জ্বালানি'। এবার সুমন ভাই আমাদের অকটেন ত্রাণ হিসেবে দিয়েছে। তার এমন ভাবনা এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
যুবসমাজ কে মাদক, অনলাইন জুয়া ও মোবাইল আসক্ত থেকে দূরে রাখতে ক্রিয়া সামগ্রীও উপহার দেন মিজানুর রহমান সুমন। উপজেলার নওটিকা আরিফপুর গ্রামের এক ফুটবল খেলোয়াড় জানান, তাদের একসে যাচ্ছি ও ফুটবলের প্রয়োজন ছিল। অনেক নেতাদের কাছে আবদার করেছিলো তারা৷ কিন্তু কেউ দেয়নি। পরে ফেসবুকে মিজানুর রহমান সুমন ভাই খেলার সামগ্রী বিতরণ করতে দেখে। মেসেঞ্জারে জানাই বিষয় টা। দুই দিন পর আমরা মাঠে ফুটবল ঠেকছিলাম, হঠাৎ সুমন ভাই এসেছে হাতে জার্সি ও ফুটবল। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই কাদের জন্য। সে হাসতে হাসতে বলে আমার ভাইদের জন্য। এই নাও তোমাদের উপহার। আর আগামীতে কিছু প্রয়োজন হলে তোমাদের এই ভাই কে বলবে।
এছাড়াও পবিত্র রমজান মাসে মসজিদে মসজিদে রোজাদারদের ইফতার করানো, কিংবা কুরবানির ঈদে দরিদ্রদের মাঝে মাংস বিতরণ। সবখানেই মিশে আছে মিজানুর রহমান সুমনের নাম।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়েও মিজানুর রহমান সুমন দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি অন্যান্য বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন । বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মীর জামিন সহ তাদের ব্যক্তিগত সংকটে তিনি আর্থিক ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন।
দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, স্বৈরাচার সরকার আওয়ামী লীগের সময়ে অসংখ্য মিথ্যা মামলা মাথা নিয়ে পালিয়ে পালিয়ে থেকেছি বাড়ি ছেড়ে। সে সময় আশা করেছিলাম দলের অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী ও টাকা আলা নেতারা কিছু সহায়তা করবে বা আমাদের খোঁজ খবর নিবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো তাদের ফোন দিলে ধোরতেন না, এমনকি তারা কোন খোঁজ খবরই রাখেনি আমাদের সাথে । তবে সুমন মাঝে মধ্যেই আমাদের সহ আমাদের পরিবারকেও আর্থিক ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে। সে একজন সামান্য যুবদলের কর্মী হয়ে বড় বড় নেতার থেকে বেশি ভূমিকা নিয়েছে আমাদের বিষয়ে।
এলাকাবাসীর মতে, মিজানুর রহমান সুমন কোনো পদের আশায় নয়, বরং অন্তরের তাগিদ থেকে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। ‘সেবাই মূল লক্ষ্য’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে তিনি যেভাবে ৫ নং ওয়ার্ডের মানুষের সুখ-দুঃখে ভাগীদার হচ্ছেন, তা সমসাময়িক রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
নিজের এ সকল কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদককে মিজানুর রহমান সুমন বলেন, "আমি মনে করি রাজনীতি মানেই হচ্ছে সমাজসেবা। ৫ নং ওয়ার্ডের মানুষ আমার পরিবারের মতো। ময়লার ভাগাড় পরিষ্কার করা বা অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এগুলো আমি আমার দায়িত্ব মনে করে করি। আল্লাহ যতদিন আমাকে সামর্থ্য দিয়েছেন, আমি চাই মানুষের চোখের পানি মুছতে। কাউন্সিলর হই বা না হই, মানুষের ভালোবাসা নিয়েই আমি বেঁচে থাকতে চাই।"
অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সুমন এখন এক নির্ভরতার নাম। এলাকাবাসী মনে করছেন, ক্ষমতার বাইরে থেকেও যিনি মানুষের জন্য এত কিছু করতে পারেন, তাকে জনপ্রতিনিধি বা হিসেবে পেলে ৫ নং ওয়ার্ড একটি আদর্শ ও আধুনিক ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হবে। সব থেকে বড় বিষয় তাকে সকল সময় পাশে পাবে তারা।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.