এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর ক্যাম্পটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের উদ্বোধন করার কথা ছিলো।
তবে, গতকাল রোববার দিবাগত রাতে সলিমপুরে ঢোকার প্রধান সড়ক সহ চারটি রাস্তা কেটে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা। তারা ডাম্পট্রাক ও স্কেভেটর দিয়ে চারটি সড়ক কেটে এলাকায় প্রবেশের প্রথম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এমনকি রাত আড়াইটার দিকে আলীনগর ক্যাম্পে সন্ত্রাসীরা হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে। এসময় তারা দায়িত্বরত র্যাবের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান সত্ত্বেও জঙ্গল সলিমপুরের ক্যাম্প ভাংচুর, হামলা, গুলি এবং প্রবেশপথের চারটি সড়ক কিভাবে কেটে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা- সেটিই এখন প্রশ্ন ? রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসনিক বলয়ের মাঝেও সন্ত্রাসীদের এমন দৌরাত্ম্য সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সকাল ১১ টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে বলেন, সন্ত্রাসীদের দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্য জঙ্গলসলিমপুর। এক দিনে এখানে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তবে সরকারের ধারাবাহিক অভিযানে ছন্নছাড়া হয়ে সন্ত্রাসীরা এসব করছে। আমাদের আলীনগর স্কুলে স্থাপিত ক্যাম্পের উপর তাদের টার্গেট ছিল। কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েছে তারা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে ডাম্প ট্রাক, ট্রাক,মোটরসাইকেল জব্দসহ কয়েকজনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সন্ত্রাসীরা একটু নাড়াচাড়া দিচ্ছে। তবে কোন লাভ হবে না। জঙ্গলসলিমপুরকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এলাকায় পরিণত করতে যা যা করার সবই করা হবে। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযান করতে বেগ পেতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে অভিযান ও এলাকা নিয়ন্ত্রন করা সহজ হবে।
র্যাব–৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকে জঙ্গলসলিমপুরে অতিরিক্ত বাহিনী, সেনাবাহিনী, পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাঁড়াশি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ তার অনুসারী সকল সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান চলমান। ভৌগলিকগত অবস্থানের কারণে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে থাকছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নজরদারিতে রাখতে এখানে তারা সোর্স দিয়ে রেখেছে। তারা দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র, একে ৪৭ দিয়ে হামলা করেছে। আমাদের ক্যাম্পটিতে হামলা করে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি করে ফেলেছে। ক্যাম্পে ৫০ জনের মতো আইনশৃঙ্খলা সদস্য দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করার কাজ শুরু করতে হবে। এ কাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। যোগাযোগ উন্নত হয়ে গেলে এখানে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।
ক্যাম্পে ভাংচুর ও হামলা ঘটনা গুরুতর অপরাধ। এটা নিয়ে মামলা হবে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ অধিনায়ক।
জানা যায়, প্রথমবারের মতো গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এ অবস্থায় জঙ্গল সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে র্যাব-পুলিশের সমন্বয়ে পৃথক দুটি চৌকি বসানো হয়েছে।
৯ মার্চের যৌথ অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন; মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক, গোলাম গফুরসহ কয়েকজন ‘সন্ত্রাসী এখনো পলাতক।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.