স্টাফ রিপোর্টার :
সাংবাদিক মতিউর রহমান মতির ওপর সন্ত্রাসী হামলা, কুপিয়ে জখম ও আঙুল বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, প্রেসক্লাব ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহিদ হিরোর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে টেলিভিষন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় শাখা, রাজশাহী মহানগর শাখা, বাঘা উপজেলা শাখা, রাজশাহী অনলাইন সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক মতিউর রহমানের ওপর যে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, তা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি ও অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, “সত্য প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে এভাবে কুপিয়ে জখম ও আঙুল বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও বর্বরোচিত। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।
সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহিদ হিরো বলেন, “সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে হামলা ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের পথ কখনো রুদ্ধ করা যাবে না। সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজম অপু বলেন, “সাংবাদিক মতিউরের ওপর হামলা পুরো সাংবাদিক সমাজকে নাড়া দিয়েছে। অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুস্তাফিজ রকি বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা দেশের গণমাধ্যমের জন্য অশনিসংকেত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের অসঙ্গতি ও অপরাধ তুলে ধরেন বলেই বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের হামলার সুষ্ঠু বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
বাঘা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তন্ময় দেবনাথ বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হামলাকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক মতিউর রহমান মতির ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর জন্য চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)-কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও পেশাদারিত্বপূর্ণ পদক্ষেপে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বক্তারা সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর চলমান হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
পরে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ হয়।
সম্পাদকঃ মোঃ হায়দার আলী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ সোহেল রানা। ৩৬০, সপুরা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী হতে সম্পাদিত ও প্রকাশিত। যোগাযোগঃ মোবাইলঃ +৮৮-০১৭২৮৬৫৪৮০১, +৮৮-০১৭৯২১১৮৭৪৫ ইমেইলঃ news@amaderjonmovumi.com
Copyright © 2026 আমাদের জন্মভূমি. All rights reserved.