ফারুক আহমেদ সিরাজগঞ্জ থেকে:
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার সলঙ্গা টু তাড়াশের গুরুত্বপূর্ণ সলঙ্গা সদর হতে তাড়াশ পাকার মাথা নামক ঝুরঝুরি মৃত আব্বাস আলী আকন্দের বাড়ি সংলগ্ন সলঙ্গার শেষ সিমানা, ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক রাস্তাটি সলঙ্গা অংশজুড়ে ভয়াবহ খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ান্ সড়কটির অবস্থা চরমভাবে নাজুক হয়ে পড়েছে। ফলে এটি এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা এবং বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সলঙ্গা অংশজুড়ে পুরো রাস্তাটা দিয়ে যানবাহন চলাচল একবারেই অযোগ্য পড়েছে। যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে চলন্ত ট্রাক,বাস অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন ভারসাম্য হারিয়ে প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে। ফলে চালক ও যাত্রীরা আহত হচ্ছেন নিয়মিত।
আমশড়া জোরপুকুর বাজারে কাপুরের দোকানদার হাসেন আলী জানান, আমাদের নুনিয়ার পাড়নামক স্থানে অটোরিকশা ও মাছ বোঝাই নছিমনের সাথে মাঝে মধ্যে সামনাসামনি সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আব্দুস সাত্তার জানান তার বাবা হ্যালোবাইকে করে ধান বোঝায় দিয়ে যাওয়ার সলঙ্গা হাটে যাওয়ার পথে বোনবাড়িয়া নামক স্থানে শিকার হন। একটি অটোরিকশা উল্টে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার পা ভেঙে যায়। চিকিৎসার পেছনে পরিবারকে প্রায় ৮০ থেকে প্রায় ৯০হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
আগর আপুর গ্রামের জামায়াত নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ীক মাওলানা আব্দুল খালেক বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন নাটর সিংরা,তাড়াশ, রায়গঞ্জ, সলঙ্গা ও উল্লাপাড়া উপজেলার অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু আমশড়া নুনিয়ার পাড় বাজার এলাকা নয়, সড়কের পুরা অংশেই একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও পানি জমে থাকায় সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে চালকদের জন্য সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নায়েব আলী বলেন, সড়কের বিভিন্ন অংশ খানা-খন্দে ভরে গেছে। সড়কটি সলঙ্গা থানা মোড় হতে তাড়াশের পূর্বের শেষ শিমানা মৃত্যু আব্বাসের বাড়ি সংগ লগ্ন ব্রীজ পর্যন্ত পুরো রাস্তাটা মৃত্যু ফাঁদ হিসাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম এই প্রতিনিধিকে জানান, সড়কটির বর্তমান খারাপ অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। ইতোমধ্যে ‘ সড়কটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত মেরামত কাজ জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যেই শুরু করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থা সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। এটি প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক, যা প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে মানুষের দুর্ভোগ কমে এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
প্রতিদিন কমল মতি ছাত্র/ছাত্রীরাসহ যাত্রীদেরকে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
অটোরিকশা চালক শিহাব উদ্দিন এই প্রতিনিধিকে জানান,অসংখ্য খানা,খন্দে ভরা সড়ক যেন মরন ফাঁদে পরিনত হয়ে পড়েছে, এই লক্কড় ঝক্কর সড়কে গাড়ির স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠন সাধ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট র্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.